সারা বাংলা

স্রোত-ভাঙনে অচল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট

পদ্মায় প্রবল স্রোতে ও তীব্র নদী ভাঙনের কারণে অচলাবস্থা হয়ে পড়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায়। এরই মধ্যে একে একে ভাঙনের কবলে পরে বন্ধ হয়ে গেছে তিনটি ঘাট। বাকি তিনটি ঘাট দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে যানবাহন। শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাট ও ২ নম্বর ফেরিঘাটে মাঝে থাকা সিদ্দিক ব্যাপারীর পাড়া গ্রামে অন্তত ২০০ পরিবার হারিয়েছে বসতভিটা। বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের তথ্যমতে, নদীর দৌলতদিয়া প্রান্তে থাকা ছয়টি ঘাটের মধ্যে ভাঙনের কবলে পরে ১ নম্বর, ২ নম্বর ও ৪ নম্বর ঘাটটি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ৩ নম্বর, ৫ নম্বর ও ৬ নম্বর ঘাট সচল রয়েছে। সূত্র আরো জানায়, এই নৌরুটে চলাচলের জন্য ১৭টি ফেরি থাকলেও ৩টি বিকল ও ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। সচল থাকা ফেরিগুলোর মধ্যে রোরো (বড়) ৫টি ফেরি সার্বক্ষণিক চলাচল করতে পারছে। বাকি ৯টি ফেরি স্রোতের কারণে চলতে পারছে না। শনিবার সরেজমিনে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের ২ নম্বর ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একের পর এক বড় বড় মাটির চাপ ভেঙে পড়ছে নদীতে। উৎসুক শত শত মানুষ ভাঙন দেখছে। এ সময় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশরাফুল ইসলাম আশরাফ বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে এই এলাকার ভাঙন এতই তীব্র হয়েছে যা বলার মতো নয়। মুহূর্তের মধ্যে বসতবাড়ি নদীতে চলে গেছে। এমনকি বুধবার রাতে সিদ্দিক ব্যাপারীর পাড়া গ্রামের অন্তত ২০০ পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে বালুর বস্তা ফেলছে তা একেবারেই কম। আরো দ্রুতগতিতে বালুর বস্তা না ফেললে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সবগুলো ঘাট নদীতে চলে যাবে। এদিকে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিড মিল পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এলাকায় দুই সারি যাত্রীবাহী বাস পারের অপেক্ষায় বসে আছে। এছাড়াও গোয়ালন্দ ঘাট থেকে নয় কিলোমিটার পিছনে গোয়ালন্দ মোড় থেকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার জামাই পালের মাজার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় এক সারি আটকে আছে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। এ সময় বাস চালকেরা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে এখন যাত্রী নিয়ে কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। তারপর পাওয়া যাচ্ছে ফেরি। অনেক আবার আগের দিন রাতে এসে পরদিন বিকেলেও ফেরির নাগাল পায়নি। ট্রাক চালকেরা জানান, গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় যেখানে আটকে রাখা হয়েছে, সেখানে নেই কোনো দোকান, হোটেল ও প্রস্রাব পায়খানার ব্যবস্থা যে কারণে প্রচণ্ড কষ্ট করতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও ছিনতাই ও ছিঁচকে চোরের উৎপাত রয়েছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় কর্মরত (টিএসআই) মো. রুহুল আমিন  জানান, ঘাটের এই অবস্থা দেখে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে বিকল্প সড়ক হিসেবে সিরাজগঞ্জ সেতু ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারপরও ট্রাক চালকেরা ওই রুট ব্যবহার করতে রাজি না। তারা তেল খরচ বাঁচানোর জন্য এখানেই বসে থাকবে।
বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, প্রবল স্রোতে নদী ভাঙন এইসব প্রাকৃতিক কারণ। আমাদের যে ফেরি সচল আছে সেগুলো দিয়ে পার করা সম্ভব নয়। কারণ নদীতে স্রোতের কারণে ছোট ফেরিগুলোকে টেনে কয়েক মাইল দূরে নিয়ে যাচ্ছে। বড় ফেরি ঘাটে আসতে সময় লাগছে ২ ঘণ্টারও বেশি। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম জানান, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজবাড়ীর কয়েকটি পয়েন্টে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের। আমরা জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলার কাজ করে যাচ্ছি। ঘাট সচল রাখতে আমরা সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

মন্তব্য