রাজনীতি

রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির আবেদন


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করে ভোটে অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আবেদন জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ আবেদন জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের আবেদন, পৃথিবীর ইতিহাসে অকল্পনীয় এই ভয়াবহ ভোট চুরি ও ভোট ডাকাতির একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করুন। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন করে যারা এই অনিয়মের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ আপনার। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসাবে ভোট বঞ্চিত ভোটাররা দ্রুত আপনার সুবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বলবো- আপনাদের প্রকাশিত ফলাফল ও বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে যে, দেশে কোনো নির্বাচনই হয়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও দেশের স্বনামধন্য নাগরিক সংগঠনগুলো ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অনুসন্ধানী রির্পোট প্রকাশ করেছে। বিবিসি বলেছে-১৯৭ কেন্দ্রে শতভাগ এবং হাজারো কেন্দ্রে ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেছে-৩০০টি আসনে ৪০১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৫৮টি কেন্দ্রে, ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে ৫১৬টি কেন্দ্রে। অর্থাৎ ১৪১৮টি ভোটকেন্দ্রে ৯৬ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সুজন সিইসিসহ সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছে। আমরা মনে করি এই দাবি যথার্থ। মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০টি আসনেই ভোট জালিয়াতি ছিল নজীরবিহীন ও বিস্ময়কর।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘উন্নয়ন পেতে হলে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে। এখন যে পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে, তারপরও বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে।’ কিন্তু বাস্তবতা হলো- উন্নয়ন উন্নয়ন শুনতে শুনতে দেশের জনগণ ক্লান্ত ও মূমুর্ষ হয়ে পড়েছে। সরকারের উন্নয়ন বুলির আড়ালে লুটপাটের মহোৎসবের কাহিনী মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। উন্নয়নের কথা বলে জনগণের পকেট কেটে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের আর ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতাকারীদের পকেট ভারি করা হচ্ছে। সবাই জানে, গ্যাসে এই মুহূর্তে কোনো ভর্তুকি নেই। এই গ্যাসের মূল্য এলএনজি আমদানি করে তার ভর্তুকি দেওয়ার জন্য বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কোন অজুহাত দেখাবেন না। গ্যাসের দাম কমান। গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জনগণ ক্ষোভে ফুঁসছে। অনতিবিলম্বে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা স্থগিত করুন। অন্যথায় রাজপথে নেমে জনগণ দাবি আদায় করে নিবে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার নীলনকশা তৈরি করেছে। তাকে মিথ্যা মামলায় দেড় বছর বন্দি রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার জামিনে এখন সরাসরি বাধা দিচ্ছেন মিডনাইট নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আদালতে হস্তক্ষেপ করার পাশাপাশি বেগম জিয়ার আইনজীবীদেরও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা দেয়া হচ্ছে। এই মূহুর্তে বেগম খালেদা জিয়ার সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান রিজভী।

মন্তব্য