শিক্ষা

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভাষা প্রযুক্তি’ বিষয়ক প্রথম জাতীয় কর্মশালা শুরু

 

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভাষা প্রযুক্তি’ শ্লোগানে দুই দিনব্যাপী ‘গাণিতিক ভাষাতত্ত্ব ও বাংলা ভাষা প্রক্রিয়াজাতকরণ’ শীর্ষক প্রথম জাতীয় কর্মশালা শুরু হয়েছে। অদ্য ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ খ্রি. সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে আয়োজিত উক্ত জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাননীয় সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েটের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, ‘চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক (উপ-সচিব) জনাব সৈয়দ জহুরুল ইসলাম, গিগা টেক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাবা সামিরা জুবেরি হিমিকা। ঈখইখচ-২০১৯ এর জেনারেল চেয়ার এবং কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ২০১৯ এর প্রোগ্রাম চেয়ার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক। চুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ‘চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন প্রকল্প’ বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, আইসিটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে উক্ত কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাননীয় সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ইউজিসি ভবন থেকে স্কাইপযোগে বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান বৈপ্লবিক ধারার সুবিধা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হলে ভাষাপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট উপযোগী করে বাংলা ভাষাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। চুয়েট এক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছে। চুয়েটের এই জাতীয় কর্মশালার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম উৎসাহিত হবে। তাঁরা বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করতে পারবে। আমরা চাই আমাদের দেশেও উদ্যোক্তা তৈরি হোক। প্রযুুুক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনকারী কিছু জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক। যারা চমকপ্রদ কিছু প্রজেক্ট তৈরি করবে। যার মাধ্যমে দেশও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। সেজন্য ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্কন্নোয়নে সংযোগ বাড়াতে হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়েটের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, “আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যম ইংরেজি হলেও বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেজন্য বর্তমানে ইন্টারনেট উপযোগী বাংলা ভাষায় কনটেন্ট তৈরি জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের চুয়েটে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন করা হচ্ছে। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা চাকরির পেছনে না ছুটে যেন নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠতে পারেন সেটার একটা বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। আশা করি চুয়েটসহ সারাদেশের ছেলে-মেয়েরা এখানে সৃজনশীল আইডিয়া নিয়ে বিভিন্ন স্টার্টআপ তৈরি ও বাজারজাত করার সুযোগ পাবেন।”

দুই দিনব্যাপী আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় দেশের ১০টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ জন ভাষা প্রযু্িক্তবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। উক্ত কর্মশালায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সর্বশেষ অনুসন্ধান, অগ্রগতি ও প্রয়োগ বিষয়ক যৌথ তথ্য-উপাত্ত বিনিময় করা হয়। যাতে করে বর্তমান প্রজন্ম কম্পিউটারে ব্যবহার উপযোগী বাংলা ভাষা প্রক্রিয়াজাতকরণে বিশ্ব-বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারেন। কর্মশালার প্রথমদিন দেশের ভাষাপ্রযু্িক্ত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিশিয়ানদের ১০টি গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়দিন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় থাকছে- বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), গিগা টেক, অপূর্ব টেকনোলজিস লিমিটেড ও ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট কনসাল্ট্যান্টস। টেকনিক্যাল কো-স্পন্সর হিসেবে থাকছে ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইইই), বাংলাদেশ শাখা।

 

 

মন্তব্য