শিক্ষা

শিক্ষক দিবসে শিক্ষক ভাবনা​

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারেনা, যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি তত বেশী উন্নত। এসব প্রবাদগুলো যাকে ঘিরে রচিত হয়েছে তিনি হলেন ‘শিক্ষক’। শিক্ষকের কাছ থেকে শিখে আমরা আজ কথা বলতে পারি, পৃথিবীকে বুঝতে পারছি, জানতে পারছি সমাজকে, উপলব্ধি করতে পারি ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিৎ-অনুচিৎ প্রভৃতি। 
তবে, আগামীর স্বপ্নদ্রষ্টাদের (শিক্ষক) মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিকতা শিক্ষককে জাতি গড়ার কারিগর বলা হলেও বর্তমানে এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যে অবহেলিত-তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে এই মানুষ গড়ার কারিগরদের দাবি আদায়ে নামতে হয় মাঠে। যেটা খুবই লজ্জাজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।  
মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা কেমন আছেন, কেমন থাকা উচিত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে তাঁদের কি সমস্যা সেসব বিষয় নিয়ে সকালের সময় প্রতিবেদক মশিউর রহমান আনন্দ ও আল-আমিন কথা বলেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষাদ্যোক্তা এবং শিক্ষকদের সাথে।  

শিক্ষকরা তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের অধ্যপক ড. মরিয়ম বেগম


শিক্ষকরা তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের অধ্যপক ড. মরিয়ম বেগম। তিনি বলেন, আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকগণ মুখে যতই বলুক না কেন যে প্রাথমিক শিক্ষা সকল শিক্ষার ভিত্তি ও প্রাথমিক শিক্ষকরা মানুষ গড়ার আসল কারিগর কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য যে শিক্ষকরা এখন পর্যন্ত চরমভাবে উপেক্ষিত। তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে ঠিক কিন্তু এখনকার দিনে চলার জন্য সেটা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া শহর এলাকার শিক্ষকরা চাহিদা অনুযায়ী বেতন পায়না বলেই তারা কোচিং বাণিজ্যের দিকে ঝুকছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা দরকার
অধ্যাপক ড. রফিক উল্লাহ খানবাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 

 

মহান পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে গ্রহণ করেছিলাম। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শকে স্বরণ করি। আমাদের বর্তমান সময়ে শিক্ষার যে অবস্থা সেটা কিন্তু প্রতিটি শিক্ষকের কাছে প্রযোজ্য। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চতর শিক্ষা পর্যন্ত একজন শিক্ষকের যে দায়; এখন আর সেটা দেখা যায় না। একজন শিক্ষার্থীকে সৈজন্যবোধ, দায়িত্ববোধ, সামাজিক মুল্যবোধ, বিশেষ করে নৈতিকতার এমন একটি মানদন্ড শেখানো দরকার; যার মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থী যেন একই নৈতিকাতা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এই আদর্শ শিক্ষার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা বিপর্যয় বলবো। 
তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছে। ফলে, ভিন্ন ভিন্ন মানদন্ড তৈরি করছে। শিক্ষার একটা নৈতিক মানদন্ড থাকা দরকার। সেই মানদন্ডকে আমি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। আমাদের দেশে শিক্ষা নিয়ে যারা গবেষণা করে তাদেরকে বিষয়টি ভাবা দরকার। আমরা যখন শিক্ষক নিয়োগ করি তখন উচিত তার সমস্ত অতীত খতিয়ে দেখা। মানুষ এক দিনে নষ্ট হয় না তার একটা ইতিবৃত্ত থাকে। আমাদের শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা দরকার। ছাত্ররা শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করবে এটি নির্ভর করে শিক্ষকদের আদর্শের উপর। 
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে যে পরিমাণ উচ্চ শিক্ষার দার উন্মেচিত হচ্ছে সেই পরিমাণ যোগ্য উপাচার্য তৈরি হয়েছে কিনা সেটা ভেবে দেখা দরকার। ৬০ এর দশকে আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন শিক্ষকরা আমাদের আদর্শ ছিলো। তাদের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে পরিবেশ ছিলো তা একজন শিক্ষার্থীর মানষিক বিকাশে সহায়তা করে। কিন্তু বর্তমানে তা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। 

শিক্ষকদের নৈতিক আদর্শ বজায় রাখা উচিৎ
মো. নজরুল ইসলাম রনি, সভাপতি, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি 

 

আজ বিশ্বে একুশ তম শিক্ষক দিবস পালন করা হচ্ছে। দিবসটি বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশে পালন করা হলেও বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করে না। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ আছে। 
তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, বেতন বৈষ্যম্যের সমন্বয় ও শিক্ষক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার জন্য দিবসটির গুরুত্ব রয়েছে। আমাদের দেশে শিক্ষকদের এক হাজার টাকার গাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়; যা অন্য দেশের তুলনায় খুবই কম। আর বৈষম্যের কারণে শিক্ষার মান আজ হুমকির মুখে। এজন্য দরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা। 
তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের নৈতিক আদর্শ বজায় রাখা উচিৎ। শিক্ষকরা যদি আদর্শচ্যুত হন তাহলে তারা জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে না। নৈতিক আদর্শ বলতে আমরা যা বুঝি তার সবগুলোই শিক্ষকদের মধ্যে থাকা উচিৎ। বর্তমানে শিক্ষকদের যে নৈতিক স্খলন আমরা দেখতে পারছি যা অপ্রত্যাশিত। এখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।   

নৈতিক আদর্শ সম্পন্ন শিক্ষকের দর্শন হোক শিক্ষার্থীদের প্রতীক
অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আহমেদসরকার ও রাজনীতি বিভাগ, শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়  

 

৩৮ বছর আগে শিক্ষক হিসাবে জ্ঞানের যে আলোক বর্তিকা হাতে নিয়েছিলাম তা আজও জ্বালিয়ে রেখেছি অনেক প্রত্যাশা ও আশা নিয়ে। প্রতিবছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসই মনে করিয়ে দেয় দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি যেতে হবে বহুদূর। শিক্ষক হিসেবে সমাজের প্রতি আমি অঙ্গিকারাবদ্ধ; কারণ শিক্ষক শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি আর্দশ ও নৈতিকতার প্রতীক। তাকে কেন্দ্র করে রয়েছে ভবিষ্যতের প্রজন্ম যারা ধরবে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি। আর তাদের গড়ে তুলতে আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
মানব মনের গভীরতম অন্তরে একটা গোপন ও প্রবলতর শক্তি নিহীত রয়েছে। যে শক্তি মানুষকে সৎ পথ দেখায়, বিপদে মুক্তি দেয়, ন্যায়ের আদেশ এবং অন্যায় বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহায্য করে; তেমনি এ শক্তি খারাপ পরিণতির জন্য মানুষকে সর্তক করে পাশাপাশি পরিণতিপূর্ণ কাজে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। আর এ শক্তির নামই হচ্ছে আদর্শ ও নৈতিকতা। শিক্ষক শুধু শ্রেণী কক্ষে পাঠদান করেই কর্তব্য শেষ করেন না বরং নৈতিকতা ও আদর্শের কথা বলে প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেন। 
আমরা জানি জীবন এক অভিবাজ্য একক, কাজেই জীবনের আদর্শ ও নৈতিক দিক আমাদের সমগ্র জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই শিক্ষক একজন মানুষ হিসাবে তার আচরণকে আদর্শ ও নৈতিকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেলেই এই শিক্ষা লক্ষ্য ও আদর্শের সত্যিকার অর্থ খুজে পাবে। 
জীবনের প্রতিটি দিককে উন্নত চরিত্রের রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দেবার জন্য শিক্ষককের আদর্শ ও নৈতিকতার শিক্ষাই সবচেয়ে ফলপ্রসূ। কারণ আমি এখনো বিশ্বাস করি শিক্ষকরা এখনো অনুকরণীয় শক্তি হিসাবে গ্রহণীয়। 
বিশ্ব শিক্ষক দিবস সফল হোক। একজন নৈতিক আদর্শ সম্পন্ন শিক্ষকের দর্শন হোক শিক্ষার্থীদের প্রতীক।

প্রয়োজন মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ শিক্ষক সমাজ
অধ্যাপক তাসলিমা বেগম, সাবেক চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

 

আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। প্রত্যেকটি বিশেষ দিবসের একটি বিশেষ মাত্রা রয়েছে। এই বিশেষ মাত্রাকে সামনে রেখেই দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় আলোচিত হয়। আমার নিজস্ব বিশ্বাস প্রতিটি দিনই শিক্ষক দিবস। কারণ প্রতিটি পেশার একটি বিশেষ সময়ের অবসর আছে; কিন্তু শিক্ষকতা পেশার কোন অবসর নেই। কারণ নির্দিষ্ট পদ থেকে অবসর নিলেও একজন শিক্ষক প্রতিনিয়ত নিরন্তর শিক্ষকতা করেন। 
কারণ শিক্ষা কেবল সমাজের বদ্ধ পরিসর বিদ্যালয়ই সম্পন্ন হয় না; প্রকৃতপক্ষে সভ্যতার ঊষাকাল থেকেই সমাজের বয়স্করা ছোটদের শিখিয়ে আসছে। আমরা এটাও মনে করি যে, শিক্ষার অনেকটাই নানারূপে বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটে থাকে। যেমন: মা বাবা সন্তানদের শেখায়, বড়রা ছোটদের শেখায়, সমাজের অন্যান্য সদস্যরাও প্রতিবেশী, বন্ধু ও আত্মীয়দের শেখায়। তাই শিক্ষা হচ্ছে জীবনব্যাপী একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার ফসল জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। অর্জিত জ্ঞান অভিজ্ঞতা অনুশীলনের ফলে আচারনের কাঙ্খিত স্থায়ী পরিবর্তন হলো শিক্ষা। তবে শিক্ষা ও শিক্ষক শব্দ দুটি একে অপরের পরিপূরক। বলা হয়, শিক্ষা যদি জাতির মেরুদন্ড হয়, শিক্ষক হলেন শিক্ষার মেরুদন্ড। যেকোন বিষয় বা বস্তুর মেরুদন্ড শক্ত না হলে পুরো বিষয়টি অপরিপক্ক থেকে যায় বা শক্তিশালী হয় না। তাই শিক্ষক যদি পাকা বা দক্ষ না হন; তাহলে শিক্ষা গুণগত মানসম্পন্ন হবে না এটাই সত্য। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের একটি উক্তি এখানে উল্লেখ করতে চাই; তা হলো আগের দিনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল কাচা; কিন্তু শিক্ষক ছিলেন পাকা, আর বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে পাকা কিন্তু শিক্ষক হয়েছেন কাঁচা। এই উক্তিটির সত্যতা অনেকটাই সঠিক। কেননা প্রতিটি সমাজ পরিবর্তনশীল। সমাজের ভেতর থেকেই এর চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমান সমাজের এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হতে শুরু করেছে। কারণ কোনো সমাজই গতি স্থির নয়।
সম্প্রতিকালে আমরা যে পরিবর্তন দেখছি তা অতীতে অজানা ছিল। একদিকে পরিবর্তনের গতি অনেক বেশি, অন্যদিকে অতীতকে আঁকড়ে না ধরে তার পরিবর্তন সাধনে সমাজের মানুষের দৃঢ় অঙ্গীকার ও কর্মতৎপরতা। আমাদের শিক্ষানীতিতে জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ও সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধ জাতীয় ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও দেশের তরুণ প্রজন্মকে তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষায় পারদর্শী করে বিজ্ঞানমুখী করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। 
আমরা জানি পৃথিবীতে যে জাতি যত শিক্ষিত সে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি ততো মজবুত। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং মেধাবীদের শিক্ষকতায় আগ্রহী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। শহর ও গ্রাম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান দূরীকরণ এবং সরকার ও সমাজের যৌথ প্রচেষ্টায় বিরাজমান সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবচাইতে বেশি প্রয়োজন মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ শিক্ষক সমাজ। এক্ষেত্রে শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করার জন্য মেধাবী শিক্ষক প্রয়োজন। মেধাবীদের আকর্ষণ করার জন্য সরকারের শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও সুষম ক্যারিয়ার লিডার তৈরি করা প্রয়োজন।   


সুশিক্ষিত জাতি গঠনে মেধাবীদের এগিয়ে আসতে হবে

 আসমা খাতুন, সহকারী শিক্ষিকা, গাড়ামারা সোনারদাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 

গাড়ামারা সোনারদাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বলেন, পৃথিবীর সকল দেশের শিক্ষকসমাজের নিকট বিশ্ব শিক্ষক দিবস অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার। গোটা মনুষ্য সমাজের মধ্যে নৈতিক বিচারে শিক্ষকদের চেয়ে সম্মানিত এবং শিক্ষকতার চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পেশা আর একটাও নেই। তারা ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার এবং তাদের সুশিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু যাঁদের সান্নিধ্যে এসে বহু গুণীজন দেশ-বিদেশে অনেক মর্যাদার আসনে আসীন হচ্ছেন সেই শিক্ষকগণ আজও অবহেলিত। মেধাবী তরুণরা এই শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না এমন অবহেলার কারণে। কিন্তু একটি সুশিক্ষিত স্বনির্ভর জাতি গঠনে মেধাবীদের এগিয়ে আসতে হবে। সে জন্য শিক্ষকদের আলাদাভাবে মর্যাদা দিতে হবে। তাঁদের সামাজিক অবস্থান যেন আরো বৃদ্ধি পায় সেদিকে নজর দিতে হবে সরকার এবং অভিভাবকদের। তাঁদের জন্য একটি আলাদা বেতন কাঠামো তৈরি করে সহজভাবে জীবন ধারণ করার সুযোগ দিলে সবাই এই পেশার প্রতি মনোযোগী হবে। উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশের শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে তাদের শিক্ষাদানে আরো কৌশলী করে গড়ে তুলতে পারলে একটি সুশিক্ষিত ও কর্মঠ জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব। 

মন্তব্য