সারা বাংলা

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
Manarat University

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি BIWTA,খেয়া পারাপারে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা

স্বামী পরিত্যাক্তা ষাটোর্ধ্ব কুলসুম বেগম বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও তাকে কাজ করে খেতে হয়।তিনি সদরঘাটের পার্শ্ববর্তী বিক্রমপুর গার্ডেন সিটিতে ক্লিনারের কাজ করেন,প্রতিদিনের মত কাজ শেষে সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের আগানগরের ভাড়া বাসায় ফিরতে নদী পারাপারের জন্য ওয়াইজঘাটে পাহাড়ের মত ঢালু মাটি বেয়ে খেয়া নৌকায় উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়ে, এখন পা ভেঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি।
একই স্থানে একাধিক ঘাটের নৌকা ভেড়ায় ও সরু একটি চ্যানেল দিয়ে নৌকা ও ট্রলার একসাথে ঘাটে চলাচলের কারণে নৌকা ও ট্রলার এর সংঘর্ষ হাতের কব্জি থেতলে হাসপাতালে ভর্তি শুভাঢ্যার বাসিন্দা ইউনুস আলী।এরকম প্রতিদিনই খেয়া পারাপারে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে চলছে ওয়াইজঘাট দিয়ে খেয়া পারাপারের কয়েক হাজার যাত্রীর সাথে। আর এ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে যাত্রীরা চিহ্নিত করেছেন বিআইডব্লিউটিএ'র প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করাকে।
সরেজমিনে ঘুরে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ শুভাঢ্যা, আগানগর ও জিনজিরা ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক জনসাধারণকে প্রতিদিন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মহানগরীতে প্রবেশ করতে হয়।নদীর উপরে পোস্তগোলা ও বাবুবাজার ব্রিজ থাকলেও বেশিরভাগ লোকই খেয়া পারাপারের নৌকায় নদী পারাপার হয়।গত ৩রা সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএ যাত্রী নিরাপত্তার কথা বলে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সিমসন ঘাট সহ তিনটি ঘাট নৌ চলাচলের জন্য বন্ধ করে, বিনা স্মৃতি ঘাট(ডাব ঘাট) চালু করে। এতে কয়েকটি ঘাটের নৌকা একসাথে ভেড়াতে সৃষ্টি হয় নৌকা জট।একই স্থানে ট্রলার ও নৌকার ঘাট থাকায় যাত্রী বোঝাই ট্রলার আসা যাওয়ার সময় এই নৌকা জট আরও বৃদ্ধি পায়। ট্রলার ও নৌকার হুড়োহুড়িতে প্রায় প্রতিদিনই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,সিমসন ঘাট বন্ধ হওয়ার পর যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে বিআইডব্লিউটিএ পটুয়াখালী ঘাটের দুটি পল্টুন সরিয়ে তিন মাসের মধ্যে ওয়াইজঘাট সংস্কার করে যাত্রী চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তূ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করায় বুড়িগঙ্গায় খেয়া পারাপারে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। যাত্রী পারাপারে বিআইডব্লিটিসি ওয়াটার বাস চালু করলেও একটি ওয়াটার বাস দিয়ে সার্ভিস পরিচালনা করায় প্রায় সকল যাত্রীকেই বাধ্য হয়ে  খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে।খেয়াঘাটে স্থায়ী কোনো ওঠানামার সিড়ি না থাকায়ও ঘটছে দুর্ঘটনা।
 
এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি ইসলামপুরে একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করি।আমার মত প্রায় কয়েক হাজার কর্মচারী প্রতিদিন নৌকা পার হয়ে ইসলামপুর, সদরঘাটে কাজের জন্য আসে। নৌকা পারাপারের প্রতিদিনই অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।ছোট একটি চ্যানেল দিয়ে কয়েক ঘাটের নৌকা একসাথে ঘাটে বেড়ায় এই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বিআইডব্লিউটিএ তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পটুয়াখালী ঘাটের দুটি পল্টন সরিয়ে দিয়ে ওঠানামার জন্যে পাকা সিড়ির ব্যবস্থা করে দেয়  তাহলে এই ভোগান্তির অবসান হয়।
 
এ প্রসঙ্গে কেরানীগঞ্জ বস্ত্র ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, খেয়া পারাপারের দুর্ভোগের জন্য সারা দেশ থেকে আসা পাইকাররা এখন আর নদী পার হয়ে মালামাল ক্রয় করতে আসতে চায় না। বিআইডব্লিটিএ ঘাট বন্ধ করার পর আমাদের প্রতিবাদের মুখে তারা তিন মাসের সময় নিয়ে পটুয়াখালী ঘাটের দুটি পল্টন সরিয়ে ওয়াইজ ঘাট সংস্কার করে দেওয়ার কথা বলেছিল, ‌ কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। আমরা অচিরেই ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই, অন্যথায় দাবি আদায়ে আমরা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনে বাধ্য হব।
 
এ বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ'র ঢাকা নদী বন্দরের ইনচার্জ গুলজার আলীর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য