আন্তর্জাতিক

মন্ত্রিত্ব নিয়ে মোদীর জোটে বিদ্রোহ!

ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বিপুল বিজয় পেয়েছে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি।

জানা গেছে, আগামী ৩০ মে নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার সন্ধ্যায়ই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বৈঠক করেছেন মোদী।

ভারতের ইতিহাসে মোদির আগে মাত্র দুজন টানা প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। একজন কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহরু অন্যজন ইন্দিরা গান্ধী। দীর্ঘ সময় পর ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে নরেদ্র মোদি টানা দ্বিতীয়বার শপথ নিতে যাচ্ছেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রীত্ব নেয়ার জন্য গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন  মোদী। বর্তমানে নতুন সরকার গঠন করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নরেন্দ্র মোদী। নতুন সরকারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে চলছে আলোচনা।

শুধু নিজেদের মধ্যেই নয় এ নিয়ে চলছে শরিকদের সঙ্গে বৈঠক, মন্ত্রিত্ব নিয়ে চলছে আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে কারা কারা থাকবেন তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

শনিবার বিকালে এনডিএ  শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ শরিক নেতারা সেখানেই ফের তাকে বেছে নেবেন শাসক জোটের নেতা হিসাবে৷

অন্যদিকে, দিল্লিতেই বসছে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদেরও বৈঠক৷ ইতিমধ্যে বাংলা থেকে দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন ১৮ সংসদ সদস্য৷ বিজেপি নবনির্বাচিত প্রার্থীরা মোদীকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন৷

জানা গেছে, এদিন বিকালে পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে হবে বৈঠক৷ মোদীই যে ফের এনডিএর প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী তার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেবেন শরিক নেতারা৷

এছাড়া শরিক দল থেকে কে কয়টা পূর্ণ ও রাষ্ট্রমন্ত্রী পদ পাবেন তাও এদিনের আলোচনায় উঠে আসতে পারে৷

বিজেপির শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ৮০ জনকে মন্ত্রী করা যেতে পারে। এ বার ভোটে এনডিএ মোট ৩৪০টি আসন পেয়েছে। ফলে প্রতি চার জন সাংসদ পিছু একজনকে মন্ত্রী করা যেতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত যা ঠিক রয়েছে, এখনই এতো জনকে মন্ত্রী করা হবে না। পূর্ণ মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতি মন্ত্রী এবং প্রতি মন্ত্রী মিলিয়ে ৭০ জনের মতো সাংসদকে মন্ত্রী করা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত যদি সেই ফর্মুলা থাকে, তা হলে পশ্চিমবঙ্গের তিন থেকে চার জন সাংসদকে এ বার মন্ত্রিসভায় নিতে পারেন মোদী।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভেতরের খবর জানিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা বলেছে, দলের নেতা অমিত শাহকে সংগঠনের পাশাপাশি মন্ত্রিত্বেও আনা হতে পারে। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রিসভায় রাখা নাও হতে পারে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে। আর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র ব্যাপক সাফল্যের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এ রাজ্য থেকে মন্ত্রীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা বেশি বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে সুষমা স্বরাজ এবং প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা নির্মলা সীতারামন- দুইজনের কাজেই প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট হওয়ায় এ দুই দপ্তরে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবার মন্ত্রিসভায় কতজন বাড়বে তা নিয়েও চলছে জল্পনা। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের দুর্গ আমেঠিতে জিতেছেন বিজেপি’র স্মৃতি ইরানি। তার পুরস্কার হিসেবে এবার বস্ত্রমন্ত্রণালয় থেকে তার পদোন্নতি একরকম নিশ্চিত। মন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে আরো যাদের নাম এসেছে তারা হলেন, বাবুল সুপ্রিয়, সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও জয়ন্ত রায়।

আগের বার দার্জিলিংয়ের সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া এবং আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় দু’জনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এবার অন্তত ৪ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া জানা গেছে, শরিকদের মধ্যে শিবসেনা তিনটি পূর্ণ মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন৷  বিহারে ‘মহাগঠবন্ধন’ মুখ থুবড়ে পড়েছে৷ নীতীশ কুমারের জেডিইউ ও বিজেপি ভালো ফল করেছে৷ ফলে তাদের ঝুলিতেও যেতে পারে তিনটি মন্ত্রী পদ৷ এর মধ্যে হয়তো দু’টি পূর্ণমন্ত্রী পদ পাবে জেডিইউ৷

পাসোয়ানের দলের জন্য বরাদ্দ একটি মন্ত্রিত্ব পদ৷ দেখার রামবিলাস পাসোনান নিজেই তা গ্রহণ করেন, নাকি ছেলে চিরাগকে এগিয়ে দেবেন মন্ত্রিত্বের জন্য৷

উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে আঞ্চলিক শক্তিগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে লাভ হয়েছে গেরুয়া শিবিরের৷ ফলে ছোট শরিকদের থেকেও কয়েকজনকে রাষ্ট্রমন্ত্রী করা হতে পারে৷

জানা গেছে, মন্ত্রিত্ব না পেলে এনডিএ জোটের কোনো কোনো দল বিদ্রোহ করতে পারেন। তাদের দাবি পূরণ না হলে বিদ্রোহ করার সম্ভাবনা আছে।

লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বিজেপি ৩০৩টি আসন পেয়েছে। যা এককভাবে সরকার গঠন করার মতো আসন (২৭২) থেকে অনেক বেশি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছে ৩৫১টি আসন।

অপরদিকে কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে মাত্র ৫২টি আসন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেয়েছে মাত্র ৯২টি আসন।

ভারতের ১৮তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। শপথ নেয়ার আগে তিনি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে নতুন সরকার গঠনের দাবি পেশ করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি ভবনে তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে।

এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর দেশের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি শপথ নেন। ওই বছরের ২৬ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নেন।

 

মন্তব্য