বিশেষ খবর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 168645 78102 2151
বিশ্ব 11,763,959 6,758,048 541,228

ডেঙ্গু বাহক

হুমকি হয়ে উঠতে পারে ঈদের ছুটি

ঢাকার আজিমপুর এলাকার ইরাকি মাঠের পাশে হুমায়রা জান্নাতের বাসা। প্রতি ঈদের মতো এবারের ঈদেও বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আগের ঈদগুলোতে ভয় না থাকলেও এবারের ঈদে ভয়ে আছেন তিনি। দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার পর বাসায় কোথায় জমা পানিতে জন্ম নিতে পারে এডিস মশা। সে ভয় থেকে বাসার সবকিছু পরিস্কার করে যাচ্ছেন তিনি। 
অপরদিকে অল্পকিছুদিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মিরপুরের বাসিন্দা শাহজাদ কামাল। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। তিনিও এবারে পরিবারের সাথে ঈদ করতে যাবেন নিজ এলাকায়। কিন্তু ভয়ে আছেন তার থেকে ডেঙ্গু ছড়াবে কিনা। তিনি জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাধারণ মশা কামড় দেওয়ার পর সে মশা সুস্থ্য মানুষকে কামড় দিলেও তিনিও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এক্ষেত্রে এলাকায় ডেঙ্গু ছড়ানোর একটা আশঙ্কা কাজ করছে। তাই বাড়ি যাওয়ার জন্য মন সায় দিচ্ছেনা।  
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা ছেড়ে ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় বাসায় থাকবেন। কিন্তু যে সময়টা এসব মানুষ তাদের ঢাকার বাসায় থাকবেন না, সেই সময়টাতে এডিস মশার জন্ম, বিকাশের একটা বড় আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তি ডেঙ্গুর ভাইরাস বহন করে। যার ফলে সাধারণ মশা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর ওই মশা কোন সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে সুস্থ্য ব্যক্তিও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে। তারা বলছেন, ২৭ হাজারেরও অধিক লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এদের অধিকাংশ এখনো পরিপূর্ণভাবে সুস্থ্য হয়ে ওঠেনি। এরাও গ্রামের বাড়িতে যাবে। ফলে গ্রামে ডেঙ্গু ছড়ানোর আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা। 
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সী সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ২,০৬৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবেই ২৭,৪৩৭ জন এবং এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। কিন্তু গণমাধ্যমের হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে আর আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবের কয়েকগুণ বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদফতর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও দিন দিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এমনকি হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু টেস্ট কিট সংকট এবং তা মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ বলছে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টেস্ট না করার জন্য। 
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মেহেরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ঢাকা থেকে বাইরে যাওয়ার আগে দুইটি দিক লক্ষ্য রাখতে হবে। একটি স্বাস্থ্যগত দিক অন্যটি ফেলে যাওয়া বাড়িঘর এবং জিনিসপত্র। যদি কারো জ্বর থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির ঢাকার বাইরে ভ্রমণ করা উচিত হবে না।
‘আবার এমন হতে পারে মশা কামড়েছে , ইনফেকশনটা তার শরীরের মধ্যে ছিল কিন্তু সেই মুহূর্তে জ্বরটা প্রকাশিত হয়নি। পরবর্তীতে বাড়িতে যাওয়ার পরে জ্বরটা প্রকাশিত হল। সেক্ষেত্রে তিনি যেন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং পরীক্ষা করান যে তার জ্বরটা ডেঙ্গু জ্বর কি-না। যদি ডেঙ্গু জ্বর হয় তাহলে তাকে সবসময় মশারীর মধ্যে থাকতে হবে । এতে সেখানে যদি এডিস মশা থাকে তাহলে ঐ রোগীকে কামড়িয়ে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে অন্যদের কামড়াতে না পারে। কারণ যদি ঐ মশা অন্যদের কামড়ায় তাহলে তারা ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হতে পারেন। মেহেরজাদী জানান, এটা এখন একটা বড় বিষয় যেটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন যাতে করে ঈদ করতে যেয়ে এক জনের দ্বারা অন্যজন সংক্রমিত না হন।
বাড়িঘরে সতর্কতা
এবারের ঈদের ছুটি সব মিলিয়ে নয় দিনের মত। একটি মশার ডিম থেকে পূর্নাঙ্গ মশা হতে সাত দিন সময় লাগে। সেক্ষেত্রে এ সময়ের মধ্যে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অধ্যাপক মেহেরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বাসা বাড়ীতে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে সে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বাসা বা বাসার আশেপাশে পানি জমে থাকতে পারে, এমন কোন জিনিস আছে কিনা সেটা দেখুন। থাকলে অবশ্যই সেগুলো সরিয়ে ফেলুন; কোথাও পানি জমে থাকলে বাসা ছাড়ার আগে যেন তিনি জমানো পানি ফেলে দিন; পানি জমাট বাধতে পারে এমন কোন কৌটা, টায়ার, এসি এবং ফ্রিজের নীচে পানি জমতে পারে এমন কোন ব্যবস্থা থাকলে তা অপসারণ করুন; খোলা স্থানে কোন পাত্র ফেলে যাবেন না। এখনো যেহেতু বৃষ্টি হচ্ছে তাই সেসব পাত্রে পানি জমতে পাওে; বাড়ির বাথরুমে কমোড বা প্যান আছে সেখানে কিছুটা পানি জমে থাকে। সেই জায়গাগুলো ঢেকে রাখতে হবে, যাতে মশা সেখানে প্রবেশ না করতে পাওে; ছাদে পানির ট্যাংক ভর্তি হয়ে গিয়ে পানি যাতে ছাদে জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। সেই পানি বের হয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে হবে; বাড়ির আঙ্গিনায় যদি কোন গর্ত থাকে, সেগুলো বুজিয়ে দিতে হবে ; যদি এমন হয় কোন স্থানে পানি জমবে এবং সেটা বন্ধ করার উপায় নেই, তাহলে জায়গা ঢেকে রাখতে হবে। এতে পানি জমলেও মশা ওখানে ঢুকে ডিম পাড়তে পারবে না। তবে আমাদের অনেকের বাসায় পানির বিশুদ্ধকরণের জন্য ফিল্টার রয়েছে। এই ফিল্টারের পানি যেহেতু ডাকা রয়েছে তাই এটা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক মেহেরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

 

মন্তব্য