আন্তর্জাতিক

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
CTG News

পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত বরিসের, সঙ্কটের মুখে ব্রিটেন

 


আগামী ৩১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিলো ব্রিটেনের। কিন্তু তার আগেই বুধবার প্রধানমন্ত্রী বারিস জনসনের পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ পাওয়ার পর এক বিরল সঙ্কটের দিকে এগিয়ে চলেছে যুক্তরাজ্য। বুধবার তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে বহু মানুষ।এ নিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের অভিযোগ, ব্রেক্সিট সঙ্কট থেকে সাময়িক নিষ্কৃতি পেতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকার।

প্রথা ভেঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্টের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজ়াবেথের পরামর্শ চেয়েছিলেন। রানি তাকে অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বরিস জনসনের এই সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে চরম ক্ষিপ্ত হয়েছে ব্রিটেনের প্রায় সবগুলো বিরোধীদল। তারা মনে করছে, কোন চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে আনার যে পরিকল্প প্রধানমন্ত্রী জনসন করছেন, বিরোধীদের হস্তক্ষেপে তা যেন সংসদ আটকে না যায়, তার জন্যই তিনি সংসদের অধিবেশন স্থগিত করার বিরল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বরিস ব্রিটেনের গণতন্ত্রকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছেন। পার্লামেন্ট স্পিকার জন বারকো বলেছেন, তার এই পদক্ষেপ সংবিধান লঙ্ঘনের সামিল হবে।

সবচেয়ে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে বিরোধীদল এসএনপি নেত্রী ও স্কটল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নিকোলা স্টারজনের কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটা স্বৈরশাসকের মত আচরণ করছেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরো বলেন, পার্লামেন্টের এমপিরা যদি প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে আটকাতে না পারেন, তাহলে ব্রিটেনের সংসদীয় গণতন্ত্রের মৃত্যু হবে।

তবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ব্রেক্সিটের সাথে পার্লামেন্ট স্থগিত করার কোনো সম্পর্ক নেই। সরকারের সংসদীয় কার্যক্রমের স্বার্থে ও জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়ন শুরুর জন্য তিনি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান না।

তিনি আরো বলেন, তার সরকার একটি নতুন সরকার। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য তাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলোর জন্য প্রয়োজন নতুন আইন। ফলে রানির ভাষণের আয়োজন করা হয়েছে ১৪ অক্টোবর। আর এ কারণেই কয়েক সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ব্রেক্সিটের কোনো সম্পর্ক নেই।

কিন্তু বিরোধীরা তার এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি দল।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে এই ধরনের সঙ্কট দেখা যায়নি। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধীদের তেমন কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে হয়। কেননা প্রধানমন্ত্রী যা করছেন, আইন মেনেই করছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জোর দিয়ে বলেছেন, অক্টোবরের ৩১ তারিখেই ব্রেক্সিট হচ্ছে। ‘চুক্তি হোক বা না হোক, এই সময়সীমা থেকে কোনোভাবেই পিছু হটবে না ব্রিটেন।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য