শিক্ষা

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 297,083 182,875 3,983
বিশ্ব 23,728,063 16,193,743 814,657

নিস্তব্ধ শান্ত চত্বর!

বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কিছু জনপ্রিয় স্থান থাকে যেখানে প্রায়ই সময় কাটান শিক্ষার্থীরা। একের পর এক ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন শেষে সবাই ছুটে আসে ক্যাম্পাসের সেই প্রাণকেন্দ্রে।সেইখানে একসঙ্গে বসে গল্প, আড্ডা, রসিকতা ও বিনোদনে মেতে উঠেন তারা। ভীষণ তৃপ্তি ও শান্তি খুঁজে পান ঐসকল জায়গাতে এসে মিলিত হওয়ার পর।
পুরান ঢাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েরও রয়েছে তেমনই একটি প্রাণকেন্দ্র। যা সবার কাছে পরিচিত শান্ত চত্বর নামে। নামে শান্ত চত্বর হলেও জায়গাটি  সবসময় কোলাহলে পূর্ণ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট দিয়ে ঢোকার পর বিবিএ ফ্যাকাল্টির সামনেই শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য শান্ত চত্বরটি- বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর একমাত্র প্রাণকেন্দ্র। শান্ত চত্বর হলো বন্ধুদের আড্ডা, গানের আসর,প্রতিবাদের মঞ্চ। শান্ত চত্বর মানে শিক্ষার্থীদের প্রাণে প্রাণ মিলানোর জায়গা।
কিন্তু এখন পৃথিবীজুড়ে করোনার কারনে বিপর্যস্ত জনজীবন। আর এই করোনার কারনে গত মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।আগের মতো প্রাণোচ্ছল দেখা যায় না ক্যাম্পাসে।শান্ত চত্বরে নেই কোনো হই-হুল্লোড়,বসছে না কোনো গানের আসর।বিকাল ঘনিয়ে এলে দেখা যায় না-চত্বরে বসে বন্ধু-বান্ধবের খুনসুটি কিংবা সিনিয়র-জুনিয়রের গল্প,আড্ডায় মেতে উঠা,প্রেমিক-প্রেমিকার সতেজ পদযুগলে আলোকিত থাকা শান্ত চত্বর এখন নিরব নিস্তব্ধ। তাছাড়া সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাসের আশেপাশের মানুষজনেরও একটু স্বস্তির জায়গা ছিলো এই শান্ত চত্বর। ক্যাম্পাসের প্রাণোচ্ছল শান্ত চত্বরটি আজ আসলেই শান্ত। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কোনো অনুষ্ঠানমালা নেই এখন এই চত্বরে।দল ছাড়া যে শান্ত চত্বরে একজনকেও খুজে পাওয়া যায় না,সেই শান্ত চত্বরে আজ একজনও নেই।সেখানে যাদের নিয়মিত পদচারণা ছিলো তারা বাসায় বসে প্রিয় স্থানটিকে মিস করছেন।স্বপ্ন দেখছেন পৃথিবী আবার সুস্থ হবে,জমে উঠবে শান্ত চত্বরের আড্ডা। 
হয়তো শান্ত চত্বরও অপেক্ষা করছে তার চিরচেনা রূপের জন্য।আবার কেউ এসে গলা ছেড়ে গান গাইবে,কেউবা এসে বাদ্যযন্ত্রে সুর তুলবে। কেউ করবে রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা। আবার মানুষ প্রাণে প্রাণ মিলাবে।শান্ত চত্বর আবার জেগে উঠবে চিরচেনা সব মুখের সমাবেশে। 

মন্তব্য