সাক্ষাৎকার

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 60391 12804 811
বিশ্ব 6,714,335 3,261,276 393,408

করোনা জয়ের গল্প শোনালেন ইমরান

বর্তমান বিশ্বের আতঙ্কের নাম কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস। গেল বছরের ডিসেম্বরে চিনের উহান থেকে শুরু। এরপর একে একে ছড়িয়েছে বিশ্বের প্রায় ২০০ টি দেশে। লাগামহীন করোনা প্রতিদিনই কেড়ে নিচ্ছে লাখ লাখ মানুষের প্রান। সাথে সংক্রমণ ৫০ লাখ ছুই ছুই। অন্যদিকে করোনা জয় করে ঘরে ফিরেছে এমন মানুষের সংখ্যা বিশ্বে প্রায় ১৯ লাখ। তাদের মধ্যেই একজন যাশোরের ইমরান খান। তিনি তার করোনা জয়ের গল্প শুনিয়েছেন সকালের সময়কে। 
তিনি বলেন, আমি বর্তমানে আমেরিকান কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সিস বিডি লিমিটেডের যশোর প্রতিনিধি হয়ে আহাদ ডায়াবেটিক সমিতি ও ঝিনাইদহ হাসপাতালে কাজ করছি। যার কারণে স্বাস্থ্যবিধির সকল নিয়মকানুন মেনে আমাকে চলাফেরা করতে হয়। কোন লক্ষণ বা উপসর্গ আমার মধ্যে ছিল না। তাই টেস্ট করার প্রশ্নই আসে না। মামাতো ভাই এসেছিল ঢাকা থেকে, তাকে টেষ্ট করাতে গিয়েছিলাম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাকে টেষ্ট করানোর পর ওখানে কর্মরত এক পরিচিতার অনুরোধে অনেকটা কৌতূহলবশত গত মাসের ২৫ তারিখ করোনা টেষ্ট করায়। পরের দিন ২৬ তারিখ আমার রিপোর্ট আসে করোনা পজেটিভ। কোন উপসর্গ ছাড়ায় করোনা পজেটিভ আমাকে চিন্তিত করে তোলে। কখনো কল্পনাও করতে পারিনি আমার করোনা পজেটিভ হতে পারে। কেননা আমার মধ্যে কোনরকম লক্ষন ছিলো না। কি করবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না। এমন কঠিন সময় আমার জীবনে কখনো আসেনি। সময়টা আমার কাছে অভিশপ্ত ছিল। পরিবার থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরা আমাকে কুনজরে দেখতো। হেয় পতিপন্ন করত। তখন মনোবল ধরে রাখা কষ্টসাধ্য ছিল। তবুও মনোবল ধরে রেখে আল্লাহকে ডাকতাম সর্বদা। ৫ ওয়াক্ত নামাজ আর ইবাদতের মধ্যে থাকতাম। আমি বিশ্বাস করতাম, আল্লাহ রোগ দিয়েছেন নিশ্চয় তিনিই পরিত্রাণ দিবেন।
চিকিৎসা, খাওয়া-দাওয়া ও করোনাকালীন সময় কাটানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসার পর থেকেই আমি ১৪ দিনের আইসোলেশনে চলে যাই। সোশ্যাল মিডিয়া, ইন্টার্নেট ব্রাউজিং, মোবাইল গেমিং এগুলো করেই বেশিরভাগ সময়টা কাটতো। সকালে গরুর মাসং, দুপুরে কবুতরের মাংস আর রাতে নিয়মিত সজিনার ডাটা যা আমি এই রোগের মহা ওষুধ হিসেবে অধিক গুরুত্ব দিয়েছি। তাছাড়া কালোজিরা আর জোয়ানের মিশ্রণে গরম পানির সাথে মুখ ও নাকের মধ্যে নিয়মিত নিস্বাস নিতাম এবং মিশ্রণটি মধুর সাথে মিশিয়ে নিয়মিত খেতাম। তবে ডাক্তারের পক্ষ থেকে তেমন কোন সহযোগিতা পাইনি। তারা বারবার বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে বলেছেন। ১৪ দিন পর আমি আবার আমার পরিক্ষা করায় এবং রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তিন দিন পর আবার পরিক্ষা করায়, তখনও রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।   
দেশের মানুষ ও করোনা রোগীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস এড়াতে ঘরে থাকুন, প্রয়োজনে বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন এবং সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখুন। করোনা মানেই মৃত্যু নয়। মনোবল ধরে রাখুন; সৃষ্টিকর্তাকে স্বরন করুন। সমাজের মানুষের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা আপনাদের পাশের করোনা রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করবেন না। সামাজিকভাবে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করবেন না। কারণ এটা অধীক কষ্টদায়ক।

 

মন্তব্য