নগর-মহানগর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 60391 12804 811
বিশ্ব 6,714,335 3,261,276 393,408

রাজধানীর তুরাগে ইনট্রাস্ট ফ্যাশন লি: শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করায় বিক্ষোভ

রাজধানীর তুরাগে নয়ানগর চেয়ারম্যান বাড়ি মোড় এলাকায় ইনট্রাস্ট ফ্যাশন লি: শ্রমিকরা চাকুরিচ্যুত করায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। গতকাল সকালে শ্রমিকরা কারখানার সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। কারখানাটিতে প্রায় এক হাজারেও অধিক শ্রমিক কাজ করে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশী শ্রমিককে আর কখনোও কারখানায় না আসার কথা বলা হয় এবং তাদের কার্ড ও ইউনিফরম জোর পূর্বক নিয়ে যায় কারখানা মালিকের নিজস্ব স্টাফরা। শ্রমিকরা সকলেই বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে এসে জীবিকার তাগিদে এই কারখানায় কাজ করতো ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ভাড়াটিয়া। লক ডাউনের কারণে এদের কোথাও যাওয়ার মতো কোন অবস্থা ও নেই।   

শ্রমিকরা জানায়, গত ৯ এপ্রিল মার্চ মাসের বেতন দেওয়ার সময় কমপ্লেক্স ম্যানেজার মিজানুর রহমান সাদা কাগজে আমাদের কাছ থেকে ৫/৬টি করে স্বাক্ষর নেয় এবং ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়ার কথা বলে আইডি কার্ডগুলো ও ইউনিফর্ম নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি যে, প্রত্যেকটি কাগজই সাদা ছিল। উপরে থাকা কাগজের একাংশ উচু করে আমাদের কাছ থেকে এ স্বাক্ষরগুলো নেয়া হয়। এ সময় কারখানার এমডি মো: আখতারুজ্জামান বলেন তোমরা তোমাদের গ্রামের বাড়িতে চলে যাও অফিসে আর আসার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে এমডি আখতারুজ্জামান বলেন, যদি স্বাক্ষর না দাও তাহলে কাউকে মার্চ মাসের বেতনও দেওয়া হবে না।

এরই প্রতিবাদে গতকাল শ্রমিকরা কারখানার সামনে চাকুরীর দাবী করে আইডি কার্ড ও ইউনিফর্ম ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কোন শ্রমিককে যেন চাকুরীচ্যুত করা না হয়। এব্যাপারে বিজিএমএ থেকেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া সত্যেও কারখানা কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক চাকুরীচ্যুত করছে। সারাদেশে চলছে লকডাউন এমন অবস্থায় আমরা কোথায় যাবো, কি খাবো? আমরাতো চাইলে গ্রামের বাড়িতেও যেতে পারবো না। চাকুরী বাঁচাতে আমরা এমন ভয়াবহ অবস্থায় নিজেদের গ্রামের বাড়িতে না গিয়েও ঢাকায় অবস্থান করছি।

এই চাকুরীটুকুই আমাদের সংসার চালানোর একমাত্র মাধ্যম। দেশের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানবিক দৃষ্টি রেখে আমাদের যেন চাকুরীচ্যুত না করা হয় এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিজিএম যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মালিক পক্ষের নিজস্ব স্টাফ রবিউল ইসলাম পলাশ, তানিয়া, ইউনুছসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিকদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে যাতে করে তারা কোন ধরনের আন্দোলনে না জড়ায় এবং শ্রমিকরা যেন কারখানার সামনে না আসে। এতে তাদের যে কোন বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এ বিষয়ে কথা বললে কারখানার এমডি মো: আখতারুজ্জামান বলেন, শ্রমিকরা যা বলেছে তা সঠিক নয়। আমি সকলের কাছ থেকে সাক্ষর নিয়েছি। কারখানা চালু হলে শ্রমিকরা পুনরায় কারখানায় কাজ করতে পারবে।
এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা তুরাগ থানার এস আই সাইফুল ইসলাম বলেন, ভাইরাসের কারণে দেশের অবস্থা খুবই খারাপ, এ কারণে শ্রমিকদেরকে কারাখানায় আসতে নিষেধ করা হয়েছে। এতে দোষের তো কিছু দেখি না।

 

মন্তব্য