সারা বাংলা

দৈনিক সকালের সময়ে সংবাদ প্রকাশের জের

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার দায়ে সাড়ে ৫ কোটি টাকা জরিমানা

জেলার সীতাকুন্ড এলাকায় পাহাড় কর্তনের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস পরিবেশের ক্ষতি করায় এক্সপেক্টা ইঞ্জিনিয়ারিং  লিমিটেডকে ৫ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক  রুবিনা  ফেরদৌসী এর কার্যালয় একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হলে শুনানিতে  ইউনিভার্সিটি ওমেন্স সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটি ৩৮ লক্ষ ২৯ হাজার ৫৫৩ টাকা জরিমানা করে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার  এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিল দৈনিক সকালের সময়। সেই সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে  বক্তব্য দিয়েছিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এরই প্রেক্ষিতে অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর।  পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোজাম্মেল হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে আরো বলা হয়েছে  এক্সপেক্টা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড কোম্পানি এই আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানের  বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গত ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি তারিখে প্রকল্প বাস্তবায়ন কালে বিভিন্ন মৌজা দাগ নম্বর ৩৫৭,৩৫৮,৩৫৯ এর কিছু পাহাড় কাটা হয়েছিল ১০০০ ফুট লম্বা ২০ ফুট চওড়া এই কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কাগজ দাখিল করার জন্য বারবার সময় দিলেও তা প্রদানে ব্যর্থ হলে উক্ত প্রতিষ্টনকে  তৎকালীন ১০কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করে পরিবেশ অধিদপ্তর। যা পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার  উপ-পরিচালক ডাক্তার আব্দুল আল মামুন এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বায়েজিদ সড়ক থেকে ফৌজদারহাটের ঢাকা ট্রাংক রোড পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের বাইপাস সড়ক নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সিডিএ’র কাছ থেকে কাজ পেয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সপেক্টা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।ফৌজদার হাট সড়ক দিয়ে অর্ধকিলোমিটার প্রবেশ করলে হাতের বাম পাশে দেওয়াল নির্মান করে পাহাড় কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এক্সপেক্টা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর এক্সপেক্টা গ্রুপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মোঃ মমতাজ উদ্দিন এবং ম্যানেজার মোঃ রবিউল হোসেন। তাদের দু জনের নামে ক্রয়কৃত ৩৫৯ নং দাগের জায়গাটি চারিদিকে দেওয়াল নির্মাণ করে ভিতরে দুটি পাহাড় সম্পূর্ণ কেটে ফেলেছেন। এই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এক্সপেক্টা গ্রুপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মোঃ মমতাজ উদ্দিন।   এর পরে থেকে তারা কেউই ফোন রিসিভ করেন নি। এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর এর চট্টগ্রাম অঞ্চল এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বলেন বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত ছিলাম না। তবে তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


হিল কাটিং ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী পাহাড়ের ঢাল ২৬.৬ ডিগ্রী কোনে পাহাড় কাটার বাধ্যতামূলক থাকলেও অধিকাংশ পাহাড় ৯০° ডিগ্রি কোণে আড়াআড়িভাবে কর্তন করা হয়। পাহাড় গুলো বালি মাঠে প্রধান হওয়ায় পাহাড়ের অংশগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে  রাস্তাটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ মাসেই গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তাটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। কাটিং ম্যানেজমেন্ট অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাস্তাটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও পাহাড় ধসে ব্যাপক জানমালের ক্ষতিসাধন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

মন্তব্য