জাতীয়

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 529,687 474,472 7,950
বিশ্ব 97,353,873 69,912,563 2,084,498

বঙ্গবন্ধু এর ৪৪ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা

 

কৃষি মন্ত্রী ড.মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও একাত্তরের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী, প্রতিক্রিয়াশীল দেশী ও বিদেশী চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। ৭১ এর পরাজিত শক্তি দেশকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের আদলে পরিচালনা করার জন্য  ১৫  আগস্টের নিকৃষ্ট হত্যাকান্ড ঘটায়। এটা কোন সাধারণ হত্যাকান্ড নয়,সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড। পরে অন্যতম সহযোগী জাতীয় চার নেতাকেও ০৩ নভেম্বর জেলখানায় নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে ঘাতকরা। ৭৫ এর হত্যাকান্ডের পর্দার আড়ালে নেপথ্যে যারা ছিল সময় এসেছে তাদের মুখশ উন্মোচন করে বিচারের সম্মুক্ষিণ করা ।

খামারবাড়ীর আ.ক.মু গিয়াসউদ্দিন মিলকি অডিটোরিয়ামে বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদ আয়োজিত স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে নি:শেষ করে একটি ধর্ম ভিত্তিক রাস্ট্র বির্নিমানের জন্য তাকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যা করে যখন ঘাতকরা বুঝতে পাড়লো তার চেতনা, তার আদর্শর মৃত্যু নেই।  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হমলা চালিয়ে শেখ হাসিনাসহ  আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য, নেত্রীকে এ প্রর্যন্ত ২২বার হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন,  ৭ মার্চের ভাষনের শেষ দুটি লাইন আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর দুরদর্শিতা, প্রজ্ঞা মানুষের কথা বলার অধিকারের জন্য তিনি বলেছিলেন মুক্তির সংগ্রাম। মুক্তির সংগ্রামের জন্য সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশ স্বাধীন করেছে। তখনতো বলা হয়নি মোসলমানরা স্বাধীনতার যুদ্ধে যাবে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ,ইসলামী প্রজাতন্ত্র না। তিনি ধর্ম নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর হত্যার আগে ও পরে  হত্যাকারী কর্ণেল ফারুক-রশিদ গং পরিকল্পনা নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি বলেন তোমরা কর, আমি সিনিয়র অফিসার হিসেবে সামনা সামনি থাকতে পারিনা। আবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর সেনাবাহিনী অফিসাররা জিয়ার কাছে গেলে তিনি তাদের বলেন, ‘সো হোয়াট! ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। সেনাবাহীনির একটি অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে সেনাদের যে কোন হত্যার পরিকল্পনা যখন কেউ অবগত হন সেটি দ্রুত রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা। সেটি জিয়া করেননি। এমনকি যারা এ অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এতেই প্রমাণিত হয় জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের কুশীলব। জিয়ার পরবর্তী কর্মকান্ডের মাধ্যমে আরো প্রমাণ করেছেন যে, তিনিই এই হত্যাকান্ডের প্রধান কুশীলব। তিনি খুনীদেরকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন তাদের পুরস্কৃত করেছেন, ভালো চাকরি দিয়েছেন, বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ইন্ডিমেনিটি অধ্যাদেশ সংসদে পাশ করিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছেন।


বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক বই রয়েছে যা পড়লে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস জানা যায়, জানা যায় ইতিহাস বিকৃতির নোংরা উৎসবের কথা। উপস্থিত কর্মকর্তাদেও উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ভিক্ষুকের দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন করেছেন এর জন্য আমরা গর্বিত,গর্বিত এদেশের মেহনতি কৃষক ভাইদের জন্য। “আগামী আমন ও বোরোতে সত্যিকারে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করবো। আমলাতন্ত্র,রাজনৈতিক প্রভাব দুর্নীতি আমাদের এ কাজকে রুখতে পারবেনা”,মন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের এই শপথ বাক্য পাঠ করান । খাদ্য উৎপাদন করে জাতীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন এবার কৃষকদের লাভবান করে আবারও জাতীর মূখ উজ্জ্বল করাবেন এ আমার বিশস,বল্লেন তিনি।

 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য করেন রাশেদ খান,সংগঠনের সহ-সভাপতি,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোজাম্মেল হোসেন মহাসচিব বিসিএস(কৃষি) পরিষদ, খায়রুল আলম প্রিন্স,মহাসচিব কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন। কৃষিবিদ সাইদুর রহমান সেলিম,সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক- ড.মো.আবদুল ম্্ুঈদ। সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী,সংগঠনের সভাপতি।  

 

মন্তব্য