শিক্ষা

নিবন্ধন ছাড়াই চলছে অর্ধলক্ষাধিক কিন্ডারগার্টেন

আল-আমিন : কিন্ডারগার্টেন পরিচালনার জন্য নিবন্ধনের বিধান থাকলেও নিয়মের তোয়াক্কা করছে না অনিবন্ধিত স্কুলগুলো। নিবন্ধন ছাড়াই সারাদেশে চলছে অর্ধলক্ষাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল। তারা নিবন্ধন না করেই চালিয়ে যাচ্ছে স্কুলের কার্যক্রম। প্রতিনিয়ত ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে এসব স্কুল। ২০১৮ সালে সর্বশেষ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর যে শুমারি করেছিল, সে অনুযায়ী সারাদেশে কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা ২৪ হাজারের কিছু বেশি। অন্যদিকে মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ (বিকপ) বলছে, এমন স্কুল আছে প্রায় ৬৫ হাজার।
১৯৬২ সালের রেজিস্ট্রেশন অব প্রাইভেট স্কুল অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ২০১১ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা প্রণীত হয়। আইন প্রণয়নের আট বছর পার হলেও নিবন্ধনের আওতায় আসেনি কিন্ডারগার্টেনগুলো। ২০১১ সালের বিধিমালায় নিজস্ব মালিকানা বা ভাড়ায় স্কুলের জন্য নেয়া জমির পরিমাণ এলাকাভেদে ৮, ১২ ও ৩০ শতাংশ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছিল। সংশোধিত বিধিতে বলা হয়, এরচেয়ে কম জমিতে হলেও বিদ্যালয়গুলো নিবন্ধন পাবে। 
বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধনের ধাপ তিনটি। প্রথম ধাপে প্রাথমিক অনুমতির জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কাছে আবেদন করতে হয়। উপ-পরিচালক নিজে স্কুলটি ঘুরে দেখে এবং আবেদনের সঙ্গে জমা দেয়া কাগজপত্র পরীক্ষা করে অধিদপ্তরে তার মতামত পাঠান। এরপর অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত মূল্যায়ন কমিটি ওই আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক অনুমোদনের সুপারিশ করে। প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার এক বছরের মধ্যে অস্থায়ী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে আর অস্থায়ী নিবন্ধন পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হয়। পাঁচ বছর পর নিবন্ধন নবায়ন করতে হয়। একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্কুল নিবন্ধন করতে হয়। অনিবন্ধিত থাকার পেছনে এটি একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোনো কোনো স্কুলের নিবন্ধন প্রাথমিক পর্যন্ত হলেও পড়ানো হচ্ছে এসএসসি পর্যন্ত। 
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, যেখানে সেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো ইংরেজি ও বাংলা উভয় মাধ্যমের স্কুল গড়ে উঠছে। এসব অনিবন্ধিত স্কুলের পাঠ্যক্রম সম্পর্কে ওয়াকিফহাল না থাকায় তাদের ইচ্ছামতো পাঠ্যপুস্তক নির্বাচন করে। ফলে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। এসব স্কুলের পাঠ্যক্রম তদারকির জন্য আলাদা মনিটরিং বোর্ড গঠন করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

 

মন্তব্য