শিক্ষা

জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাপ

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি চার মাস বিলুপ্তির পর আগামী ২০ জুলাই ছাত্রলীগের দ্বিতীয় সম্মেলন। সম্মেলন ঘিরে ছাত্রলীগের ক্যাম্পাসে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে। গুলিস্থান,ধানমন্ডীর দলীয় অফিস,মধুর ক্যান্টিনসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বাসায় দৌড়ঝাপ বৃদ্ধি হয়েছে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের ২ হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান থাকায় ছাত্রলীগের এবারের সম্মেলনে সিন্ডিকেটের দৌড়ঝাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সিন্ডিকেট এর নেতাকর্মীরা তাদের অনুসারীদের শীর্ষ পদে আনতে লবিং তদবীর করে যাচ্ছেন। এদিকে ছাত্রলীগের শীর্ষপদের দৌড়ে ক্যাম্পাস ও পুরান ঢাকায় বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত নেতারাও এগিয়ে আছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সম্মেলন বক্তা হিসাবে বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ খান বিপু,বিশেষ অতিথি হিসাবে আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহি সদস্য এ্যাডভোকেট কাজী নজীবুল্লাহ হীরু,ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ,নজরুল ইসলাম বাবু এমপিসহ জগন্নাথ ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেম ঘটিত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলাম  ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আবার জবি ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ও ঘটনার তদন্ত চলাকালীন জবি ছাত্রলীগের দুই পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়ালে ১৯ ফেব্রুয়ারি কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আশরাফুল ইসলাম টিটনকে সম্মেলন প্রস্তুতির আহ্বায়ক করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আগামী ২০ জুলাই সম্মেলনের দিন ঠিক করে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের পদপ্রত্যাশীরাও স্থান পেয়েছেন। আছেন বিভিন্ন সময়ের বিতর্কিতরাও।

জবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম টিটন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনার বিস্ফোরক ও অস্ত্র মামলার তিন নাম্বার আসামী। জবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এফ এম শরীফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত তিনি। গত কমিটির শীর্ষ পদপ্রত্যাশী এ নেতা সহ-সভাপতি হওয়ার পর স্বেচ্ছায় পদ থেকে অব্যাহতি নেন। জবি ছাত্রলীগের  সাবেক সহ সভাপতি আলআমীন শেখ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-অ্যাপায়ন বিষয়ক সম্পাদক হারুন-অর-রশিদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তারা দুজনই ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকি নাজমুল আলমের অনুসারী। জবি ছাত্রলীগের সাবেক এ সহ সভাপতি শীর্ষ পদ বাগে আনতে আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের কাছে নিয়মিত ধরনা দিচ্ছেন। আর ছাত্রলীগ এ নেতাকে শীর্ষপদে আনতে আওয়ামীলীগের এ নেতারা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে লবিং করছেন। জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফরাজি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের অনুসারী হিসাবে পরিচিত। এ নেতার একান্ত অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল বারেকের মাধ্যমে টিএসসি ও ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এবং তার অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ইসলাম রবি সিআইডির প্রশ্ন ফাঁস তালিকার আসামী। ইব্রাহিম ফরাজি দীর্ঘদিন ধরে তার এই অনুসারীদের দ্বারা চাঁদাবাজি ও নিয়োগ বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন।

জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল ও গাজী আবু সাঈদের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাকিল। এ নেতার বিরুদ্ধে ঢাকা, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় এবং বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় ভর্তি বানিজ্য ও জালিয়াতির অভিযোগ আছে। যা এর আগে বিভিন্ন বেসরকারী টেলিভিশন ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। শাখা ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের সংঘর্ষে শাকিলের হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোহড়ার ছবিও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। জবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হোসনে মোবারক রিসাদ তরিক-রাসেল কমিটির গঠনের ১৫ দিনের মধ্যেই বিশ^বিদ্যালয় টিএসসিতে চাঁদাবাজির ও মারামারির অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হন। তরিক-রাসেল কমিটি ভাঙার পরেও টিএসসি,ফটোকপির দোকান, লেগুনা স্টান্ড থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি আপেল মাহমুদের অনুসারী জবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি জামাল হোসেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত শিকদারের অনুসারী। জামাল হোসেনকে শীর্ষপদে আনতে তারা দুজনই আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। শাখা ছাত্রলীগের উপমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভেজ আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সদ্য সাবেক জবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক শাহবাজ হোসাইন বর্ষণ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহি সদস্য ইকবাল হোসেন এমপির ভাগ্নে। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তরিক-রাসেল কমিটিতে সিন্ডিকেটের জোরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে আসীন হন তিনি। এ নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হলেও এখনও দ্বিতীয় বর্ষের গন্ডি পার করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে সাত বছরের মধ্যে তকোত্তর শেষ করার নিয়ম থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ সুবিধায় তার ছাত্রত্ব টিকে আছে। ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির ১ নং সদস্য শেখ মেহেদী হাসান। রাজনীতিতে অসক্রিয় ও পূর্বে ছাত্রলীগের কোন পদ না থাকলেও মাদারীপুরের এ নেতা শীর্ষপদের দৌড়ে সিন্ডিকেটের জোরে এগিয়ে আছেন। রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় না থাকলেও ছাত্রলীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে আলোচিত ও নতুন মুখ আদম শফিউল্লাহ। ছাত্রলীগ এ নেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের ঘনিষ্ঠ ছাত্রলীগ নেতাদের ম্যানেজ করেছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর ঘনিষ্ঠ পরিচিত জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আখতার হোসাইন ও আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক সহ সম্পাদক ইনজামামুল ইসলাম নিলয়  শীর্ষপদের

মন্তব্য