বিশেষ খবর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 537,465 482,424 8,182
বিশ্ব 105,957,358 2,310,170 77,602,804

ডিআর সাবিকুন নাহার আইজিআর’র পরিপত্রের নির্দেশ মানছেন না

 ঢাকার ডিআর সাবিকুন নাহারের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেছে তার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সাবিকুন নাহারের অনৈতিক কর্মকান্ড ও ঘুষ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য একের পর এক প্রকাশ হচ্ছে। কিন্তু তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কারণ তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে, তার অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে তাকে ডিআর হয়রানী করবে। সম্প্রতি দৈনিক সকালের সময়ে কাজী নিয়োগের নামে তার সহকারী শরীফের মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা ঘুষের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তিনি ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। তার বিরুদ্ধে অবস্থানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণহারে হয়রানী ও চাকরি খাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, ডিআর সাবিকুন নাহারের স্বজনপ্রীতির কারণে সকল কর্মচারীরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেছেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন এর পক্ষ থেকে ১০৫ (৫৫৮) নম্বর স্মারকে গত ১১মার্চ এক পরিপত্র জারি করা হয়েছে। উক্ত পরিপত্রে বলা হয়েছে, গভীর উদ্যোগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়োজিত কর্মচারীদের একই পদে কিংবা কর্মস্থলে বদলীর প্রাপ্যতা সাপেক্ষে অন্যত্র বদলি করার বিধান থাকলেও নিবন্ধন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত কতিপয় কর্মচারী সুবিধা মত স্থানে বদলী, বদলী স্থগিতকরণ এবং একই কর্মস্থলে বদলীর প্রাপ্যতা হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত অবস্থানের অনুমতি নিয়ে নানাবিধ ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীগণ অবাঞ্চিত তদবিরের আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন রকম সুপারিশ এবং উপ-আনুষ্ঠানিক পত্র দ্বারা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং প্রশাসনকে বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন করছে। আবার একই কর্মস্থলে কোন কর্মচারী ৩বছরের অধিককাল থাকলে অন্যপদ বা কর্মস্থল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। 
ওই পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়োজিত কর্মচারীদের বর্তমান কর্মস্থলে অতিরিক্ত অবস্থানের সকল আদেশ প্রশাসনিক ও জনস্বার্থে এতদ্বারা বাতিল করা হল। অত্র আদেশ কার্যকর নিম্নস্বাক্ষরকারীকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলেও ডিআর অবৈধ সুবিধার জন্য তার ইচ্ছামত প্রেষানাদেশ বাতিল করছে। আর তার পছন্দের লোক নিয়োগ দিচ্ছেন।
বিভিন্ন অফিসের কর্মচারীরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য ৩ বছরের উর্ধ্বে হওয়া সত্ত্বেও তাদের বদলী করছেন না। আবার যারা তাকে ঘুষ দিতে ব্যর্থ, তাদেরকে হয়রানী করে কম গুরুত্বপূর্ন অবস্থানে বদলী করেন। সূত্র জানায়, ডিআর সাবিকুন নাহার মহা-পরিদপ্তরের উল্লেখিত পরিপত্রের নির্দেশ অমান্য করে ইচ্ছামত কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। তিনি ও তার সহকারীরা আইন-মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে বদলী, ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম চালিয়ে আসছেন। বিধি বহির্ভুতভাবে কর্মচারীদেকে বরখাস্ত করছেন। আর ডিআর তার অবৈধ কর্মকান্ড, অনিয়ম, দুর্নীতির জন্য সহায়তা নিচ্ছেন সাব রেজিস্ট্রার রমজান খানের কাছ থেকে। জানা যায়, রমজান খান সাব রেজিস্ট্রারের বিধিমালা লঙ্ঘন করে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদান করেন। সাব-রেজিস্ট্রারের বিধিমালায় আছে ঢাকায় একবার পোষ্টিং এর পর ৫ বছরের মধ্যে সে ঢাকায় পোষ্টিং নিতে পারবে না। অথচ এই সাব-রেজিস্ট্রার রজমান খানও প্রভাব খাটিয়ে, বিধি লঙ্ঘন করে গুলশান অফিসে যোগদান করেন। এ জন্যই ডিআরকে হাতে রেখে এবং তাকে সহযোগিতা করে তার মন খুশির মাধ্যমে তদবীর বাণিজ্য ও দালালি করে অবৈধ স্বার্থ হাসিল করেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় হওয়ায় প্রভাবশালী ক্ষমতাবানদের নাম ভাঙিয়ে গুলশান অফিসেও অনিয়ম করেছেন। তিনি যোগদান করার পর গুলশান অফিসে আগুন লেগে রেকর্ডপত্র নষ্ট হয়। আর এ ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর  তথ্য বের হয়ে আসে। পূর্বে গুলশান অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার ছিল ডিআর সাবিকুন নাহার। আর সে জন্যই তার দুর্নীতি জালিয়াতির প্রমাণ বিনষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে একাদিক সূত্র জানিয়েছে। 
গুলশান অফিসে থাকাকালিন সময় সাবিকুন নাহার তৎকালীন প্রভাবশালী ক্ষমতাধর সংসদ সদস্য মাহবুব আলমের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করবেন না বলে তাকে জানান। আর এই ঘুষ চাওয়ার অপরাধে তাকে একবার বরখাস্তও করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপর তিনি রূপগঞ্জ ও দোহার মুন্সিগঞ্জ থাকাকালীণ সময়ে একই অবস্থায় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন। এতে বিতর্কিত একজন কর্মকর্তা বিভাবে ঢাকায় আসেন, তা নিয়ে কর্মকর্তাদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাকে কোন কর্মকর্তাই পচ্ছন্দ করছেন না। বিধায় তিনি নির্বাচনে শোচনীয়ভাবের পরাজয় বরণ করেন। যা অত্যান্ত লজ্জাজনক। তারপরও তার ক্ষমতার দাম্ভিকতা কমছে না। পূর্বের ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, জাল-জালিয়াতির অভিযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তার ক্ষমতা টিকে রাখার জন্য কিছু প্রভাবশালী মহলকে হাতে রাখছেন। আর এজন্যই এতো অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি। তার এতো ক্ষমতার উৎস কোথায়? দুর্নীতি দমন কমিশনের এবং আইন মন্ত্রণালয়ের নজর দেওয়া অতিব জরুরী সরকারি ও প্রশাসনিক স্বার্থে। আর বিনা কারণে বরখাস্ত হওয়া একাধিক কর্মচারী জানান, তাদেরকে যখন বদলী করেন, তখন প্রেষানাদেশ বাতিল করেন। আর তখন অন্য কর্মচারীদের পেষন বাতিল করা হয়নি। আবার ৩বছরের বেশী অনেক কর্মচারী রয়েছেন, যাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে বদলী করা হচ্ছে না। আবার প্রমোশন পাওয়া কর্মচারীদের প্রমোশনও দেওয়া হচ্ছে না। কারণ শূন্য পদেও নাম দিয়ে চাঁদা আদায় অব্যাহত আছে। সাবিকুন নাহাররের ঘুষ বাণিজ্য আর দুর্নীতি প্রকাশ হওয়ার পর নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ও ঢাকার বাহিরের অনেক কর্মকর্তারাও তার সম্পর্কে সকালের সময়কে চালঞ্চ্যকর তথ্য প্রদান করেছেন। ডিআর সাবিকুন নাহার যে আসলেই একজন দুর্নীতিবাজ তার প্রমাণ হচ্ছে, নির্বাচনে হেরে যাওয়া। একমাত্র সাবিকুন নাহারের কারণে অনেক দক্ষ ও ভাল অফিসারগণ নির্বাচনে পরাজয় বরণ করেন। আর নারায়ণগঞ্জেও কাজী নিয়োগের ব্যাপারে দুর্নীতি হয়, যার তথ্য সকালের সময়ের হাতে এসেছে।
জানা গেছে, প্রতিবাদ দেওয়ার জন্য কর্মচারীদের চাপ প্রয়োগ করছেন। আর প্রতিবাদ না দিলে তাদেরকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা দিয়ে দরখাস্ত করবেন। তার একটা বড় ধরণের মাস্টার প্লান ছিল, যারা রেকর্ডে, প্রেষনে কর্মরত আছেন তাদেরকে স্ব-স্ব জেলায় পাঠিয়ে তার নিজস্ব লোক সেট করবেন অবৈধ স্বার্থ নিয়ে।
ঢাকার রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা-কর্মচারী, দলিল লেখক, কাজী সবাই তার কর্মকান্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু প্রেমিক কিছু নেতা ১৫ই আগস্ট পালন করার জন্য ডিআর সাবিকুন নাহারের অনুমতি চাইলেও তা পাননি। প্রশাসনিক ও সরকারী স্বার্থে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
এসব বিষয়ে ডিআর সাবিকুন নাহারের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করতে তার সেলফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তার মোবাইল ফোনকলটি রিসিভ করেননি।

 

মন্তব্য