Select Category

১৩ কোটি টাকার বনভূমিতে

১০ বাড়ি ও কিন্ডার গার্টেন স্কুল!

গাজীপুরের শ্রীপুরে ১৩ বিঘা বনভূমি দখল করে বাড়িঘর ও কিন্ডার গার্টেন গড়ে উঠেছে। শ্রীপুর সদর বিটের বেড়াইদেরচালা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ দখলযজ্ঞ চললেও কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা নেই। ভোগদখল করা জমির মামলায় আদালত বন বিভাগের পক্ষে রায় দেয়ায় তা উদ্ধার করে নেয়ারও আবেদন জানিয়েছেন দখলকারীরা। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৭নং কেওয়া মৌজা এলাকায় ওই জমির পরিমাণ ৪ একর ৬ শতক।
দখলে থাকা পরিবারের পক্ষে এসএম আবুল কালাম আজাদ ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) কাছে জমি উদ্ধার করে নেয়ার আবেদন করেন। ওই আবেদনের অনুলিপি গাজীপুরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে জানা গেছে, মহান স্বাধীনতার পর থেকে এসএম আবুল কালামের পূর্ব পুরুষগণ কেওয়া মৌজার সিএস ও এসএ ৯৩৩নং দাগের ৪ একর ৬ শতক জমি ভোগ দখল করে আসছিলেন। পরে দখলীয় জমি বন বিভাগের বলে জানতে পেরে ওই পরিবারের লোকজন গাজীপুর জেলা আদালতে দখলস্বত্বে (মালিকানা নিশ্চিত হওয়ার জন্য) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিজ্ঞ আদালত বন বিভাগের পক্ষে রায় প্রদান করেন। ওই ভোগ দখলীয় জমির মালিক বন বিভাগ। এরপর থেকে দখলকারী পক্ষের মধ্যেও বন বিভাগের ওই জমি ফিরিয়ে দেয়া না দেয়া নিয়ে মতানৈক্য দেখা দেয়। ওই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই এ নিয়ে বাকবিত-া দেখা দেয়। সুষ্ঠু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ রক্ষার্থে ওই পরিবারের পক্ষে এসএম আবুল কালাম আজাদ ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে জমি উদ্ধার করে নেয়ার আবেদনটি করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ২নং সিএন্ডবি) সংলগ্ন ৭নং কেওয়া মৌজার সিএস ও এসএ ৯৩৩নং দাগের বনভূমি। সেখানে শামসুল হকের আধা পাকা ৩টি, টিন শেড ২টি ও একটি মাটির ঘর রয়েছে। যা, ভাড়া দেওয়া হয়েছে। দুই বিঘা জমির উপর একটি পুকুর রয়েছে ও বনের খোলা জায়গায় গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ‘শতদল শিশু একাডেমি’। উত্তর পাশে মাজহারুল ইসলাম নামে একজন বনের জমি দখল করে আধা পাকা ৫টি ও টিন শেডের ৩টি ঘর নির্মাণ করেছেন। আরও দুটি পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। অবশিষ্ট খালি জায়গা বাগান সৃজনসহ নানাভাবে দখলের পাঁয়তারা চলছে।
এলাকাবাসী জানান, দখলকারী শামসুল হকের ছেলে শাহীন শতদল স্কুলটি গড়ে তুলেন। বনভূমিতে তাদের পাঁচটি বাড়ি ও একটি পুকুর রয়েছে। তারা আরও জানান, দখলীয় ভূমির স্থানীয় বাজারমূল্য অন্তত ১০ থেকে ১৩ কোটি টাকা। সেলিম শেখের দাপটে অনেকে তটস্থ।
এ ব্যাপারে দখলকারী শামসুল হক জানান, আমার বাব-দাদা এসব জমি ভোগ করেছে। সেই সূত্রে আমিও ভোগ দখল করে আছি। তিনি দখলীয় জমির মালিক কি না এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি। 

শ্রীপুর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিছুল হক জানান, আমরা দখলীয় জমি উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা নিব। যত দ্রুত সম্ভব ওই ভোগ দখলীয় জমিতে সার্ভেয়ার নিয়ে মাপজোক করে বন বিভাগের জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
শ্রীপুর সদর বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম জানান, দখলকারীদের পক্ষ থেকে বন বিভাগের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য উদ্ধারে অভিযোগের কথা শুনেছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও কাগজপত্র যাচাই বাছায়ের পর জমির মালিক বন বিভাগ হলে তা উদ্ধারে সব প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  
এ ব্যাপারে ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ ইউছুফ জানান, দখলকারীদের পক্ষ থেকে বন বিভাগের জমি উদ্ধারের জন্য একটি লিখিত দরখাস্ত পেয়েছি। শ্রীপুর ফরেস্ট রেঞ্জ ও সদর বিট কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি ওই জমির মালিক বন বিভাগ হয় এবং বন বিভাগের জমি দখল করে থাকে তাহলে নিয়ম অনুযায়ী দখলীয় জমি উদ্ধার ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য