উপ-সম্পাদকীয়

শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ

প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত অধিকার। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে তা স্পষ্ট করা আছে। যে কোন দেশের রাষ্ট্র চলে তার সংবিধান অনুসারে আর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সেটি আরো বেশি অনুকরনীয়। আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এমন ব্যক্তি আসীন যার পিতার হাত ধরে আমরা একটি স্বাধীন ভু খন্ড পেয়েছি, পেয়েছি আমাদের বাক স্বাধীনতা। সেই পিতার ঔরসজাত সন্তানতো সব সময় এ দেশের মঙ্গল কামনা করবেন এটাই বাস্তবতা। আমাদের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তার পিতার মতোই সমুজ্জল। কি কথায়, কি কাজে সব জায়গাতেই তার পিতার মতোই কীর্তিমান। স্বাধীনতার মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যখন রাষ্ট্র ক্ষমায় আসীন হন তখন বাংলাদেশ ছিল একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ। সব জায়গাতেই তখন পাকিস্তানীদের রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন। কোন জায়গা থেকে শুরু করবেন সেই চিন্তাতেই মশগুল থাকতেন। অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সর্বাগ্রে পুনর্গঠন করতে হবে এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এবং প্রাধান্য দিতে হবে শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে। তাইতো জাতির জনক এক ঘোষণায় জাতীয়করণ করলেন ৩৭ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।

জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও পিতার রেখে যাওয়া পথ অনুসরণ করে হাঁটছেন। তাইতো পিতাকে অনুসরণ করে ২০১৩ সালে তিনি ও জাতীয়করণ করলেন ২৬ হাজার বিদ্যালয় এবং প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষককে। এবং পিতার চাইতে ও আরো দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরো প্রাথমিক শিক্ষাকেই জাতীয়করণ করে দিলেন। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি পিতার মতো তিনি ও বুঝতে পেরেছেন এ দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে “প্রাথমিক শিক্ষা” খাতে। তিনি বুঝতে পেরেছেন এ দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তাইতো এ দেশের শিক্ষার্থীরা আজ বছরের ১ম দিনেই বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীরা যেনো খাতা কলম কিনতে সমস্যায় না পড়ে তার জন্য ব্যবস্থা করেছেন মাসিক উপবৃত্তি। তিনি বুঝতে পেরেছেন বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে প্রয়োজন তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর পাঠদান। তাইতো সব বিদ্যালয়ে দিয়েছেন গঁষঃরসবফরধ সামগ্রী। কোন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেন শিক্ষা অর্জনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তাইতো তার নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে এ্যাসিসটিভ ডিভাইস( শ্রবণ যন্ত্র, হুইল চেয়ার, স্ক্র্যাচ ও চশমা)।

শিক্ষার্থীরা যেন পড়া লেখার পাশাপাশি খেলাধূলার মাধ্যমে ও শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারে তার জন্য আয়োজন করছেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ টুর্ণামেন্ট “বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট, যা আজ গিনেস বুকে স্থান করে নিয়েছে। প্রাক প্রাথমিক শিক্ষাকে চিত্তাকর্ষক করার জন্য প্রতিবছরই সরকারি বরাদ্দ থাকছে তারই নির্দেশনায়। বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়নে প্রতিবছর ৪০ হাজার টাকা ¯িøপ গ্র্যান্ট নামে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তার সরকারের কোষাগার থেকে। অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ, উন্নত সুবিধাসহ ওয়াশ বøক নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর ও ফটক নির্মাণ হচ্ছে যার ফলে সার্বিকভাবে আজ প্রাথমিক শিক্ষা এগিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে ২৬ দশমিক ১০ ভাগ। (২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী)। যার ফলে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২.৯%। জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ, অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় শিক্ষকদের ও বেতন ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রধান শিক্ষকদের পদকে ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করার মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের নেয়া এসব পদক্ষেপের ছোঁয়া লেগেছে শহর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হলো উপকুলীয় এলাকা। প্রাথমিক শিক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নেয়া পদক্ষেপে আমার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যে সুফল পেয়েছে একজন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি বলেই প্রাথমিক শিক্ষায় শেখ হাসিনার সরকারের অবদান নিয়ে দুটো কথা লেখার সাহস পেয়েছি। আমার উপজেলায় গত কয়েক বছরে ৩০ টি নতুন ভবন, ৫০টি ওয়াশ বøক, ১০টি ফটকসহ সীমানা প্রাচীর তৈরী হয়েছে। ১৫০০ বিদ্যালয়ের আওতায় বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে ৩টি বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। পৌরসভার বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৬০০০ শিক্ষার্থী এ বছর উপবৃত্তি সুবিধার আওতায় এসেছে। ১৫ টি এ্যাসিসটিভ ডিভাইস বিতরণ হয়েছে। উপজেলার ৯০ টি বিদ্যালয়ের সব ক’টিতে গঁষঃরসবফরধ সামগ্রী পৌঁছেছে। ২০১৩ সালের জাতীয়করণের সিদ্ধান্তের আওতায় ৩০টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে এবং ১৫০ জন শিক্ষকের চাকুরী সরকারি হয়েছে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা এ ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি আমার উপজেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করি।

“দুপুরের খাবার স্কুলে খাব, রোগ মুক্ত জীবন গড়ব” এবং দুপুরের পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিতে যাতে মনোযোগ না হারায় সে জন্য “মিড ডে মিল ” কর্মসূচী বেগবান করতে আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫০০০ টিফিন বক্স বিতরণ করি যার ফলে আমার উপজেলার শতভাগ বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করতে পেরেছি, সৎ নাগরিক গঠনে আমরা সব ক’টি বিদ্যালয়ে বিক্রেতা বিহীন দোকান ‘সততা ষ্টোর’ চালু করেছি, মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরীতে বিদ্যালয়গুলোতে মহানুভবতার দেয়াল চালু করেছি, আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫টি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর করেছি, ১০টি টিনের ঘর তৈরী করে দিয়েছি, ঊহমষরংয ওহ অপঃরড়হ (ঊওঅ)প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে ৭৭টি বিদ্যালয়ের মাঝে ঝড়ঁহফ ইড়ী বিতরণ করেছি, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করার জন্য পরিষদের পক্ষ হতে এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ হতে অনুদান প্রদান করেছি, আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতা, শিশুদের মৌসুমী প্রতিযোগিতা জাঁকজমকভাবে আয়োজনে পরিষদের পক্ষ হতে এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ হতে সহায়তা করেছি। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪লক্ষ টাকা বাৎসরিক মেধাবৃত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এবং মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে নিয়মিত সভা সেমিনার এর আয়োজন অব্যাহত রেখেছি।

এ সকল উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমাকে এবং আমার পরিষদকে সর্বোতভাবে সহায়তা করছেন উপজেলা শিক্ষা অফিস, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী এর ৩ জন দক্ষ কর্মকর্তা, বসুরহাট পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র জননেতা আবদুল কাদের মির্জা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। প্রাথমিক শিক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বিনিয়োগ এর সুফল পড়ছে দেশের সামগ্রীক অর্থনীতিতে। গউএ লক্ষ্য অর্জনের পর বাংলাদেশ এখন ঝউএ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে সামিল হয়েছে। সবশেষে বলা যায় বাঙ্গালীর অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর হাত ধরে বাংলাদেশ নামক যে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রকেই বিশ্বের মানচিত্রে ২য় বার পুনর্জন্ম ঘটানোর একমাত্র সক্ষমতা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পক্ষেই স¤ভব। তাইতো আমরা এক সুরে বলি “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ”

: মিজানুর রহমান বাদল, চেয়ারম্যান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ

 

মন্তব্য