অর্থ-বাণিজ্য

“ফিনান্সিয়াল হেল্থ এন্ড ইটস্ রিলেভেন্স ইন দ্য ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ড” শীর্ষক আই-থ্রি (র৩) রিজিওনাল লার্নিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত

 

১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২০ এমএসসি (মাইক্রোসেভ কনসাল্টিং) আয়োজন করেছে “ফিনান্সিয়াল হেল্থ এন্ড ইটস্ রিলেভেন্স ইন দ্য ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ড” শীর্ষক আই-থ্রি (র৩-ইনোভেট, ইমপ্লিমেন্ট, ইমপ্যাক্ট) রিজিওনাল লার্নিং ইভেন্ট। মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আজ ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২০, সকাল ৯.৪৫ টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও -এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারী ও বেসরকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সেবাদানকারীদের অংশগ্রহণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্যবহারকারী, সরবরাহকারী, দাতা এবং নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি থেকে শুরু করে আর্থিক সক্ষমতায় বিদ্যমান বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়তার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন।
ফিনান্সিয়াল হেল্থ নেটওয়ার্কের মতে, আর্থিক স্বাস্থ্য বা ‘আর্থিক সক্ষমতা’ হল একজন ব্যক্তির আর্থিক জীবনের একটি পরিমাপক। ক্রেডিট স্কোরগুলির মতো সংকীর্ণ মেট্রিকগুলির (বা আর্থিক পরিষেবাগুলির অ্যাক্সেস এবং ব্যবহার) বিপরীতে, আর্থিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন হয় মানুষের ব্যয়, সঞ্চয়, ঋণ গ্রহণ এবং এমনভাবে পরিকল্পনা করে যা তাদেরকে স্থিতিশীল হতে সক্ষম করে এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করে।

নিয়ন্ত্রক থেকে শুরু করে ব্যাংকার, মাইক্রো-ফিন্যান্স প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে ফিনটেক উদ্যোক্তা ও মোবাইলে আর্থিক সেবা সরবরাহকারীসহ ৭০ জনেরও বেশি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এই আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাননীয় সিনিয়র সচিব মো: আসাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে.এম. আবদুস সালাম।

এমএসসি’র গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর গ্রাহাম এ. এন. রাইট এর সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মেজবাউল হক; ডিএফআইডি- বাংলাদেশের সিনিয়র পিএসডি উপদেষ্টা এবং টিম লিডার মহেশ্বর মিশরা; মেটলাইফ বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ হাম্মাদুল করিম; ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হুসাইন এবং বিকাশ লিমিটেডের সিইও কামাল কাদির।

সরকারী ও বেসরকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সেবাদানকারীদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের আর্থিক পরিবেশ কীভাবে সংশ্লিষ্ট জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতি করতে পারে, সে বিষয়ে তারা আলোকপাত করেন। বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো ও তাদের সহায়তা করার সম্ভাব্য সুযোগগুলি সনাক্ত করতেও বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেন। শিল্প বিশেষজ্ঞরা তাদের গ্রাহকদের সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করা এবং ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে নারীদের আরও কিভাবে ভালো সেবা দেয়া যায় সে ব্যাপারেও মত দেন।

এমএসসির গ্রাহাম এ. এন রাইট বাংলাদেশের আই-থ্্ির (র৩) প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত কিছু আঞ্চলিক গবেষণা সম্বন্ধে জানান। মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক কৃষ্ণা ঠাকুর গ্লোবাল সাউথে আর্থিক স্বাস্থ্যের ভূমিকা এবং এর প্রাসঙ্গিকতার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেন।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক সংলাপটি গত এক দশকে আরও তীব্র হয়েছে। এখন আর্থিক সক্ষমতার উপর ফোকাসের সঙ্গে সঙ্গে সর্বোত্তম উপায়ে সম্ভাব্য গ্রাহকদের কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটি সন্ধান করতে শুরু করেছেন মূল অংশীজনেরা, যা গ্রাহক এবং সেবা প্রদানকারী উভয়ের প্রয়োজন মিটাবে। অ্যাকাউন্টের মালিকানা এইভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে ১০০% আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অর্জনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে। এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আর্থিক পরিষেবাগুলি পেতে অ্যাকাউন্টগুলির ব্যবহার বাড়েনি। উদাহরণস্বরূপ, সর্বশেষ ইন্টারমিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়ষ্ক জনসংখ্যার ৪৭% মানুষ একটি নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টের মালিক ছিল। এবং বেশিরভাগই (৮০%) তাদের পরিবারের এক কিলোমিটারের মধ্যে আর্থিক পরিসেবার অ্যাক্সেস পয়েন্ট সম্পর্কে সচেতন ছিল। এটি প্রমাণ করে যে, অ্যাক্সেস ফ্রন্টলাইনে বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।

যাহোক, বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য মতে মাত্র ৯.৯ শতাংশ বাংলাদেশি কোন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ সঞ্চয় করেন, যেখানে ৯.২ শতাংশ জনগন কোন অর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ গ্রহণ করে অথবা তাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে থাকেন। উপরন্তু,  মাত্র ৩৪.১ শতাংশ লোকজন ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন করেন।
মেটলাইফ ফাউন্ডেশন তাদের এই আই-থ্্ির (র৩) প্রোগ্রাম বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম শুরু করেছে এমএসসি’র সাথে এবং মালয়েশিয়া ও চীনের ‘ইউনাইটেড ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ এর সাথে যুক্ত হয়ে। প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের গ্রাহকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধন করা। বাংলাদেশে আইথ্্ির (র৩) প্রোগ্রামের কিছু সহযোগী / অংশীদার প্রতিষ্ঠান  হলো অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই), বিকাশ, শিউরক্যাশ, ডিমানি এবং আইপে।
আইথ্্ির (র৩) প্রোগ্রাম ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগে, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মা প্রয়োজন, আকাক্সক্ষা ও জীবনমানের উন্নয়ন এবং গণমানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে।

মাননীয় সিনিয়র সচিব জনাব মো. আসাদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, জিডিপি বৃদ্ধির দিক থেকে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে। দেশের মাথাপিছু আয় ৩০০ ইউএস ডলারে উন্নিত হয়েছে। দেশে এখন সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৬০ টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু সাধারন জনগনের বেশিরভাগ এখনো ব্যংকিং সেক্টরের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারেনি। সাধারন জনগনকে অর্থনৈতিক অন্তুর্ভূক্তির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অন্তুর্ভূক্তিকে সহজ করতে টেকনোলজির ব্যবহার সহজ ও সাবলীল হওয়া জরুরী। এর পাশাপাশি অবশ্যই গুনগত মান বজায় রাখতে হবে। তিনি মুজিব বর্ষে মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের সাথে কোয়ালিটি পার্টনারশিপ এর আশা প্রকাশ করেন।

মেটলাইফ বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক জনাব সৈয়দ হাম্মাদুল করিম বলেন, আমার অত্যন্ত ভালো লাগছে যে আমরা এখন আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে আলাপ করছি। এমন মত-বিনিময়ের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে কি করে মানুষ আর্থিক ভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দেশের অন্যতম বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা এই ধরণের উদ্দ্যোগকে স্বাগত জানাই।

গ্রাহাম এ. এন. রাইট বলেন, আর্থিক সক্ষমতার ওপর দৃষ্টি দিলে এটি আমাদের একটি বৃহত্তর প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করে যে, অর্থনৈতিক অন্তুর্ভূক্তি কি জন্য? অনেক দিন যাবত আমরা ধরে নিয়েছি, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের লোকদের  জীবনমান উন্নতির ওপর ভিত্তি করে শুধু একটি ব্যাংক একাউন্ট অথবা ঋণ নেয়া।

আর্থিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যক্তি পর্যায়ে ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এমএসসি সর্বাতœক সহযোগীতা করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। এজন্য মেটলাইফ বাংলাদেশের মতো অন্যন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মন্তব্য