সারা বাংলা

সীতাকুন্ডে পার্কিং ছাড়া গড়ে উঠছে বাস কাউন্টার, ঝুকিপূর্ন হয়ে উঠেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

মহাসড়কের সীতাকুন্ড অংশজুড়ে পার্কিং ব্যাতীত ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে বাস কাউন্টার। কোনো প্রকার আইনের তোয়াক্কা না করে কাউন্টার সমূহ গড়ে উঠায় মহাসড়কে চলাচল হয়ে পড়েছে ঝুকির্পূন। সে সাথে দারগারহাট হতে চট্টগ্রাম শহরের ৩৭ কিলোমিটার পথে যত্রতত্র কাউন্টার গড়ে উঠায় দুর্ঘটনার সাথে প্রতিনিয়ত ঘটছে হতাহতের ঘটনা। অথচ রাস্তার পাশ ঘেষে বে-আইনিভাবে কাউন্টারগুলো গড়ে উঠলেও নজরধারীর প্রয়োজন মনে করছে না হাইওয়ে পুলিশ। ফলে গত কয়েক বছরে সদর বাইপাসসহ মহাসড়কের একাধিক স্থানে গাড়ি দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে পড়েছে বহু প্রাণ।

আইন অনুযায়ী কাউন্টার করতে পার্কিং ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানছে না কাউন্টার ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় আইনের প্রয়োগ না থাকায় সিটি গেইট হতে দারগারহাট এলাকায় রাস্তার পাশ জুড়ে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে দুরপাল্লার বাসের টিকেট কাউন্টার। বিভিন্ন ব্যাক্তি-প্রতিষ্ঠান পার্কিং ব্যবস্থা না রেখে বে-আইনি কাউন্টার গড়ে তুলায় মহাসড়কের একাধিক স্থান হয়ে উঠেছে ঝুকিপূর্ন। আর এসব অবৈধ কাউন্টারের ঝুকিপূর্ন স্থান দিয়ে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঘটছে ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনা।

সূত্র মতে, পৌরসদর বাইপাস সড়কে অবৈধভাবে কাউন্টার পরিচলানায় কাভার্ডভ্যানের নিচে চাপা পড়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যু বরন করেছে এক শিশু। একইভাবে দু-সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুর কবলে পড়ে ত্রিপুরা দুই অধিবাসী। এছাড়া গত কয়েক বছরে চলন্ত গাড়িতে চাপা পড়ে অকালে মৃত্যুর কুলে ঝরে পড়েছে একাধিক পথযাত্রী। অথচ অবৈধ কাউন্টারে বাইপাস সড়কটি মৃত্যুকুপে পরিনত হলেও নেই কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা। তবে প্রশাসনের সহযোগীতায়কাউন্টারগুলো পরিচালিত হওয়ায় আইনের প্রয়োগ নেই বলে অভিযোগ অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের।

পথচারীরা বলেন,‘ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাত্রী পারাপারের কাউন্টার ভিত্তিক গাড়িগুলো যাত্রী উঠা-নামায় দখলে নেয় মহাসড়কের অর্ধাংশ। ফলে দাড়িঁয়ে থাকা গাড়ির কারনে রাস্তা পারাপারের সময় চোখে পড়ে না পেছনে থাকা চলন্ত গাড়ি। এ পরিস্থিতিতে যতক্ষন পর্যন্ত কাউন্টারের বাস ছেড়ে না যাই, ততক্ষন দাড়িঁয়ে থাকতে হবে রাস্তায়। আর এসব গাড়ির রাস্তা দখলের ফলে বাইপাসটি ঝুকির্পূন হয়ে উঠেছে বলে জানান তারা।

এদিকে, সদর বাইপাস সড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুঝুকি বাড়তে থাকায় কাউন্টার সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পৌরসভা। কিন্তু সড়ক জনপদ ও প্রশাসনের সহযোগীতার অভাবে কাউন্টারগুলো সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান পৌর মেয়র আলহাজ্ব মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম। অথচ বাস কাউন্টার সরানোর কথা বলা হলেও প্রতিনিয়ত ব্যবসার ট্রড লাইসেন্স দিয়ে চলেছেন পৌরসভা।

এ বিষয়ে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল আউয়াল বলেন,‘ মহাসড়ক নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে হাতে নেয়া হয়েছে একাধিক পরিকল্পনা। ইতিমধ্যে শিল্প মালিকদের সাথে মত বিনিময় করে পার্কিংয়ের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।’ তবে জনগন সচেতন না হলে আইন প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

মন্তব্য