সারা বাংলা

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 537,465 482,424 8,182
বিশ্ব 105,957,358 2,310,170 77,602,804

ভোট যুদ্ধে নেমে হেরে গেলেন জীবন যুদ্ধে তারেক সোলেমান

চসিক নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে বিজয় হওয়ার আগে হেরে গেলেন জীবন যুদ্ধে কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম। তারেক সোলেমান সেলিম আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তার দল আওয়ামী লীগ তাকে মনোয়ন বঞ্চিত করেন। 
জানা গেছে, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ধরে রেখেছে কয়েকজনের মধ্যে তারেক সোলেমান সেলিম ও তার পরিবারের অবদান অসামান্য।এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অনেক জেল, জুলুম, নির্যাতনের শিকার হন। জীবন রক্ষায় নগরীল আলকরণ নিজ বাড়িতে ছেড়ে পালিয়ে বেড়ান তারেক সোলেমান সেলিমসহ স্বপরিবার। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতনের পর বাড়ি ফিরেন স্বপরিবার। সেদিন থেকে সুখে ঘুমিয়ে ছিলেন তার পরিবার। তারেক সোলেমান সেলিমের বাবা মোহাম্মদ সালেহ ছিলেন আলকরণ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা বাস্তবায়স থেকে ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে প্রস্তুতি মিটিংসহ নগরীর অধিকাংশ আন্দোলন সংগ্রামের রুপ রেখা তৈরী হয়েছিল সালেহর বাড়ি থেকেই। মুক্তিযুদ্ধকালীন এ বাড়িতেই চলতো মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন ‘সিটি আওয়ামী লীগে’র সহ-সভাপতির দায়িত্বে থেকে মৃত্যুবরণ করেন মোহাম্মদ সালেহ। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন। সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনও এক-এগারোর সময় আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সামনের সারিতে। তারেক সোলেমান সেলিম সিটি কলেজ ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তারেক সোলেমান সলিমের ভাই তারেক ইফতেখার বলেন ১৯৭৯ সালে নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে আওয়ামী লীগের মিছিলে হামলা করেছিল সন্ত্রাসীরা। আটকে রাখে তৎকালীন উত্তর জেলা সভাপতি এমএ ওয়াহেব, দক্ষিণ জেলার নেতা এমএ সালেহ এবং ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেসেন উপর হামলা শুরু হলে তারেক সোলেমান সেলিমের নেতৃত্বে প্রতিরোধ করে পাল্টা হামলা চালায়। তারেক সোলেমান সেলিমের উপর  নির্মাম নির্যাতন হামলার শিকার হন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে মামলা  দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে ২১ আগস্টের নির্মম ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেফতারও হন। বিরোধী পক্ষের শত অত্যাচার-নির্যাতন সয়েও চুল পরিমাণ বিচ্যুত হননি দলের আদর্শ ও নীতি থেকে। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তারেক  সোলেমান সেলিম। এরপর ২০০০, ২০০৪ এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালেসহ চার চার বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। চলতি বছর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছিরের সাথে সখ্যতা থাকার অভিযোগে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। 
উল্লেখ্য আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে  রাজপথের লড়াকু  সৈনিক ক্যান্সারের কাছে হেরে গেলেন হাজার হাজার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের  নেতাকর্মী তৈরির কারিগর, ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা চট্টগ্রামের তুখোড় নেতা তারেক সোলেমান সেলিম। দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। সোমবার দুপুরে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।  মঙ্গরবার  বেলা ২টায় চট্টগ্রাম পুরান রেল  ষ্টেশন চত্বরে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। একছেলে ২কন্যা সন্তানের জনক স্ত্রী, ভাই  বোন সহ অনেক আত্মীয় স্বজন অসংখ্যসহ কর্মী রেখে গেছেন। তারেক সোলেমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও পরিবার বর্গের প্রতি সমবেদনা জানান এক্স কাউন্সিলর ফোরামের সভাপতি জালাল উদ্দিন ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন, ফোরাম নেতা নাজিম উদ্দিন, পেয়ার মোহাম্মদ, নিয়াজ মুহাম্মদ খাঁন, এ এস এম জাফর, নুরুল হুদা লালু, আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তৈয়বসহ অনেকে।
কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম কে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, ৯০/৯৬ আর ২০০১ হতে ২০০৮ সালের  আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথের  সৈনিক, ৪বারের সফল কাউন্সিলর দীর্ঘ দিন দুরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে পরাজিত হন,  এরকম মুজিব প্রেমিক মানুষ খুব কম আছে, তার মৃত্যুতে অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে গেঠে আওয়ামী রাজনীতিতে। এদিকে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিমের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি শোক প্রকাশ করে আত্মর মাগফিরাত কামনা করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষরিত একটি শোক বার্তায় এই তথ্য জানান। 

 

মন্তব্য