সারা বাংলা

শ্রীমঙ্গলে করোনা প্রতিরোধে র‌্যাব

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল চৌমুহনার এক কোণে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য যা কখনো দেখা যায়নি। পথচারীরা রাস্তার পাশে রাখা বেসিনে সাবান, হ্যান্ডওয়াশ এবং পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করছেন। পাশেই ব্যানারে লেখা ‘নিরাপদ কর্নার’। এই ‘নিরাপদ কর্নার’ স্থাপনের সৃজনশীল উদ্যোগটি নিয়েছেন শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম। শুক্রবার (২০ মার্চ) স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রামণ প্রতিরোধে এবং ‘হাত ধোয়ার অভ্যাস’ ব্যাপকভাবে জনগণের মধ্যে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়। বিকেল তিনটায় সরেজমিনে শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার চৌমুহনা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণি- পেশা ও বয়সের অসংখ্য নারী-পুরুষ নিরাপদ কর্নারে এসে বিপুল আগ্রহ নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিচ্ছেন। পথচারীরা এ সময়োপযোগী উদ্যোগকে সমর্থন করেন এবং র‌্যাব কর্মকর্তা কর্তৃক গৃহীত এ প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। র‌্যাব কমান্ডার আনোয়ার হোসেন শামীম সামাজিক দায়বদ্ধতা ও কর্তব্যে জায়গা থেকে প্রতিবন্ধী থেকে শুরু করে পথচারীদের কোভিড-১৯ সম্পর্কে সতর্ক এবং সচেতন থাকার পরামর্শ দেন এবং সকল প্রকার গুজব এড়িয়ে সময়ে সময়ে সরকার নির্দেশিত নির্দেশনা ও পরামর্শগুলো যথাযথভাবে পালন করার জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় সমাজের বেশকিছু সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে করোনা প্রতিরোধী মাস্ক বিতরণ করা হয়।
‘নিরাপদ কর্নারে’ হাত ধুতে আসা ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে র‌্যাবের এএসপি সাহেব যেভাবে জাতির এই কঠিন পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। গণসচেতনতামূলক বক্তৃতা-বিবৃতি বা লিফলেট বিতরণের কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এরকম ছোট ছোট উদ্যোগ যদি সব জায়গায় গ্রহণ করা যায় তাহলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তা আরো অধিক ফলপ্রসূ হবে বলে আমার পূর্ণ বিশ্বাস।
এ প্রসঙ্গে এ প্রকল্পটির উদ্যোগ গ্রহণকারী  র‌্যাব-৯’র এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, ‘আসলে দেশবাসীর এই কঠিন মুহূর্তে তাদের জন্য কিছু করার ব্যক্তিগত তাড়না থেকেই উদ্যোগটি নেওয়া। আমি হয়তো একটি মাত্র নিরাপদ কর্নার চালু করতে পেরেছি কিন্তু আমার বিশ্বাস দেশের যুব সমাজ এগিয়ে এলে সারাদেশেই এই নিরাপদ কর্নারের ধারণাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। আমি এই কাজে তরুণদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছি। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘এ পদক্ষেপটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জনস্বার্থে গৃহীত এ পদক্ষেপটি মানুষের উপকারে অবশ্যই আসবে। আমি এ উদ্যোগকে বেগবান করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

মন্তব্য