সারা বাংলা

আগুনে পুড়ল শাহিনের স্বপ্ন

টঙ্গীতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল শাহিন আলমের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন। গতকাল শনিবার গভীর রাতে টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া টেকবাড়ী এলাকায় চিশতীয়া স্টোর নামে এক মুদি দোকানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দোকানের আগুন লাগার পরপরই দোকানের সাটারে কারেন্ট লেগে যায়। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। তবে ৪৯ ও ৫০নং ওয়ার্ডে ঢোকার মূল সড়কটি কে বা কাহারা তালাবন্ধ করে রাখায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে বিঘ্নতা ঘটে পরে অন্য সড়ক দিয়ে গাড়ি আসতে দোকানের সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস এসে ১০-১৫ মিনিটে আগুন নিভিয়ে ফেলে। 
এ ঘটনায় টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা ঘটনা স্থলে যাই। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিভাতে সক্ষম হই। দোকানে থাকা সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।  প্রাথমিকভাবে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। 
এলাকাবাসী জানায়, শাহিন আলম বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার হোসনাবাদ গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই শাহ্ আলম, ছোট দুই বোন ও মা শাহানারা বেগমকে নিয়ে জীবন যুদ্ধ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০১৪ইং সালে টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় স্বল্প টাকায় চায়ের দোকানের মাধ্যমে সংসার চালাতো শাহিন আলম। খেয়ে না খেয়ে ভাই ও মাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দোকান চালিয়ে ছোট এক বোনকে বিয়ে দেয় শাহিন। দোকান থেকে আয় করে সেই টাকা দিয়ে দোকানের মালামাল বৃদ্ধি করত। এছাড়া ব্যবসার জন্য শাহিন শক্তি, আশা ও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে প্রায় চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল ক্রয় করেছে। চিশতিয়া স্টোর এলাকার সকলের পরিচিত বর্তমানে তার দোকানে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি টাকার মালামাল ছিল যা গত রাতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। 
দোকানদার শাহিন আলম জানান, খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে এই দোকান করেছি। আমার জীবনের সর্ব উপার্জন শেষ হয়ে গেছে। এখনো ছোট বোনকে বিয়ে দিতে পারি নাই। মা, ভাই, বোনকে নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো কার কাছে যাব। 

 

মন্তব্য