রাজনীতি

ঈদের আগেই খালেদার মুক্তি চায় বিএনপি


ঈদুল আজহার পূর্বেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছে বিএনপি। শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল যে, ঈদুল আজহার আগেই খালেদা জিয়া কারামুক্ত হবেন। কিন্তু মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে দেশবাসী এবং বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। খালেদা জিয়াকে ঈদুল আজহার পূর্বেই মুক্তি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ। বারবার ইনস্যুলিন পরিবর্তন এবং ইনস্যুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করার পরেও কোন অবস্থাতেই তার সুগার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কোন কোন সময় এটি ২৩ মিলিমোল পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে খাবারের পরিমান অনেক কমিয়ে দেয়াতে শরীরের ওজন অনেকখানি হ্রাস পেয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে আমরা বারবার দাবি করা সত্বেও দেশনেত্রীকে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বিশিষ্ট দেশের কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। ব্যথার কারণে রাত্রে তার ঘুম হচ্ছে না এবং সারাক্ষণ তিনি অস্থির থাকছেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশবাসী খালেদা জিয়ার জীবনের পরিণতি নিয়ে এখনও অজানা আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। সরকার বেগম জিয়ার জীবন নিয়ে গভীর মাস্টারপ্ল্যানে ব্যস্ত। এই মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে-গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তুপের ওপর জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অন্যের কাছে বিকিয়ে দেয়া।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন-বেগম জিয়ার আইনজীবীরা যখন আদালতে শুনানি করেন তখন তারা বলেছেন-সরকারের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা দেয়া হবে না। আদালত প্রতি উত্তরে বলেছেন-‘শেখ হাসিনার কথা আর ওবায়দুল কাদেরের কথা এক নয়, ওবায়দুল কাদেরের কথা রাস্তার কথা।’ এতে পরিস্কার প্রমানিত যে, শেখ হাসিনাই কারাগারে বেগম জিয়াকে আটকিয়ে রেখেছেন। শেখ হাসিনার নির্দেশ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার জামিনও মিলবে না।’

বিএনপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন-‘দেশ উন্নত হচ্ছে বলেই ডেঙ্গু হচ্ছে, যে দেশ যতবেশি উন্নত হচ্ছে সেদেশে ততবেশি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু এলিট শ্রেণির মশা।’ মন্ত্রীর এহেন বক্তব্যগুলো শুনে এগুলোকে ‘টক অব দি সেঞ্চুরি’ বলবো নাকি ‘শক অব দি সেঞ্চুরি’ বলবো, এ নিয়ে দ্বিধায় আছি।’

মন্তব্য