জাতীয়

ডেঙ্গুতে নিহত দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

 

এবারে ডেঙ্গুর মাত্রা আমাদেরকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কেউই আগে অনুমান করতে পারেনি। অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সফলতা বিফলতার কথা না ভেবে আমরা বলতে চাই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যেই সব জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছে। ঈদ পরবর্তীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতি না হয়ে বরং অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে যাওয়ার যে আশংকা ছিল তাও ঘটেনি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে মারা যাওয়া অস্বচ্ছল পরিবারের কেউ চাইলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদেরকে সহায়তা করা হবে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। তবে সরকারের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা খুব কঠিন কাজ নয়।

আজ ২৩ আগস্ট শুক্রবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় সমান নাম্বার পাওয়ায় অংশগ্রহণকারী ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি উভয় দলকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়।

এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, এমপি আরও বলেন,  ‘ডেঙ্গু আজ শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি এখন বৈশি^ক সমস্যা। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ম্যালাথিয়ন ছাড়াও এখন আমরা আরও কার্যকর ওষুধ খুঁজছি। শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই  হবে না তা যেনো কোনোভাবেই জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায় আমরা সে বিষয়টিও ভাবছি। এডিস মশা নিযন্ত্রণে শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হচ্ছে না, সরকারি অফিসগুলোও যাতে সঠিক দায়িত্ব পালন করে ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমরা সফল না এ কথা সঠিক নয়।’
 
 সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হিসেবের গড়মিল জনমনে প্রশ্ন উঠেছে আসলে কতজন মানুষ মারা গেছে। অস্বচ্ছল পরিবারের যে সকল মানুষ ডেঙ্গুতে মারা গেছে তাদের জন্য সরকারের উচিত নগদ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা। আমরা বারবার দেখেছি বাসা বাড়ি বা বেসরকারি স্থাপনায় ডেঙ্গুর উৎপতিস্থল সনাক্ত হওয়ায় জেল-জরিমানা করতে। জুলাই থেকে আজকের দিন পর্যন্ত বেসরকারি ভবন মালিকদের ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও সরকারি স্থাপনার ডেঙ্গুর উৎপতি স্থল চিহ্নিত হওয়ার পরও  উল্লেখযোগ্য কোনো শাস্তি বা জরিমানা করতে দেখা যায়নি। সরকারি হাসপাতাল-অফিস, বিআরটিসি বাস ডিপো, সরকারি বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গা ও গ্যারেজে এডিস মশার লার্ভা থাকতে দেখা যাচ্ছে। মশার ঔষধ কেনা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা কারো কাছেই প্রত্যাশিত ছিল না। খোদ হাইকোর্ট অসন্তষ্টি প্রকাশ করেছে। সরকারকে এ বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে।   

কিরণ আরও বলেন, সরকারের একার পক্ষে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায়  প্রতিটি বাসায়  গিয়ে ফুলের টব, একুরিয়াম, ফ্রীজ বা এয়ারকন্ডিশনের জমে থাকা পানি পরিস্কার করা সম্ভব নয়। নিজের বাসা বাড়ি ও আশেপাশের অপরিচ্ছন্ন জায়গা পরিস্কার রাখা প্রত্যেকটি নাগরিকের নিজস্ব দায়িত্ব। এটি নাগরিক সচেতনতারই একটি অংশ। তাই ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন- সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক জান্নাতুল বাকেয়া কেকা, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান রাহী, সাংবাদিক আতাউর রহমান কাবুল, ফ্রীল্যান্স সাংবাদিক জাহিদ রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

 

 

মন্তব্য