অর্থ-বাণিজ্য

বিমসটেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে চলতি বছরেই

বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই হতে পারে চলতি বছরেই। ভুটানে আগামী মাসে জোটের বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে চুক্তির তারিখ নির্ধারণের আশা করছেন জোটের মহাসচিব। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট অমীমাংসিত রেখে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না।
পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় ২২ বছর আগে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড মিলে গঠিত হয় বিমসটেক। জোটভুক্ত সদস্য দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ২০০৪ সালে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা সই হয়। তবে পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা বাস্তবায়নে আরো চারটি সম্পূরক চুক্তি সইয়ের কথা থাকলেও ১৪ বছরেও এর কোনো অগ্রগতি নেই।
সম্প্রতি এসব চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ গতি পেয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা কার্যকরে এরই মধ্যে শুল্ক কমানোর হার, নেতিবাচক পণ্যের তালিকা, পণ্যের উৎস ঠিক করার মানদণ্ড, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া, কাস্টমসের প্রক্রিয়া এবং সেবা ও বিনিয়োগের চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে সদস্য দেশগুলো। ভুটানে আগামী মাসে জোটের বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটি ২২তম বৈঠকে চূড়ান্ত চুক্তির দিনক্ষণ ঠিক হতে পারে বলে মনে করছেন বিমসটেক মহাসচিব। বিমসটেকের মহাসচিব শহীদুল ইসলাম বলেন, আগস্টের বৈঠকের পরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা আসতে পারে।
বিমসটেকের সদস্য দেশ হিসেবে আছে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুক্ত বাণিজ্যের জন্য যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করাসহ নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। তবে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের কারণে চুক্তি হলেও কতটা সফল হবে তা নিয়ে শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন জানান, ভারত-পাকিস্তানের কারণে যেমন অকার্যকর হয়েছে সার্ক, তেমন রোহিঙ্গা সংকটের কারণেও বিমসটেক জিম্মি হয়ে পড়বে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের কাছে। অন্যদিকে আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বিমসটেককে জোরালো ভূমিকা নেয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

মন্তব্য