সারা বাংলা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

আ'লীগ-বিএনপি নেতাদের মনজুর মন জয়!!!

আওয়ামী লীগ-বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মন জয় করে টানা তিনবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও একবার  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন সাবেক মেয়র মনজুর আলম। তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান মনজুর আলম যেভাবে হউক যে কোন দলের সিনিয়র নেতাদের মন জয় করার যোগ্যতা রয়েছে। যে কান কিছুর বিনিময়ে মনোনয়ন ছিনিয়ে নেয়ার কৌশল তার হাতে রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পােরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন ফরমও নিয়েছে তাঁর মধ্যে তিনিও আছেন। তবে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার তেমন সম্ভাবনা না থাকায় বিএনপির ডাকের অপেক্ষায় রয়েছেন সাবেক এই মেয়র।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পােরেশনের নির্বাচনে ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে সাবেক মেয়র মনজুর আলম তৎকালিন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র এ.বি.এম মহিউদ্দীন চৌধুরীকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে  মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের দিকে মেয়র মনজুর আলমকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও মনোনিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র মনজুর আলমকে মনোনয়ন দেয়া হলে নির্বাচনে বিএনপি মাঝ পথে সরে দাড়ালে মেয়র নির্বাচিত হন বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।নির্বাচনের দিন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সাবেক মেয়র ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনজুর আলম যুক্ত না থাকার বিষয়টি ঘোষনা দেন। বিএনপির রাজনীতির আনুষ্ঠানিক কোন কর্মসূচিতে দেখা না গেলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও সরাসরি যুক্ত হতে দেখা যায়নি। মনজুর আলম এখনো মনে করেন, যে দল থেকে ডাক পাবেন সেই দলের হয়ে নিবাচন করার মত প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন।নির্বাচন করার বিষয়ে সাবেক সিটি মেয়র ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা মনজুর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেন তবে কোন পার্টি থেকে নির্বাচন করবেন জানতে চাইলে পরে কথা বলবেন জানিয়ে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে মেয়র মনজুর আলমের পুত্র সরওয়ার আলম বলেন, নির্বাচন করার জন্য আমরা পারিবারিকভাবে প্রস্তুুত আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে দলীয় ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে, তবে বিএনপির সাথে গত নির্বাচনের পর থেকে যোগাযোগ না থাকায়  মনোনয়ন চাইলে পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তিনি স্বীকার করেন।  

উল্লেখ্য সাবেক সিটি মেয়র ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা মনজুর আলম, চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব দিদারুল আলমের আপন চাচা, ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে চাচা ভাইপোর মধ্য দ্বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।গত  ২০১০ সালের নির্বাচনে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়ে নিজের রাজনৈতিক গুরু এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় ৯৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হয়েছিলেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর।তার আগে মনজুর আলম তিন দফায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর (কমিশনার) ছিলেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে বিভিন্ন সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়রেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মন্তব্য