জাতীয়

বায়ুমন্ডলে কার্বণ নিঃসরণের মাত্রা কমাও

 

জলবায়ুর বিপর্যয়ের ক্ষতিকর প্রভাব এখন শুধু কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাত্রারিক্ত কার্বণ নিঃসরণের ফলে পৃথিবীর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। দায়িত্বশীলদের উচ্চ কার্বন নিঃসরনকারী দেশগুলোর বায়ুমন্ডলে কার্বণ নিঃসরণের মাত্রা কমানোর ব্যর্থতার প্রতিবাদে আজ ২২ আগসট ২০১৯  বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক এর উদ্যোগে ধানমন্ডি আবাহনী খেলার মাঠের সামনে ঢাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়ের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচী আয়োজন করা হয়।

অবস্থান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণকারী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীব্যক্তিরা বলেন পৃথিবীব্যাপি জলবায়ুর বিপর্যয়ে আমরা সংকিত। কথিত উন্নয়নের নেশায় বিশ^ নেতৃবৃন্দ আজ অন্ধ হয়ে গেছে। পৃথিবী জুড়ে জলবায়ুর বিপর্যয় রুখতে বায়ুমন্ডলে কার্বণের নির্গমনের মাত্রা কমানো দরকার হলেও, বিগত কয়েক বছরের বায়ুমন্ডলে আশানুরূপ কার্বণেরমাত্রা কমাতে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বার বার। ফলে পৃথিবী জুড়ে জলবায়ু বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এ বিপর্যয় রুখতে বায়ুমন্ডলে কার্বণ নিঃসরনের মাত্রা কমাতে বিশ^নেতৃবৃন্দের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইয়থ ক্ল্যাইমেট নেটওয়াক এর উপদেষ্টা দেবরা ইফরইমসন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী নাজমুল সাকিব, উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষার্খী নুরনাহার তনিমা।

গাউস পিয়ারি বলেন, জলবায়ু বিপর্যয়ের বিষয়টি আমরা এখন আর অবহেলা করতে পারি না। গুটিকয়েক উন্নত দেশেগুলোর মাত্রারিক্ত কার্বণ নিঃসরনের দায় সারা পৃথিবীর প্রাণ-প্রকৃতিকে হুমকির মধ্য ফেলছে। উন্নত বিশে^র কাছে শুধুই ক্ষতিপূরণ নয় এখন আমাদের দাবী একটাই বায়ুমন্ডে কার্বণ নিঃসরনের মাত্রা কমাও। বিশ^ নেতৃবৃন্দকে জলবায়ুর বিপর্যয় স্বীকার করে, এখনই জলবায়ু বিপর্যয় জনিত জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে হবে। ।  

দেবরা ইফরইমসন  বলেন, প্রতি বছর পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। জলবায়ু দূর্যোগ একটি বৈশ্বিক বিষয় হলেও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি আমরাই (বাংলাদেশ)। পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ফলে বাংলাদেশের অনেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাবে। এ অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ ভাবে বায়ুমন্ডলে কার্বণ নিঃসরণের মাত্রা কমাতে বিশ্বনেতৃত্বের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

নাজমুল সাকিব বলেন, জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষতি অর্থ দিয়ে সমাধান করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন কার্বন নিঃসরনের হার কমানো। আমরা চাই যে সকল দেশগুলো অধিক কার্বন নিঃসরন করছে, তারা এর ব্যবহার কমিয়ে নিয়ে আসবে।  নুরনাহার তনিমা  বলেন, আমরা এখনই যদি মাত্রারিক্ত কার্বন নিঃসরনকারী দেশগুলোকে তাদের কার্বণে মাত্রা কমাতে বাধ্য না করি তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী রেখে যেতে পারব না।  

ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ, এশিয়ান ইউনিভাসিটি ফর উইমেনের শিক্ষার্থীরা, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাষ্ট,  দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি উন্নয়ন সংস্থা, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও পুনবার্সন উন্নয়ন সংস্থা, বায়োস্কোপ, স্টপ ইমিশন্স নাও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীব্যক্তিরা এই অবস্থান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন  ।

 

 

মন্তব্য