আইন শৃংখলা

সমন্বিত ও কার্যকর কৌশলগত নীতি প্রণয়নসহ ৯ দফা সুপারিশ টিআইবির

 

বাংলাদেশে বৈধ ও অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশি কর্মীর প্রাক্কলিত ন্যূনতম সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ। ন্যূনতম এই সংখ্যার হিসেবে দেশ থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৬ হাজার ৪’শত কোটি টাকার রেমিটেন্স অবৈধভাবে পাচার হয়ে যায় এবং তাদের কর ফাঁকির ফলে বছরে ন্যূনতম প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। তবে বাংলাদেশে বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোনো সমন্বিত ও কার্যকর কৌশলগত নীতিমালা এবং বিদেশী কর্মী নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকার ফলে বিদেশী কর্মীর প্রকৃত সংখ্যা ও অবৈধভাবে পাচারকৃত রেমিটেন্সের পরিমাণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোন প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায় না। ‘বাংলাদেশে বিদেশীদের কর্মসংস্থান: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আজ টিআইবির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এসময় বাংলাদেশে বিদেশীদের কর্মসংস্থান সম্পর্কিত সুশাসনের চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণে নয় দফা সুপারিশ প্রদান করে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টাÑনির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনজুর-ই-খোদা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশীদের কর্মসংস্থানে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করার উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। আর এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গবেষণায় বিদেশীদের কর্মসংস্থানের আইনিকাঠামো পর্যালোচনা, বিদেশীদের কর্মসংস্থানের কারণ, ধরন ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ ও বিদেশীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বেতনভাতা সম্পর্কিত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হয়েছে।

গুণগত পদ্ধতিতে সম্পন্ন এই গবেষণায় বাংলাদেশে বৈধ ভিসায় আগত বৈধ ও অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো ধরনের ভিসা ছাড়া অবস্থানরত বিদেশীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ বা বিশ্লেষণ করা হয় নি। এছাড়া কূটনীতিক/ধর্মযাজক/গবেষক/ ছাত্র/জাতিসংঘ ও তার অঙ্গ সংগঠন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বিদেশীদের এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই গবেষণায় সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশে বৈধ ও অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশীদের কর্মসংশ্লিষ্ট খাত ও তার ব্যাপ্তি, তাদের নিয়োগের কারণ ও এর প্রভাব, নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিয়োগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের দায়িত্ব ও তাদের সমন্বয় এবং বিদেশীদের আয় সংক্রান্ত বিষয়, যেমন আয়ের পরিমাণ, কর, রেমিটেন্স ইত্যাদি বিষয় অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।  

গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ৪৪টিরও বেশি দেশের বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন খাতে কর্মরত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশসমূহ হচ্ছে-  ভারত, চীন, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস, নরওয়ে ও নাইজেরিয়া। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এদের মধ্যে ভারতের নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিদেশি কর্মী কাজ করছে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলসংশ্লিষ্ট খাতসমূহে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক এনজিও, চামড়া শিল্প, চিকিৎসা সেবা এবং হোটেল ও রেস্তোরায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি কর্মরত রয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীর প্রতি স্থানীয় মালিকপক্ষের অকারণ পক্ষপাত রয়েছে। কারখানা পর্যায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে স্থানীয় শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অনীহা থাকার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারিভাবে খাতভিত্তিক দক্ষ স্থানীয় জনবল তৈরিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ঘাটতি থাকায় নিয়োগকারীরা বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকেন বলে জানা যায়।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিদেশি নাগরিকদের আগমন, অবস্থান ও কর্মসংস্থান নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন আইন, নীতিমালা ও গাইডলাইন থাকা স্বত্ত্বেও পর্যটক ভিসা ও ভিসা অন অ্যারাইভাল নিয়ে কর্মানুমতি ছাড়াই বিদেশি নাগরিকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রে বিদেশি কর্মীর কোনো উল্লেখ থাকে না, তাদের জন্য পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। আবার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা আইন (সংশোধিত), ২০১৫ অমান্য করে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকই হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে থাকে। প্রাপ্ত তথ্যমতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কর অঞ্চল ১১Ñতে মোট ৯৫০০ জন বিদেশি কর্মী সর্বমোট ১৮১ কোটি টাকা আয় কর প্রদান করে। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুসারে দেশে কর্মরত বিদেশীদের মোট আয়ের ৩০ শতাংশ কর হিসেবে উল্লিখিত অর্থবছরে এই বিদেশী কর্মীদের মোট আয়ের পরিমান ৬০৩ কোটি টাকা হিসেবে তাদের গড় বেতন হয় ৫৩ হাজার টাকা বা ৬০০ ডলার। অথচ এই গবেষণা অনুযায়ী বিদেশী কর্মীদের প্রাক্কলিত ন্যূনতম মাসিক গড় আয় ১৫০০ ডলার বা ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। অর্থ্যাৎ, কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে বৈধ প্রক্রিয়ায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের প্রকৃত বেতন গোপন করা হয় এবং অপেক্ষাকৃত কম বেতন প্রদর্শিত হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত বেতনের এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩০%) বৈধভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়, এবং বেতনের বাকি অংশ অবৈধভাবে নগদ দেওয়া হয়ে থাকে। অন্যদিকে অবৈধভাবে কর্মরত কর্মীদের শতভাগ বেতন অবৈধভাবে নগদ, অথবা অন্য কোনো দেশের (দুবাই/সিঙ্গাপুর) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্মীর নিয়মিত হাতখরচ, আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে থাকে।  

সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দেশে অবৈধভাবে বিভিন্ন খাতে কর্মরত কমপক্ষে ২ দশমিক ৫ লক্ষ বিদেশি কর্মীর আয়ের অর্থের সিংহভাগ যার প্রাক্কলিত পরিমাণ কমপক্ষে বছরে ২৬ হাজার কোটি টাকা ও কর ফাঁকি যার পরিমাণ কমপক্ষে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা, যা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।” তিনি বলেন, “বিশাল সংখ্যক এই অবৈধ বিদেশি কর্মীরা মূলত একধরণের বহুপাক্ষিক যোগসাজশ, সংশ্লিষ্ট নীতি ও বিধিমালার প্রয়োগের ঘাটতি, নিয়োগকারী ও নিয়োগ প্রাপ্তদের অনৈতিকতা, দায়িত্বশীলদের একাংশের অদক্ষতা ও সমন্বয়ের ঘাটতির ফলেই এই অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। যার ফলে রাষ্ট্র তথা জনগণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাস্তব সুফল ভোগ করতে পারছে না, আমাদের উন্নয়নের সুফল দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে।”  

বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সাথে বিদেশিদের কাজের সুযোগ ও প্রয়োজনীয়তা স্বাভাবিক, তবে অবৈধতা অস্বাভাবিক উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, “অন্য যে-কোনো দেশের মতই বাংলাদেশেও বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে। দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল যেন দেশের অভ্যন্তরেই থাকে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। যোগ্যতাসম্পন্ন স্থানীয়দের পরিবর্তে বিদেশি নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। সঠিক ভিসা ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় কর্মানুমতি দিয়ে নিয়োগ প্রদানসহ তাদের উপার্জিত অর্থ বৈধপথে নিজ দেশে পাঠানো নিশ্চিত করা এবং যথা নিয়মে আয়কর প্রদান নিশ্চিত করে তাদের কাজের সুযোগ দিতে হবে। যারা অনিয়ম ও অবৈধতার সাথে জড়িত তাদেরকে জবাবদিহিতার আত্ততায় আনা ছাড়া বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট খাতসমূহের টেকসই বিকাশের লক্ষ্যে এক্ষেত্রে সমন্বিত নীতি কৌশল প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।”

গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে ভিসা নীতির সরাসরি লঙ্ঘনের মাধ্যমে কর্মোপযোগী ভিসা ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে কর্মপ্রার্থী বিদেশি নাগরিক সাধারণত ট্যুরিস্ট ভিসা, বা ভিসা অন অ্যারাইভাল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে কর্মানুমতি ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেয়। আবার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তারা নিজদেশে বা বাংলাদেশের পাশর্^বর্তী কোনো দেশে চলে যায়, এবং পুনরায় একই ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করে। বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সাধারণত বিদেশি কর্মী নিয়োগের পূর্বে উক্ত পদে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থী খোঁজা হয় না, এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। আবার নিয়মবহির্ভূত অর্থের মাধ্যমে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভিসার সুপারিশ পত্র এবং কর্মানুমতি দ্রুত পাওয়া যায় এমন অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশি মিশন হতেও ট্যুরিস্ট ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিয়মবহির্ভূত অর্থের বিনিময়ে ভিসার সুপারিশ পত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই এমপ্লয়মেন্ট/বিজনেস ভিসা ইস্যু করার অভিযোগ রয়েছে। কর্মানুমতি প্রদান করার পূর্বশর্ত হিসেবে নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট উভয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, এবং নিয়মবহির্ভূত অর্থ দেওয়া না হলে নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রদানে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। কর্মানুমতি পাওয়ার পর ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরূদ্ধে নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় গড়ে ২৩ থেকে ৩৪ হাজার টাকা ভিসা প্রতি লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে স্থানীয় প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং নির্দিষ্ট পদে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়। বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কর্মীর অনুপাত মানা হয় না, এবং একই প্রতিষ্ঠানে একজন বিদেশি কর্মীর সর্বোচ্চ ৫ বছরের বেশি কাজ করার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয় না। অনেকক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে বেতন-ভাতা বাবদ রাষ্ট্রের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হয়।

এই গবেষণায় প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বিদেশীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণে টিআইবি ৯ দফা সুপারিশ উত্থাপন করে। উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলোÑ বাংলাদেশে বিদেশি কর্মীর নিয়োগে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত কৌশলগত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে; বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সকল তথ্য কার্যকর উপায়ে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুবিধার্থে সকল আগমন ও প্রত্যাগমন পথে সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের সুযোগ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে প্রতি মাসেই ইস্যুকৃত ভিসার শ্রেণি অনুযায়ী বিবরণী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো, বাংলাদেশের ‘পোর্ট অব এন্ট্রি’ যেমনÑ বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে অবস্থিত ইমিগ্রেশন অফিসকে বিদেশীদের আগমন ও নির্গমন তালিকা প্রতিমাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা, ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সংখ্যা সমন্বয়ের জন্য দূতাবাস প্রেরিত তালিকা এবং বিমান বা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন অফিস প্রেরিত তালিকার সমন্বয় করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা কর্তৃক আগত সকল বিদেশীর একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে; বিদেশি কর্মীদের ভিসা সুপারিশ পত্র, নিরাপত্তা ছাড়পত্র, কর্মানুমতি এবং ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত সেবা প্রদানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করতে হবে; বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন সীমা হালনাগাদ করতে হবে; বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি মিশনে ভিসা প্রদানে অনিয়ম বন্ধ করতে হবেÑ মেশিন রিডেবল ভিসা ব্যতীত অন্যান্য প্রক্রিয়ায় ভিসা (সিল) প্রদান বন্ধ করা; বিদেশি কর্মীদের তথ্যানুসন্ধানে বিভিন্ন অফিস/কারখানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিডা ও পুলিশের বিশেষ শাখার সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করা; খাতভিত্তিক বিদেশি কর্মীর চাহিদা নিরূপণ করতে হবে, এক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের পূর্ব শর্তসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করা; শিল্পখাতের বিকাশের সুফল গ্রহণে স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা; এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাতভিত্তিক স্থানীয় মানবসম্পদের দক্ষতা ও যোগ্যতার উন্নয়নে নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা ইত্যাদি।

মন্তব্য