তথ্য-প্রযুক্তি

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 297,083 182,875 3,983
বিশ্ব 23,728,063 16,193,743 814,657

মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার কতটা নিরাপদ?


মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে অনেকেই কানে লাগিয়ে কথা বলেন, গেম খেলেন কিংবা ইন্টারনেট ব্রাউজ করেন। কিন্তু চার্জ দেওয়ার সময়ে ফোন ব্যবহার করাটা কি আদৌ নিরাপদ?

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, ভাল ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন আর ওই একই কোম্পানির চার্জার ব্যবহার করলে বিপদের সম্ভাবনা অনেকটাই কম।

অনেক ঘটনার কথাই জানা যায়, যেখানে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে কারও মৃত্যু হয়েছে অথবা কারও শরীরের কোনও অংশ ঝলসে গেছে।

গত সপ্তাহে এরকমই এক ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর শহরে। রিয়া ব্যানার্জী নামে ২২ বছরের এক তরুণী মোবাইলে চার্জ দেওয়ার সময়ই কথা বলছিলেন। হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

দমকল বাহিনী বলছে, ওই তরুণী যে বিছানায় বসে কথা বলছিলেন মোবাইল ফোন চার্জে দিয়েই, সেই বিছানাও কিছুটা পুড়ে গেছে। ঘর থেকে ফেটে যাওয়া মোবাইল, চার্জার এসব উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার পরেই ব্যানার্জীর বাড়িতে গিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিত দাস।

তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হঠাৎই বিস্ফোরণের শব্দ পাই। মেয়েটি চিৎকারও করছিল। ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়েটি অনেকটা পুড়ে গেছে। বিছানাতেও আগুন লেগে গিয়েছিল। মোবাইলেই যে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। পাশেই চার্জারের কেবলও পড়ে ছিল।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, আমরা যখন ফেটে যাওয়া মোবাইলটার ছবি তুলছিলাম, তখনই খেয়াল করি যে ওটা কোন নামী ব্র্যান্ডের সেট ছিল না। স্ক্রিনটাও ফেটে গিয়েছিল। মোবাইলের সঙ্গেই একটা লাল রঙের চার্জিং কেবল যুক্ত ছিল। সেই তারের আবার দুটো জায়গায় লিউকোপ্লাস্ট জড়ানো।

সন্দেহ করা হচ্ছে, চার্জ দেওয়ার সময়ে কোনও ভাবে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট হয়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে। আর যেহেতু সেই সময়ে ব্যানার্জী মোবাইলে কথা বলছিলেন, তাই সেটি ছিল কানের সঙ্গে লাগানো। তাতেই বিস্ফোরণের আঘাত অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

ব্যানার্জীর ঘটনাই প্রথম নয়। ২০০৪ আর ২০০৫ সালে এরকম দুটি ঘটনার কথা জানা যাচ্ছে, যেখানে ফোনে চার্জ দেওয়ার সময়ে বিদ্যুতায়িত হন এক ভারতীয় এবং এক নাইজেরীয় নাগরিক। ২০১৩ সালে এক চীনা বিমানসেবিকা যখন তার ফোনে চার্জ দেওয়ার সময়ে একটি কল রিসিভ করেন, সেটি ফেটে গিয়ে তার মৃত্যু হয়।

চীনে ২০১৩ সালে ওয়াং কাই নামের এক যুবক জানান, তিনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন তার ফোন বিস্ফোরিত হয়ে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় তার বিছানার কিছু অংশও পুড়ে যায়। এসময় ফোনটি চার্জে দেওয়া ছিল না বলেও তিনি জানান। স্থানীয় পুলিশ বলেছিল, ফোনটির ত্রুটির কারণে এরকম হয়ে থাকতে পারে।

ইউ এস কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন বলছে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি আর চার্জারের কারণে ২,০০০ দুর্ঘটনা তারা নথিবদ্ধ করেছে।

এর মধ্যে যেমন রয়েছে আগুন লেগে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া, গলে যাওয়ার ঘটনা, তেমনই আছে ফোন থেকে ধোঁয়া বের হওয়া আর বিস্ফোরণের ঘটনাও।

প্রযুক্তিবিদদের ব্যাখ্যা, মোবাইল ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতেই পারে। কিন্তু তাপমাত্রা খুব বেড়ে যাওয়ার আগেই মোবাইলে এমন কয়েকটি সুরক্ষা কবচ থাকে, যা চূড়ান্ত তাপমাত্রায় পৌঁছতেই দেয় না।

মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারী কোম্পানির একজন সিনিয়র প্রযুক্তিবিদ, যিনি তার নাম প্রকাশ করতে চাননি, লেন, যে সুরক্ষা কবচ আমাদের মতো কোম্পানির মোবাইলে থাকে, তাতে বিস্ফোরণ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে চার্জ হওয়ার সময়ে মোবাইল কিছুটা গরম হয়েই থাকে। তবে সেটা থেকে বিপদের সম্ভাবনা থাকে না বড় ব্র্যান্ডের ফোনে। কিন্তু সস্তা ও অনামী যেসব ব্র্যান্ড আছে, তারা হয়তো এরকম সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখে না। আবার যে কোম্পানির ফোন, তাদের সরবরাহ করা চার্জার ব্যবহার না করে সস্তার কোনও চার্জার ব্যবহার করলেও, এরকম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য