জাতীয়

আমাজান থেকে সুন্দরবন, পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার হোন” দাবীতে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশ কর্মসুচি


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, এনসিসিবি ট্রাস্ট, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ-স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ডব্লিউবিবি ট্রাষ্ট, হেরিটেজ ক্রিয়েটিভ কাউন্সিল, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, সিডিপি, পুরাণ ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ, পরিবেশ রক্ষা এখনই ও  গ্রীণভয়েস এর যৌথ উদ্যোগে  আজ ৩০ আগষ্ট ২০১৯, শুক্রবার সকাল ১০.৩০ টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে, শাহবাগ, ঢাকায় “আমাজান থেকে সুন্দরবন, পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার হোন” দাবীতে এক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হক খানের সভাপতিত্বে এবং বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক ও গ্রীনভয়েসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ন কবির সুমন-এর সলনায় উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর সভাপতি অধ্যাপক এম আবু সাঈদ, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ^াস, বাপা’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মাহবুব হোসেন ও রুহীন হোসেন প্রিন্স, যশোর শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চয়োরম্যান অধ্যাপক আমিরুল আলম খান, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন-এর প্রধান নির্বাহী ইবনুল সাঈদ রানা, প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ রাফেয়া আবেদীন, পুরাণ ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ এর সভাপতি নাজিমউদ্দীন,সিডিপি’র প্রতিনিধি খোকন সিকদার প্রমূখ।

সভাপতির বক্তব্যে মহিদুল হক খান বলেন, পৃথিবীর সর্বোচ্চ ফোরামে আজ এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। জানিনা আমাজানের ভবিষ্যৎ কি? পৃথিবীতে প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে শুধু স্বার্থান্বেসী মহলের লোভের কারণে। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রমনের কারণও জলবায়ূর প্রভাব। আমাজন দেখে আমাদের দেশের সরকারের যদি শুভবুদ্ধির উদয় হয় তা হলে, আমাদের সুন্দরবন রক্ষা পাবে। আমরা আশাকরি  সুন্দরবন রক্ষায়ও সরকার কাজ করবে। সারাদেশের সকল বৃহৎ বনই অবহেলা, লুটপাট ও উন্নয়নের নামে ধ্বংসমূখী - সবগুলোকেই বাঁচাতে হবে।

অধ্যাপক এম আবু সাঈদ বলেন, বিশে^র ২০ ভাগ অক্সিজেন সরবরাহ করে আসছে আমাজান বন। আমাজানে এ বছর ৭৪ হাজার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এটা বিশ^বাসীর জন্য দূশ্চিন্তার বিষয়। আমাজানের মত সুন্দরবনের প্রতি যাদের লুলুপ দৃষ্টি তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। সুন্দরনবনকে বাঁচাতে হবে আমাদের দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মিহির বিশ^াস বলেন, আমাজনকে নিয়ে আর ছেলে খেলা নয়, আমাজন ও সুন্দরবনে বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জাতীয় সংসদে এ ব্যাপারটি উত্থাপনের জন্য দাবী জানাচ্ছি। তিনি জাতিসংঘ  পরিবেশ কর্মসূচির (ইউ এন ই পি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, অচিরেই এই বিষয়ে বিশ^বাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমাজন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৫৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটারের আমাজনে লক্ষ লক্ষ প্রজাতির  প্রাণী, উদ্ভিদ ও অনুজীব ধ্বংস হবে এবং শতশত নদী হারিয়ে যাবে যদি আগুন নিভিয়ে সংরক্ষণ করা না হয়। পৃথিবীর ২০% অক্সিজেনের যোগানদাতা এবং ২৫% কার্বন ডাই অক্সাইডের গ্রহিতা আমাজনের বিপদ এই ধরণীর তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দিবে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যারা সুন্দরবনকে বারবার ক্ষতিগ্রস্থ করছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সুন্দরবনকে রক্ষায় সরকারকে এখনি সজাগ হতে হবে, বন বিনাশী, অর্থলোভীদের প্রতিহত করতে হবে।

আমিরুল আলম খান বলেন, দখলদাররা আমাদের সারা বিশ^কে দূষিত করছে। তথাকথিত উন্নয়নরে নামে সারা পৃথিবীর বনগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এটা হচ্ছে কিছু সংখ্যক লোভী মানুষের কারণে। পৃথিবী নামক গ্রহটি রক্ষার জন্য তিনি সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

অধ্যাপক ড. আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আমাজনে হাজার হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ , ফল জন্মায়, , পাখি, , প্রজাতির মাছ এবং প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ২৫ লক্ষ পোকামাকড় রয়েছে এবং ৪০০ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে। আধুনিক ঔষধশিল্পের ২৫ শতাংশ কাঁচামাল আসে আমাজন থেকে। দক্ষিণ আমেরিকার ৭০ শতাংশ জিডিপির উৎস হচ্ছে আমাজন। আমাজন বনের পুরোটা জুড়ে রয়েছে আমাজন নদী। সমুদ্রের ২০ শতাংশ মিঠাপানির সরবরাহ করে এই আমাজন নদী। ১০ লক্ষ আদিবাসী মানুষের বসবাস এ বনে, যাদের অনেকেই এখনও সভ্যতার সাথে পরিচিত হয়নি। বাস্তবিক অর্থেই এই বন সারা পৃথিবীর এক ফুসফুস। অতএব আমাজন সকল দেশেরই রক্ষা কবচ।

রাফেয়া আবেদীন বলেন , প্রকৃতি আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু প্রকৃতির উপর আমরা প্রতিনিয়তই জুলুম করে যাচ্ছি, যার ফলশ্রুতিতে প্রকৃতি আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন দূর্যোগ দিয়ে।

আজকের সমাবেশ থেকে নিম্মোক্ত দাবীগুলো তুলে ধরা হয়:

 (০১). অবিলম্বে জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে আমাজনের অগ্নিকান্ড বন্ধ করতে হবে। (০২). আমাজনের অগ্নিকান্ডের কারণ বের করে তার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। (০৩). এ বিষয়ে দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকার ৯ টি দেশের সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। (০৪). সকল দেশের অংশগ্রহনে আমাজন রক্ষায় একটি বৈশি^ক অর্থ তহবিল তৈরী করতে হবে। (০৫). আমাজানের এই ক্ষয়ক্ষতি পুরো পৃথিবীর; আমাজানে পুনঃবনায়ন ও পৃথিবীর অনান্য স্থানে বনায়ন বৃদ্ধি করার বৈশি^ক পদক্ষেপ নিতে হবে। (০৬). ইতোমধ্যে আমাজন রক্ষায় ল্যাটিন দেশগুলোর প্রস্তাবিত বৈঠক বাস্তবায়ন করতে হবে; এ বিষয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্ট আহুত“জি সেভেন” সম্মেলনের জরুরী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে ও জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে আমাজন বন রক্ষা করতে হবে। (০৭). রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের সকল বন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। (০৮). বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা– খুলনা, বাগেরহাট, রামপাল, পটুয়াখালী, বরগুণা, কলাপাড়া, পায়রা, মহেশখালী, মাতারবাড়ী, কক্সবাজার; চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর সিলেট, মধুপুর, গাজীপুরের সকল বনের উপর সরকারী-বেসরকারী সকল অত্যাচার বন্ধ করতে হবে, বন রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।  

সভার ঘোষনায় আরো বলা হয়: “আমরা জানি, একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যে পরিমাণ অক্সিজেন প্রয়োজন, তা দুটি পূর্ণ বয়স্ক গাছই সরবরাহ করতে পারে। অতএব মানুষের জীবনে গাছপালা ও বনরাজির গুরুত্ব অপরিসীম, গাছ ও প্রাণীভরা বিশ^ই মানব জাতির বেঁচে থাকা, টিকে থাকা ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করার এক অন্যতম চাবি কাঠি। আসুন আমরা আমাদের সুন্দরবনসহ সকল বন বাঁচাই, আমাজন বন বাঁচাই।”

 

মন্তব্য