সাহিত্য

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 40321 7925 559
বিশ্ব 5,803,658 2,508,944 357,712

একজন মা এবং বিশ্ব মা দিবস

মানুষ হঠাৎ একটু আঘাত বা কষ্ট পেলেই, হুট করে বলে উঠে, উহঃ মাগো!! 

অর্থাৎ মা শব্দটা অবচেতন মনে হৃদয়ের গভীর থেকে বের হয়ে আসে। পৃথিবীতে যার কোন তুলনা এ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি।

প্রথম স্পর্শ মা', প্রথম পাওয়া মা', প্রথম শব্দ মা', প্রথম দেখা মা' , সন্তানের জান্নাত মা।

সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্কের নাম মা'।

সবচেয়ে পবিত্র ও মধুর শব্দের নাম মা'।

মমতা, নিরাপত্তা, অস্তিত্ব, নিশ্চয়তা ও আশ্রয়ের নাম মা'।

অথচ এই ব্যক্তি মা' আমাদের সমাজে কতটাই অবহেলিত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, নিষ্পেষিত। যখন এই মাকে একজন মেয়ে, নারী, বঁধু হিসেবে দেখা হয়, তখনই যেন তার অর্থ পরিবতিত হয়ে যায়। সন্তানের কাছে মা' অনেক বড় কিছু। অথচ ঐ মা' ই যখন একজনের স্ত্রী, এক সংসারের বউ, তখন কত দোষ তার!

ঐ মা কত পূত পবিত্র, কিন্তু সংসারে কত অবহেলিত।
একজন সন্তান জন্ম নেয় একজন মায়ের গর্ভে। কিন্তু এই সন্তান যদি এক মেয়ে হয়ে জন্মায় ? তখন থেকেই শুরু হয়ে যায়, একটু বাঁকা নজরে দেখা, সেই সাথে ঐ মেয়ের মাকেও। বড় হবার সাথে সাথে পুরুষের লালসার দৃষ্টিতে নাজেহাল হতে থাকে। পরিবারের সবার কাছ থেকে একটু একটু অবহেলা পেতে পেতে নিজের বলে আর কিছুই যেন ভাবতে পারে না। নিজের বলে থাকেও না কিছু। তারপর আসে বিয়ে, সংসার, শ্বশুর বাড়ির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার এক জীবন যুদ্ধ। মা' হবার পরে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে যায়।
মায়ের নুন্যতম সম্মান প্রদর্শন করতেই 'বিশ্ব মা' দিবসে'র স্বীকৃতি

দেয়া হয়। এ দিবসের পেছনে রয়েছে মার্কিন এক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য রক্ষাকর্মী আনা জার্ভিসের দীর্ঘ ইতিহাসের গল্প। ১৯০৭ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আনা জার্ভিসের মা অ্যান জার্ভিস মারা যান। ১৯০৮ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার (১০ মে) সকালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফিটন শহরে অবস্থিত একটি চার্চে ও বিকেলে তার নিজের শহর ফিলাডেলফিয়ায় মা দিবস পালন করেন তিনি। এরপর আমেরিকার প্রত্যেকটি অঙ্গরাজ্যের সরকারের কাছে তিনি দিবসটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার অনুরোধ জানান।

১৯১২ সালেই আমেরিকার কিছু অঙ্গরাজ্যে দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা দেয়। আর ১৯১৪ সালে এসে উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবসের মর্যাদা দিয়ে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ওইদিনটি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।*১৯৬২ সালে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবসের স্বীকৃতি পায়।  
একজন মা, একজন অভিভাবক, একজন স্ত্রী, একজন গৃহিণী, একজন উপার্জনশীল ব্যক্তি, একজন রাঁধুনি, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, একজন বন্ধু।
 

নারীর পরিচয় আড়াল রাখতে সমাজ, ধর্ম, আইন- কত না পদ্ধতি, কত না ব্যবস্থা রয়েছে ! নারীকে অন্যের পরিচয়ে পরিচিত হতে হয়। আবার বাইরে কর্ম বা চাকুরি না করলে ধরা হয়, সে কিছুই করছে না। নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে তাকে কতই না বেগ পেতে হয়। অথচ একজন কর্মজীবী মা কত পরিপাটি করেই না সংসার চালিত করেন। সন্তান, সংসারের সব কিছু এক হাতে সামাল দেন। মায়ের ভালবাসা, ত্যাগ, আপোস সবই যেন তার সংসারের মঙ্গলের জন্যে।

এজন্যে মা'কেই সন্তান-সংসারের উন্নতিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। একজন মা'ই পারেন সন্তানকে সমাজের একজন সৎ, শক্তিশালী নাগরিক করে গড়ে তুলতে। এজন্যে মা'কেই তার সন্তানকে ছোট থেকেই শিক্ষা দিতে হবে, কেমন করে একজন নারীকে সম্মান করতে হয়।

শান্তির ও মানবতার ধর্ম ইসলাম মা’কে দিয়েছে বর্ণনাতীত মর্যাদা ও সম্মান। ইসলামের দৃষ্টিতে বাবার চেয়ে মায়ের মর্যাদা তিন গুণ বেশি। ইসলাম মাকে যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন করেছেন।

বস্তুত মা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত।

মন্তব্য