শিক্ষা

আনন্দ-উল্লাসে কাটল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

ছেলেদের পরনে রংবেরঙের টি-শার্ট  ও পাঞ্জাবি ,মেয়েদের পরনে রংবেরঙের শাড়ি। কে কেটে নেচে-গেয়ে গতকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা । ১৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে রঙিন আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি কর্তৃক উপাচার্যকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করে দিবসের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান । এ ছাড়া নানা রঙের বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা ওড়ানো হয় । পরে  বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ,পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়, ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা শোভাযাত্রা করা হয়।  এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রংবেরঙের-ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। আর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিনা মূল্যে রক্তদান ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কার্যক্রম পরিচালনা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ’বাঁধন’ ।

‘উন্নয়নের জন্য সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়  ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, নাটক পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রকাশনা উৎসব।

সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের সার্বিক সহযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ প্রতিষ্ঠিত। একাডেমিকভাবে সেশনজট মুক্ত, কারিকুলামের আধুনিকায়ন ও মেধাবী শিক্ষকবৃন্দের প্রয়াসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের ভর্তির জন্য মূল আকর্ষণ। এছাড়াও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর কোন র‌্যাগিং ও অন্য রকম অন্যায় আচরণের ঘটনা সংঘটিত হয় না। এই সকল ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সজাগ রয়েছেন।”

তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ই বাংলাদেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে ১০৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ১০১ জন অধ্যাপক পি.এইচ.ডি ডিগ্রিধারী বাকি ৩জনের ডিগ্রি প্রক্রিয়াধীন। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২০২০ সালের জুন মাসের পর কোন শিক্ষক পি.এইচ.ডি ডিগ্রি ছাড়া অধ্যাপক পদে প্রমোশন পাবে না। গবেষণায় তরুণ শিক্ষকবৃন্দ অনেক এগিয়ে গিয়েছে, প্রায় শতাধিক শিক্ষক ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডার মতো দেশে তাদের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করছেন এবং কেউ কেউ ডিগ্রি সম্পন্ন করে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।”

তিনি আরো বলেন, “অবকাঠামোগত সমস্যা থাকার পরেও আমরা অতি স্বল্প সময়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহনের স্বল্পতা দূরীকরণে সম্প্রতি একসাথে ১৫টি বাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্রয় করা হয়েছে, আর কয়েকদিনের মধ্যে নিজস্ব মালিকানায় দোতলা বাস ক্রয় করা হবে এবং বর্তমান সময়ে পরিবহনের দিক দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দের সহযোগীতার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগামী।” এসময় উপাচার্য আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  

আলোচনা সভায় রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান-এর সঞ্চালনায় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.  মোঃ শওকত জাহাঙ্গীর, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পেয়ার আহম্মেদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদা আক্তার খানম, আইন অনুষদের ডিন খ্রীস্টিন রিচার্ডসন, লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দীপিকা রাণী সরকার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলতাফ হোসেন, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হুমায়ন কবির, জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদেক, কর্মচারী সমিতির সভাপতি ইসরাফিল, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। ১১.৩০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নাট্যকলা বিভাগের তাদারকিতে শুন্যন নাট্যদলের উদ্যোগে ‘লাল জমিন’ নাটক পরিবেশিত হয়। ‘লাল জমিন’ নাটকটি মুক্তিযুদ্ধের। আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করাই ‘লাল জমিন’ নাটকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।  

এছাড়াও ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী প্রকাশনা প্রদশর্নীর আয়োজিত হয়। প্রদর্শনীতে ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ বার্তার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এছাড়াও প্রকাশনা প্রদর্শনীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থ, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগ থেকে প্রকাশিত জার্নাল, শিক্ষকদের প্রকাশিত গ্রন্থ ও অন্যান্য মুদ্রণ উপকরণ স্থান পায়।

এরপর বেলা ১২.৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের অংশগ্রহণে সামাজিক বিজ্ঞান ভবন চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এরমধ্যে নৃত্য, দলীয় সংগীত, নজরুল গীতি, লোক সংগীত উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্বতাকে সবচেয়ে গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে এবার দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত ব্যান্ড ও লোক গানের দলের ‘অভিকর্ষ’, ‘ট্রাভেলার্স’, ‘মনের মানুষ’, ‘আবোল-তাবোল’, ‘স্বপ্নবাজি’, এবং ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ ব্যান্ডদল দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাবাহকিভাবে গান পরিবেশন করছে। শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকলে উদ্বেলিত ও উৎফুল্ল হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌদ্দবছর পূর্তি উদ্যাপন করে।

মন্তব্য