সাহিত্য

লক্ষ্মীমাসি

হনহন করে থানার দিকে হাঁটছে লক্ষ্মীমাসি। হাঁটছে না ছুটছে বোঝা যাচ্ছে না। কোনও দিক পাশ দেখছে না সে। কখনও প্রায় লাফিয়ে ফুটপাথে উঠে পড়ছে, তো কখনও সামনে তিন-চার জন লোককে ধীরেসুস্থে যেতে দেখে ওদের কাটিয়ে কাটিয়ে যাওয়ার চেয়ে দুম করে রাস্তায় নেমে যাওয়াটাকেই শ্রেয় মনে করছে। আর বিড়বিড় করে বলছে, আজ একটা হেস্তনেস্ত না করে ছাড়ব না! অনেক হয়েছে। আর না! দাদাবাবুর বাড়িতে কাজ করি বলে কি দাদাবাবু যা ইচ্ছে তা-ই করবেন? এত দিন কিছু বলিনি। আজ তো ঘরে ঢুকে নিজের চোখে দেখলাম। শেষ পর্যন্ত আমার বাচ্চা মেয়েটাকে… ছি ছি ছিঃ…
সবাই ওকে লক্ষ্মীমাসি বলে ডাকলেও, ওর যা বয়স, তাতে ‘মাসি’ কেন, দিদিও বলার কথা নয়। যেহেতু লোকের বাড়ি কাজ করে, তাই সেই সূত্রে সবার কাছে ও কাজের মাসি। কিন্তু ও যে দাদাবাবুর বাড়িতে কাজ করে, তারা কাজের মাসি বলে না। মাসি বলে ঠিকই, তবে তার আগে ‘কাজের’ জায়গায় ওর ডাকনাম ‘লক্ষ্মী’ বসিয়ে ‘লক্ষ্মীমাসি’ বলে ডাকে। সে ছোট থেকে বড় সকলেই।

সাড়ে পাঁচ বছর আগে ওর মেয়ে যখন পেটে, তখন ওর স্বামী বিষাক্ত চোলাই মদ খেয়ে টানা আঠেরো ঘণ্টা যমের সঙ্গে লড়াই করে হেরে যায়। শুধু ওর স্বামীই নয়, সে সময় বিষাক্ত মদ খেয়ে যে সাতাশ জন অসুস্থ হয়েছিল, তার মধ্যে বারো জনই মারা যায়। তখন এটা নিয়ে খুব হইচই হয়েছিল। যাদের বাড়ির লোকেরা অসুস্থ হয়েছিল, মূলত তারা করলেও খবরে বলা হয়েছিল, গ্রামের লোকেরা দল বেঁধে গিয়ে যে বেআইনি ঠেক থেকে ওরা মদ খেয়েছিল, কেবল সেই ঠেকই নয়, আশপাশের সব ক’টা ঠেক, এমনকী ওই সব ঠেক বন্ধ থাকলে কিংবা রাতদুপুরে কারও দরকার হলে যে সব বাড়ি থেকে লুকিয়ে-চুরিয়ে মদ বিক্রি করা হয়, সে বাড়িগুলোও ভাঙচুর করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ক্ষিপ্ত জনতা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশ গেলে মারমুখী জনতা তাদের উপরেও চড়াও হয়েছে। সড়ক পথ অবরোধ করে জনজীবন স্তব্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ জোর করে তুলতে গেলে পুলিশের ওপরেও ইটবৃষ্টি হয়েছে। জিপেও আগুন ধরাতে চেষ্টা করেছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে দোকানপশার-স্কুল। পরে র‌্যাফ এসে এলোপাথাড়ি লাঠি চালিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে কোনও রকমে পরিস্থিতির সামাল দেয়।

তড়িঘড়ি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দেন বিষাক্ত মদ খেয়ে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সঙ্গে মৃতের পরিবারের একজনকে চাকরি। যাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন, কিন্তু কোনও দিনই আর আগের মতো নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াতে পারবেন না, চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন— তাঁদের দেওয়া হবে এক লক্ষ টাকা করে। যাঁরা গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন, কবে সুস্থ হবেন কোনও ঠিক নেই, তাঁদের দেওয়া হবে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে। আর যাঁদের অবস্থা অতটা সঙ্গিন নয়, প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা পাবেন পঁচিশ হাজার টাকা করে। এ ছাড়াও তাঁদের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে রাজ্য সরকার।

এই ঘোষণা শুনে বহু লোক যেমন কটাক্ষ করেছিল, বলেছিল, মদ খেয়ে অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার খরচ যদি সরকার দেয় এবং তার পাশাপাশি যদি টাকাপয়সাও পাওয়া যায়। তা হলে যাঁদের কোনও আয়ই নেই, তাঁরা তো সেই টাকা পাওয়ার লোভে যাঁরা মদ খান না, তাঁরাও মদ খাওয়া শুরু করবেন। হয়তো বউকে বলে যাবেন, আমি তো এমনিই মরে আছি। আমি মদ খেয়ে মারা গেলে যদি দু’লক্ষ টাকা পাও, সেটা দিয়ে মেয়ের বিয়েটা দিয়ে দিয়ো। আর চাকরি? তুমি তো করতে পারবে না। না হলে তুমিই পেতে। ওটা বরং ছেলেকে দিয়ে দিয়ো। তাতে ওর একটা হিল্লে হয়ে যাবে!

কেউ কেউ আবার স্বস্তিও পেয়েছিল। বোঝ ঠেলা এ বার। যা। আরও মদ খা। মদ খেয়ে এসে বউকে বেধড়ক পেটা। যে দু’-চার টাকা বউ জমিয়েছে, সেটা কেড়েকুড়ে নিয়ে যা… ঠিক হয়েছে। এদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকারই নেই। কেউ কেউ আবার বন্ধুবান্ধবদের কাছে আফসোস করেছিল, আমি তো জীবনে কখনও একসঙ্গে দু’লক্ষ টাকা চোখেই দেখিনি। সারা জীবনে কখনও এত টাকা রোজগারও করতে পারব না। ইস্, আমি যদি ওই দোকান থেকে সে দিন চোলাই মদটা খেতাম, আমি থাকতাম না হয়তো ঠিকই, কিন্তু আমার বউ-ছেলেমেয়ে তো এত দিনে কড়কড়ে দু’লক্ষ টাকার মালিক হয়ে যেত!

লক্ষ্মীমাসি দু’লক্ষ টাকা পেয়েছিল। না। নগদে নয়। চেকে। সেটা ভাঙানোর জন্য তাকে ব্যাঙ্কে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়েছিল। কিন্তু সে টাকা ক্যাশ হয়ে আসার আগেই মুদি দোকানি থেকে কাকা-জেঠা, ওর বন্ধুবান্ধব, এমনকী ও যাদের কোনও দিন দেখেইনি, নামও শোনেনি, তারাও একে একে এসে বলতে শুরু করল, এতগুলো টাকা যখন পেয়েছেন, আমি আপনার বরের কাছে যে টাকা পাই, সেটা মিটিয়ে দিন।

মুদিখানা, এর ওর তার কাছে স্বামীর ধারের কথা যেমন লক্ষ্মীমাসি জানত, তেমন জানতও না অনেক ধারের কথা। সেই সব অজানা ধারের কত সাক্ষী এসে যে প্রতিদিন জড়ো হতে লাগল! সেই সব ধারের তালিকায় যেমন পঞ্চাশ টাকা ছিল, ছিল তিন হাজার টাকাও। সে সব শোধ করতে করতেই বহু টাকা বেরিয়ে গিয়েছিল ওর।

শ্বশুর-শাশুড়ি বলেছিলেন, আমার ছেলে মারা গেছে বলে তুমি অতগুলো টাকা পেয়েছ। ওর কাজ কিন্তু খুব ধুমধাম করে করতে হবে। অপঘাতে মারা গেছে। শ্রাদ্ধে গোটা গ্রামকে নেমন্তন্ন করে খাওয়াতে হবে। না হলে ওর আত্মা শান্তি পাবে না।

সেই শ্রাদ্ধ করতে গিয়ে যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, সেই টাকাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। শ্রাদ্ধের বহর দেখে সবাই ধন্য ধন্য করেছিল। কিন্তু তার দু’দিন পর থেকেই লক্ষ্মীর শুরু হয়েছিল বেঁচে থাকার জন্য সত্যিকারের লড়াই। লড়াই তো নয়, রীতিমত যুদ্ধ। বুঝেছিল, বিপদে পড়লে কেউ কারও নয়। এত যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা যায় না। বারবার ভেবেছে, আত্মহত্যা করবে। সে জন্য কখনও মোটা দড়ি জোগাড় করেছে। কখনও বিষ কিনে এনেছে। কখনও কোনও পুকুরের সামনে দাঁড়িয়ে ভেবেছে, এখানেই ঝাঁপ দেব! আর প্রতিবারই না-মরতে পারার যন্ত্রণাটাকে বুকে চেপে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এসেছে পেটের ভিতরে যে বেড়ে উঠছিল তার কথা ভেবে।

একদিন সেই বাচ্চা পৃথিবীর আলো দেখল। লক্ষ্মীমাসি ঠিক করল, বাবা নেই তো কী হয়েছে! এই বাচ্চাকে সে বুকে আগলে এমন ভাবে মানুষ করবে, যাতে বাবার কোনও অভাব সে বুঝতে না পারে। এরই মধ্যে হাতছানি আসতে লাগল এ-পাশ ও-পাশ থেকে। গায়ে পড়ে ভাব জমাতে এল অনেকেই। বাইরে বেরোলে এ ও সে লোলুপ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাতে লাগল, নানা রকম ইঙ্গিত করতে লাগল। এত দিন যারা তাকে ‘বউদি’ ‘বউদি’ বলে কথা বলত, তারা কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করল। মাঝরাত্তিরে মাঝে মাঝে টোকা পড়তে লাগল তার ঘরের দরজায়।

লক্ষ্মীমাসি বুঝতে পারল, মাথার উপরে কোনও পুরুষ মানুষ না থাকলে, যতই শ্বশুর-শাশুড়ি, দেওর, ননদ থাক না কেন— কোনও মেয়েমানুষের পক্ষে একা একা বেঁচে থাকাটা কত মুশকিল।

ও নিজেই খোঁজ করে করে জুটিয়ে নিল দাদাবাবুদের বাড়ির ওই কাজটা। কাজ থাক না থাক। তাকে সকাল থেকে সন্ধে অবধি ওখানেই থাকতে হবে। বেশ কয়েক দিন কাজ করেই তার মনে হয়েছিল, এরা খুব ভাল মানুষ। তাই অন্য বাড়ি থেকে বেশি টাকা দিতে চাইলেও ও আর দাদাবাবুর বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও কাজ করার কথা ভাবেইনি।

দাদাবাবুর বয়স ষাট না হলেও তার কাছাকাছি। বলতে গেলে ওর বাবার চেয়েও বয়সে বড়। তাঁর এক ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। থাকে বেলজিয়ামে। মেয়ে ডাক্তার। বিয়ে দিয়েছেন তুরস্কয়। জামাইও ডাক্তার। বউ পড়ান একটি নামজাদা কলেজে। আর নিজে কাজ করতেন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। কর্মসূত্রে প্রায় গোটা পৃথিবী ঘুরেছেন। কিন্তু এ দেশের মাটি নাকি তাঁর চেনা হয়নি। জানা হয়নি এ দেশের মানুষকে। তাই তিনি স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। মেলাটেলা ঘুরতে ভীষণ ভালবাসেন। মাঝে মাঝেই দু’-চার দিনের জন্য চলে যান পুরুলিয়ার সৃজন উৎসবে, বড়কাছারির মেলায়, গঙ্গাসাগরে। কখনও আবার শুধু টাটকা খেজুররস খাওয়ার জন্য শীতকালে গিয়ে হাজির হন এ গ্রামে সে গ্রামে।

শখও আছে প্রচুর। বাড়ির ছাদে… না। টবে নয়। প্রায় গোটা ছাদ জুড়ে হাঁটু সমান উঁচু করে চৌবাচ্চার মতো বানিয়ে সার দিয়ে মাটি তৈরি করে সেখানে নানা রকম গাছপালা লাগিয়েছেন। বড় একটা খাঁচায় প্রথমে চারটে বদ্রিপাখি পুষেছিলেন। বাচ্চা হয়ে হয়ে এখন সেখানে গিজগিজ করছে। রঙিন মাছও পুষেছেন ইয়াব্বড় একটা অ্যাকুরিয়ামে।

দিনের অনেকটা সময় এ সব নিয়েই তাঁর কেটে যায়। কিন্তু যে-ই উনি দেখেছেন ওর একটা একরত্তি মেয়ে আছে। মেয়েটাকে ঘরের এক কোনায় শুইয়ে রেখে ও কাজ করে। সেটা দেখে উনি বলেছিলেন, ওকে ওখানে রাখবে না।

লক্ষ্মীমাসি বলেছিল, তা হলে কোথায় রাখব দাদাবাবু? ওকে যে কারও কাছে রেখে আসব, আমার বাড়িতে তো তেমন কেউ নেই…

দাদাবাবু বলেছিলেন, আমি তোমাকে সে কথা বলিনি। বলছি, ওকে ওখানে ঠান্ডার মধ্যে না রেখে আমার ঘরের খাটে শুইয়ে রাখতে পারো তো… আর হ্যাঁ, ওখানে শোয়ালে কিন্তু ওর দু’পাশে মনে করে দুটো কোলবালিশ দিয়ে দিয়ো। যাতে পড়ে না যায়…

বাড়ির বাইরে কাজ করতে বেরিয়ে ও নানা লোকের কাছে নানা রকম কথা শুনেছে। যারা ওর মতো কেবল একটি বাড়িতে নয়, এ বাড়ি ও বাড়ি সে বাড়িতে কাজ করে, তাদের অনেকের মুখেই ও শুনেছে, যে-বাড়িতে ওরা কাজ করতে যায়, সেই বাড়ির দাদাবাবুরা নাকি সুযোগ পেলেই চোখের ইশারা করে। ছোঁওয়ার চেষ্টা করে। হাত করার জন্য লুকিয়ে লুকিয়ে দশ-বিশ-পঞ্চাশ টাকাও দেয়। আর এ সব দেওয়ার পিছনে তাদের একটাই উদ্দেশ্য থাকে। আর সেই উদ্দেশ্য যে কী, তা কাউকে বলে দিতে হয় না। যে-কোনও মেয়েই তাদের সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে সেটা ঠিকই বুঝতে পেরে যায়। শুধু যে বাড়ির কত্তারাই এ সব করেন, তা নয়। কোনও কোনও বাড়ির কত্তাদের পাশাপাশি তাঁর ছেলেরাও কোনও অংশে কম যায় না।

তবে দাদাবাবু তার মেয়েকে কতটা ভালবাসে সেটা বলতেই অন্য কতগুলো বাড়িতে ঠিকে কাজ করা ওর এক বান্ধবী বলেছিল, ভালবাসা না ছাই! ও তোর মেয়েতে ভালবাসার ভান করছে, তোর দিকে হাত বাড়াবে বলে। তুই তো এ লাইনে নতুন। ক’টা দিন যাক, তখন তুইও বুঝতে পারবি। এগুলো হচ্ছে সব টোপ। টোপ বুঝিস? টোপ? সেই টোপ।

মেয়ে দিন দিন বড় হচ্ছে। হামাগুড়ি দিচ্ছে। সেটা দেখে দাদাবাবু বলেছিলেন, এই লক্ষ্মীমাসি শোন, কাল থেকে ফিনাইল-জল দিয়ে ঘর মোছার পরে মনে করে একটু ডেটল-জল দিয়ে আমার ঘরের মেজেটা খুব ভাল করে মুছে দিস তো।

—কেন দাদাবাবু? ও জিজ্ঞেস করতেই উনি বলেছিলেন, তোর মেয়ে তো এখন হামাগুড়ি দিচ্ছে। সেই হাত আবার মুখেও দিচ্ছে। দেখতে পাস না? এগুলোও আমাকে বলে দিতে হবে? এটা আনহাইজানিক। বুঝেছিস?

‘আনহাইজানিক’ শব্দটার বাংলা না জানলেও ও বুঝতে পেরেছিল, ওর মেয়ের ভালর জন্যই উনি এ কথা বলছেন। তাই বলেছিল, ঠিক আছে দাদাবাবু।
মেয়েটা আর একটু বড় হওয়ার পরে দাদাবাবু ওকে ছাদে নিয়ে যেত। অনেকক্ষণ সেখানে কাটাত। ও আচমকা সেখানে গেলে দেখত, দাদাবাবুর কোলে তার মেয়ে। কখনও গাছগুলোর সামনে। কখনও মাছের অ্যাকোরিয়ামের সামনে। কখনও আবার বদ্রিপাখির খাঁচার সামনে। কখনও আবার দেখত, দাদাবাবুর ঘরের দরজা দেওয়া। ভিতরে দাদাবাবু আর তার মেয়ে।

ও ভাবত, উনি সারা জীবন বাইরে বাইরে থেকেছেন। ছেলেমেয়েরা কী ভাবে একটু একটু করে বড় হয়ে গেল, সেটা ওঁর দেখাই হয়নি। উনি যখন পাকাপাকি ভাবে দেশে ফিরলেন, ছেলেমেয়েরা তখন বাইরে চলে গেছে। না। সে ভাবে কারও সান্নিধ্য পাননি তিনি। তাই উনি হয়তো এখন এই বয়সে এসে সেই সাধ পেতে চাইছেন। আর সে জন্যই বেছে নিয়েছেন তার মেয়েকে। সব ঠিকঠাকই চলছিল। ও কিচ্ছু বলত না।
এর মধ্যেই একদিন তার মতোই এক বাড়িতে কাজ করা এক বান্ধবী তাকে বলেছিল, কী রে? তোর দাদাবাবু কী বলছে? এই সুযোগ, যা পারিস এখন বাগিয়ে নে। এর পর বয়স হয়ে গেলে কিন্তু…

লক্ষ্মীমাসি অবাক হয়ে গেল। তার যে সব বান্ধবী লোকের বাড়িতে কাজ করে, তারা বেশির ভাগই এ সব কথা বলে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার দাদাবাবুর কাছ থেকে তো সে এমন কোনও ইঙ্গিত পায়নি, যা থেকে তার অন্য কোনও রকম ধারণা জন্মাতে পারে… তা হলে! তা হলে! তা হলে!
এ বাড়িতে সচরাচর টিভি চলে না। চললেও এই সিরিয়াল, ওই সিরিয়াল কক্ষনো না। বেশির ভাগ সময় নিউজ চ্যানেলই চলে। সে দিন এক ঘর থেকে আর এক ঘরে যেতে যেতে ও দাঁড়িয়ে পড়েছিল টিভির সামনে। আর তখনই ও শুনেছিল, একটা বড় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের একটা চার বছরের মেয়েকে… না না, চার বছরের কোনও মেয়েকে কি ‘মেয়ে’ বলা যায়! সে তো একটা শিশু, সেই শিশুকে নাকি ওই স্কুলেরই দু’জন পিটি স্যার বাথরুমে নিয়ে গিয়ে… ছি ছি ছিঃ… যে শিশুর শরীরই গড়ে ওঠেনি, তাকে… তার মানে! ওই শিশুটি তো তার মেয়ের চেয়েও ছোট… হ্যাঁ, হিসেব করলে তো ছোটই হবে। তার মেয়ের বয়স এখন সাড়ে চার… এই বয়সের কোনও মেয়েকে ওই রকম একটা বুড়োদামড়া লোক… ভাবা যায়!

আচ্ছা, তার মেয়ের সঙ্গে এ রকম কিছু ঘটছে না তো! না না। ঘটবে কী করে! সে কি কোনও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে! ও জন্মানোর আগেই তো আমি ঠিক করে রেখেছি, ওকে আমি আমার কাছে-কাছেই রাখব। কারও কাছে ছাড়ব না। না। স্কুলেও ভর্তি করাব না। ও তো পড়ালেখা শিখে আর দিগ্‌গজ পণ্ডিত হবে না। তার চেয়ে এই ভাল, একটু বড় হলে হাতে হাতে কাজ শিখে এই বাড়িতেই ও কাজ করবে। যা শেখার, মানুষ তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমনিই শিখে যায়। দেখি তো, বইয়ের পাতায় মস্ত বড় একটা আমের ছবি। তার পাশে নাকি লেখা ‘আম’। তা, আমি তো কোনও দিন স্কুলেই যাইনি। তা হলে কি আমি জানি না, কোনটাকে আম বলে? আমি তো সব চিনি। জানি। দেখে দেখেই শিখে গেছি। তা হলে ফালতু ফালতু স্কুলে দিয়ে কী হবে! এ কথা সে একদিন কথায় কথায় দাদাবাবুকেও বলেছে। বলেছে, তুমি যদি ছেলেমেয়েদের এত পড়ালেখা না শেখাতে, তা হলে তো তারা অত ভাল চাকরিও পেত না। বিদেশেও যেতে পারত না। তোমার কাছেই থাকত। ছেলেমেয়েকে নিয়ে একসঙ্গে থাকার আনন্দই আলাদা। কম খাব, তাও ভাল। তবু… না বাপু, আমি কোনও দিন আমার মেয়েকে শিক্ষিত করা তো দূরের কথা, স্কুলেই ভর্তি করাব না। তাতে যা হবার হবে।

ওরা বলেছিল, তোর দাদাবাবু তোর মেয়েকে ভালবাসার ভান করছে। আসলে তোর দিকে হাত বাড়াবে বলে… কিন্তু কই, এত দিনেও তো সে রকম কোনও কিছু দেখলাম না… নাকি মেয়েকে ভালবেসে তিল তিল করে বড় করে তুলছে, হাতে-পায়ে আর একটু বড় হলে ওই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পিটি স্যারের মতো কোনও কাণ্ড করবে বলে! দেখতে হবে তো!
সে দিন থেকেই ও তক্কেতক্কে ছিল। আজ একেবারে হাতে-নাতে ধরে ফেলেছে। দাদাবাবুর ঘরের দরজা দেওয়া দেখে ও চাবি ঢোকানোর জায়গায় চোখ রেখেছিল। আর তখনই…
তার মানে আজ প্রথম নয়। ওকে নিয়ে উনি রোজই… না হলে ও এত সব জানল কী করে! এর আগেও আমি আঁচ পেয়েছি, কিন্তু কিচ্ছু বলিনি। না। আর নয়। আজ একটা হেস্তনেস্ত করে তার পর ছাড়ব। আর সেটা করার জন্যই লক্ষ্মীমাসি যেন হাঁটছে না। ছুটছে। পাঁইপাঁই করে থানার দিকে ছুটছে।

—আমি একটা ডায়েরি করতে চাই। থানায় ঢুকে এ কথা বলতেই একজন তাকে সেকেন্ড অফিসারকে দেখিয়ে দিলেন। ও তাঁর কাছে গিয়ে বলল, আমি যে দাদাবাবুর বাড়িতে কাজ করি, উনি আমার মেয়েকে…
সেকেন্ড অফিসার বললেন, দাঁড়ান দাঁড়ান, একটু দাঁড়ান। বলে, ঢাউস একটা জাবদা খাতা খুলে বললেন, হ্যাঁ, এ বার বলুন, আপনার মেয়ের নাম কী?
ও বলল, অনুষ্কা।
—বয়স?
—সাড়ে চার বছর।
—সাড়ে চার! ঠিকানা?
—কোনটা বলব?
সেকেন্ড অফিসার বললেন, কোনটা মানে? আপনার ক’টা বাড়ি?
—একটা আমার বাপের বাড়ি। আর একটা শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু আমি তো বেশির ভাগ সময় দাদাবাবুর বাড়িতেই থাকি। তাই…
—যে বাড়িতে কাজ করেন, সেই বাড়িতেই থাকেন?
—না। রাত্রে চলে যাই।
—রাত্রে যেখানে থাকেন, সেখানকার ঠিকানা বলুন।
লক্ষ্মীমাসি ঠিকানা বলতেই তিনি বললেন, হ্যাঁ, এ বার বলুন আপনার মেয়ের সঙ্গে উনি কী করেছেন?
—যা করেছেন… সেটা কোনও লোক করতে পারে?
—কী করেছে সেটা বলুন…
—কী ভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না। আসলে আমি অনেক দিন ধরেই দেখছি, উনি আমার মেয়েকে নিয়ে প্রায়ই ছাদে চলে যান। কখনও সখনও ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে দরজা আটকে দেন। ইদানীং দেখছিলাম, উনি প্রায় প্রতিদিনই একেবারে নিয়ম করে সকাল ন’টা বাজলেই আমার মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে যান…
সেকেন্ড অফিসার জিজ্ঞেস করলেন, কোথায়?
—সে আমি জানব কী করে!
—কখনও জিজ্ঞেস করেননি?
—না।
—তার পর?
লক্ষ্মীমাসি বলল, তার পর আর কী, আজ একেবারে হাতেনাতে ধরে ফেলেছি।
—কী?
—এত দিন ধরে উনি আমার মেয়ের সঙ্গে যেটা করছিলেন, সেটা।
—আরে, কী করেছে সেটা বলবেন তো…
—আপনি সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের নাম শুনেছেন?
সেকেন্ড অফিসার বললেন, কেন শুনব না? ওই স্কুলে আমার মেয়েকে ভর্তি করানোর জন্য তো আমি প্রচুর কাঠখড় পোড়াচ্ছি। একে ধরছি, তাকে ধরছি। যা ডোনেশন চায়, দিতে রাজি আছি। কিন্তু… ওরা তো ডোনেশন-ফোনেশন নয়ই, মন্ত্রীদের রেকোমেন্ডেশনও মানে না। ওরা কী দেখে বাচ্চাদের ভর্তি নেয়, কে জানে!
—তাই নাকি?
—হ্যাঁ। তা, হঠাৎ সেন্ট জেভিয়ার্স এল কোথা থেকে?
লক্ষ্মীমাসি বলল, সেটাই তো বলছি। উনি তো নিজের ছেলেমেয়েদের যা ক্ষতি করার করেছেন। এ বার আমার মেয়েকে নিয়ে পড়েছেন…
—আপনি কি বলবেন আপনার অভিযোগটা কী?
—সেটাই তো বলতে এসেছি।
—তো, বলুন।
—আজ আমি নিজের চোখে দেখলাম, উনি ঘরের মধ্যে আমার মেয়েকে ওই স্কুলের ড্রেস পরাচ্ছেন। আমাদের ও দিককার অনেক বড় বড় ঘরের ছেলেমেয়েরা ওই স্কুলে পড়ে। আমি ওদের ড্রেস চিনি।
—মানে?
—মানেটা বুঝলেন না? আমার মেয়েকে উনি ওই স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছেন।
সেকেন্ড অফিসার অবাক, আপনার মেয়েকে? সেন্ট জেভিয়ার্সে? কী বলছেন? আপনি কি পাগল নাকি?
—কেন?
—এ রকম আবার হয় নাকি?
—আমার ক্ষেত্রে তো হয়েছে।
—উনি আপনার মেয়েকে ওই স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছেন? ওঁর ফোন নম্বর আছে আপনার কাছে?
লক্ষ্মীমাসি বলল, হ্যাঁ, আছে।
—দিন তো…
লক্ষ্মীমাসি নম্বর দিতেই সেকেন্ড অফিসার ফোন করলেন ওর দাদাবাবুকে— আপনি কি আপনার কাজের মাসির মেয়েকে সেন্ট জেভিয়ার্সে ভর্তি করে দিয়েছেন?
—কে বলল?
—খবর পেলাম।
—হ্যাঁ, দিয়েছি। কারণ, আমি মনে করি ও আমার আর একটা নাতনি। আমি চাই না, ওই মেয়ে ওর মায়ের মতোই লোকের বাড়িতে কাজ করুক। সে জন্য…
—তা, যার মেয়েকে ভর্তি করেছেন তাকে কি জানিয়েছেন?
—না।
—কেন?
—জানলে ও বাধা দিত।
—বাধা দিত!
—হ্যাঁ দিত। ওর ধারণা, ছেলেমেয়েরা ভাল স্কুলে পড়লে চাকরিবাকরি নিয়ে বিদেশে চলে যাবে। বুড়ো বয়সে তারা পাশে থাকবে না। তাই… ওকে না জানিয়েই আমি ভর্তি করেছি। আর ও যাতে সেটা বুঝতে না পারে, সে জন্য আমি রোজ সকালে ওর মেয়েকে বাড়ির জামাকাপড় পরিয়ে নিয়ে বেরোই। তার পর স্কুলের কাছাকাছি কোথাও একটা গাড়ি দাঁড় করিয়ে স্কুলের পোশাকটা পরিয়ে দিই। আবার আনার সময় আগের জামাকাপড় পরিয়ে নিই।
—কিন্তু ভর্তি করালেন কী ভাবে? কাকে ধরে?
—কাউকে ধরতে হয়নি। আমার মেয়েও ওই স্কুলে পড়ত। ওদের ঘরানা আমি জানি। ওরা দেখে বাচ্চারা প্রকৃতি চেনে কি না, তার সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক কতটা গভীর। সেটাকেই ওঁরা ওই স্কুলে ভর্তি করার প্রথম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করেন।  আমি তাই আগে থাকতেই ওকে একেবারে এইটুকুন বয়স থেকে ছাদে নিয়ে গিয়ে গাছপালা চেনাতাম। অ্যাকোরিয়ামের মাছগুলোকে ও এমন ভাবে চিনে গিয়েছিল যে, ওদের লেজ নাড়া দেখলেই ও বুঝতে পারত ওরা কী বলতে চাইছে। এমনকী, বদ্রিপাখিগুলোর সঙ্গেও ওর এমন সখ্য গড়ে উঠেছিল যে, ও খাঁচার সামনে গেলেই ওকে দেখার জন্য ওরা একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ত। পাখিদের ভাষাও ও বুঝতে পারত। আর পড়াশোনা? সেটা তো আমি ওকে আমার ঘরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে করাতাম। ওদের স্কুলের যে টিচাররা ওর ভর্তির পরীক্ষা নিচ্ছিলেন, তাঁরা ওর এগুলো দেখে এতটাই আপ্লুত হয়েছিলেন যে, সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করে নিয়েছিলেন। আমাকে কিচ্ছু বলতে হয়নি।
—সে কী! কিন্তু ওই স্কুলে তো প্রচুর খরচ…
—আমি দেব। টাকার জন্য ওকে ভাবতে হবে না। আমার ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। মেয়ে ডাক্তার। জামাইও ডাক্তার। আমি ওকেও ডাক্তার বানাতে চাই কিংবা ইঞ্জিনিয়ার। যদি বেঁচে থাকি…
অবাক হয়ে গেলেন সেকেন্ড অফিসার। লক্ষ্মীমাসির দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি এ রকম একটা লোকের নামে ডায়েরি করতে এসেছেন? ছিঃ।
—না। মানে… উনি যেটা করেছেন, সেটা কি ভাল?
—না। ভাল নয়। একদমই ভাল নয়। বরং বলব, খুব ভাল। ভীষণ ভাল। ভালর ভাল। সব চেয়ে ভাল। আপনি সত্যিই খুব ভাগ্য করে জন্মেছেন যে, এ রকম একটা লোক, থুড়ি, এ রকম একটা পরিবার পেয়েছেন.. .
—তাই?
—তাই নয়। তাই-ই।
সেকেন্ড অফিসারের কথা শুনে লক্ষ্মীমাসি একেবারে থ’ হয়ে গেল।

সিদ্ধার্থ সিংহের পরিচিতি
২০১২ সালের 'বঙ্গ শিরোমণি' সম্মানে ভূষিত সিদ্ধার্থ সিংহের জন্ম কলকাতায়। ১৯৬৪ সালে।  ক্লাস নাইনে পড়ার সময়ই তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয় 'দেশ' পত্রিকায়। প্রথম ছড়া 'শুকতারা'য়।  প্রথম গদ্য 'আনন্দবাজার'-এ। প্রথম গল্প 'সানন্দা'য়। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহল তোলপাড় হয়। মামলা হয় পাঁচ কোটি টাকার। ছোটদের জন্য যেমন সন্দেশ, আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, চির সবুজ লেখা, ঝালাপালা, রঙবেরং, শিশুমহল ছাড়াও বর্তমান, গণশক্তি, রবিবাসরীয় আনন্দমেলা-সহ সমস্ত দৈনিক পত্রিকার ছোটদের পাতায় লেখেন, তেমনি বড়দের জন্য লেখেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ এবং মুক্তগদ্য। 'রতিছন্দ' নামে এক নতুন ছন্দের প্রবর্তন করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুশো একচল্লিশটি। তার বেশির ভাগই অনুদিত হয়েছে বিভিন্ন ভাষায়। বেস্ট সেলারেও উঠেছে সে সব। এ ছাড়া যৌথ ভাবে সম্পাদনা করেছেন লীলা মজুমদার, রমাপদ চৌধুরী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মহাশ্বেতা দেবী, শংকর, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, নবনীতা দেবসেন, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে। তাঁর লেখা নাটক বেতারে তো হয়ই, মঞ্চস্থও হয় নিয়মিত। তাঁর কাহিনি নিয়ে ছায়াছবিও হয়েছে বেশ কয়েকটি। গান তো লেখেনই। মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি বাংলা ছবিতে। তাঁর ইংরেজি এবং বাংলা কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কয়েকটি সিনেমায়। বানিয়েছেন দুটি তথ্যচিত্র। তাঁর লেখা পাঠ্য হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদে। ইতিমধ্যে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ শিশু সাহিত্য সংসদ পুরস্কার, কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার, কাঞ্চন সাহিত্য পুরস্কার, সন্তোষকুমার ঘোষ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা লোক সাহিত্য পুরস্কার, প্রসাদ পুরস্কার, নতুন গতি পুরস্কার, ড্রিম লাইট অ্যাওয়ার্ড, কমলকুমার মজুমদার জন্মশতবর্ষ স্মারক সম্মান, কবি সামসুল হক পুরস্কার, সুচিত্রা ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, অণু সাহিত্য পুরস্কার, কাস্তেকবি দিনেশ দাস স্মৃতি পুরস্কার, শিলালিপি সাহিত্য পুরস্কার, চেখ সাহিত্য পুরস্কার, মায়া সেন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও ছোট-বড় অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননা। পেয়েছেন ১৪০৬ সালের 'শ্রেষ্ঠ কবি' এবং ১৪১৮ সালের 'শ্রেষ্ঠ গল্পকার'-এর শিরোপা।

মন্তব্য