সভা-সেমিনার

পল্টু হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

শিল্প নগরী দর্শনায় প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্ৰামের এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল পাঁচটায় দর্শনা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার নারী ও পুরুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় । 

মানববন্ধনে নিহত পল্টুর স্ত্রী শাহিনা আক্তার  বলেন, আমার স্বামী কোন মাদক ব্যবসায়ী ছিলোনা । আসামিপক্ষ এটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানা ভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও আমরা স্বামীর হত্যার বিচার হয়নি। মানববন্ধনে নিহতের ছেলে রাতুল আহমেদ বলেন, আমার বাবা কে
যারা প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সেই সন্ত্রাসীদের কে ফাঁসির দাবিতে জানাচ্ছি । এদিকে দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, শান্ত দর্শনা কে যারা অশান্ত করেছে তারা কখনো আওয়ামী লীগের কর্মী হতে পারে না । তারা হলো সন্ত্রাসী আর এই সন্ত্রাসী ও খুনিদের  আইনের আওতায় এনে  দ্রুত বিচার দাবি জানাচ্ছি। এই মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত  দর্শনাবাসী কে সাথে নিয়ে আন্দোলন চলবে । দামুড়হুদা  মডেল থানার  এসআই  ও মামলার তদন্তকারী অফিসার মহাব্বত আলী তিনি জানান, আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে । মামলা তদন্ত চলছে খুব তাড়াতাড়ি আদালতে প্রেরণ করা হবে । আমি বিশ্বাস করি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে । 

দর্শনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক আরিফের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে এতে অংশ নেন দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, রহমান,  দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু, দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম, দর্শনা অংকুর আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজী মোঃ হাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান, হাজী ইদ্রিস আলী, নিহতের বড় ভাই মঈনুদ্দীন মন্টু, যুবলীগ নেতা, হুকুম আলী, সহ প্রমুখ।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহত স্ত্রী শাহিনা আক্তার,বড় ছেলে রাতুল আহমেদ সহ এলাকাবাসী। গত ২৩ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে দর্শনা রেলগেট সংলগ্ন রুস্তমের হোটেলের সামনে
প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর পশ্চিমপাড়ার আ. রউফের ছেলে যুবলীগ কর্মী নঈমুদ্দিন পল্টুকে। ২৪ আগস্ট নিহতের বড়ভাই দর্শনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঈনুদ্দিন আহমেদ মন্টু বাদি হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ষার অবশেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে ১০ দিনের অন্তবর্তীকালীন জামিন পায় ৭ জনই। আগামি ১৯ সেপ্টেম্বর জামিনের শেষ দিন ছিলো।
সোমবার চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করে মামলার এজাহারভুক্ত ৭ আসামি। এ সময় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রবিউল
ইসলাম জামিন না মঞ্জুর করে ৭ জনকেই জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। 

মন্তব্য