বিশেষ খবর

ছাত্র রাজনীতিতে বিমুখ শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতি এক বিড়ল দৃষ্টান্ত। ১৯৯১ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল এ দেশের ছাত্র সমাজ। তবে কী ৯১’র সেই আন্দোলনই শেষ? এরপর গত ২৯ বছরে বাংলাশের ছাত্র সংগঠনগুলো তেমন কোনো ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেনি। অতীতের সেই গৌরব ছাত্র সংগঠনগুলো কী ভবিষ্যতে ধরে রাখতে পারবে? বর্তমান ছাত্র রাজনীতির যে করুণ অবস্থা, তাতে এ দেশের ছাত্র সমাজকে নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতি থেকে একেবারেই যে বিমুখ এই কথাটার সাথে আমি একমত নই। তবে বর্তমান ছাত্র রাজনীতি থেকে শিক্ষার্থীরা কিছুটা বিমুখ এটা সত্যি। তবে এর কিছু কারণও অবশ্য রয়েছে। প্রথমত বর্তমানে এদেশের ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্র রাজনীতিকে নষ্ট করে ফেলছে। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে ছাত্র সংসদ নেই। যে কারণে ছাত্ররা ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক রাজনীতিটা করতে পারছে না। একটা বিশ^বিদ্যালয়ে কতগুলো ছাত্র সংগঠন আছে তা বোঝা যাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময়। নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করবে এবং সব ছাত্র সংগঠনগুলো তখন চাঙ্গা হয়ে ওঠবে। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সেই সুযোগটা এখন আর নেই। যে কারণে ছাত্ররা বর্তমান রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে থাকতে চায়। 
নোবেল বলেন, এই ছাত্র রাজনীতি একটা সময় ছাত্র আন্দোলন ছিল, ছাত্র রাজনীতি ছিল না। ছাত্ররা জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করত, ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করত। কিন্তু এখন সেই আন্দোলন আর নেই। এখন সেই রাজনীতি  হয়ে গেছে লেজুরভিত্তিক।  
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতি এক বিড়ল দৃষ্টান্ত। কিন্তু ছাত্র রাজনীতির সেই ইতিহাস বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর কারণে মুছে যাচ্ছে। 
ছাত্র ইউনিয়নের এই সভাপতি আরো বলেন, আমি চাই বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি আবার সেই আগের মতো গর্জে উঠুক। ছাত্র রাজনীতিতে স্বাধীনতা ফিরে আসুক এবং ছাত্ররা যেন স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারে।  

 

মন্তব্য