সারা বাংলা

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 297,083 182,875 3,983
বিশ্ব 23,728,063 16,193,743 814,657

মামলা জটিলতায় ঝিনাইদহ পৌরমার্কেট, ভোগান্তিতে ব্যবসায়ীরা

মামলা জটিলতায় বহুতল বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ঝিনাইদহ পৌর সুপার মার্কেটটির নির্মাণ কাজ বন্ধ। পুরাতন মার্কেটের দোকান মালিক ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এ মার্কেট নির্মাণ করা নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ৬ মাস আগে আদালত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। সেই থেকে অত্যাধুনিক মার্কেটটির কাজ বন্ধ করে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। একটি পক্ষের ষড়যন্ত্র আর মামলা জটিলতার  কারণেই বন্ধ হয়ে আছে বহুতল মার্কেটটির নির্মাণ কাজ।
আদালতের আদেশ অমান্য করে নির্মাণ কাজ চলমান রাখা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করে মামলার বাদীপক্ষ। গত ৬সেপ্টেম্বর রোববার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিন নির্মাণাধীন মার্কেট এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, বাদীপক্ষ থেকে তাকেসহ পুলিশ সুপারকে বিবাদী করেছেন। ইতোমধ্যে বাদীপক্ষ থেকে নিয়োজিত আইনজীবী আদালত অবমানার নোটিশ করেছেন। যে কারণে প্রকৃতপক্ষে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করতে এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। আদালতের আদেশপ্রাপ্ত হওয়ার পরে পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, পৌর ভবনসংলগ্ন জমিতে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করে ঝিনাইদহ পৌরসভা। কিভাবে এই শহরকে আরো উন্নত একটি শহরে রূপান্তর করা যায় সে ভাবনা থেকেই আমি কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। যার ভেতরে একটি হলো পৌর মার্কেট নির্মাণ।   বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এখানে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি বিপণিবিতান তৈরি করা হচ্ছে। মাকের্ট নির্মাণ নিয়ে একটি পক্ষ ষড়যন্ত করে আসছে। আদালতের আদেশ মোতাবেক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিয়োগ করা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মূল্যবান যন্ত্রপাতি রক্ষায় পাহারাদার নিয়োগ করেছে। আর মাকের্ট নির্মাণ কাজ বন্ধে এবং একটি পক্ষ শহরের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বাধা গ্রহস্থ করার কারণে এর  প্রভাব পড়ছে সামাজিক ক্ষেত্রেও। একটা আধুনিক শপিং মল হলে পৌরসভার আয় বাড়বে। এই ভালোটা কারও সহ্য হচ্ছে না।তবে সকল ষড়যন্ত ও মামলা জট নিরশনে পৌরমেয়র চলতি অর্থবছরেই কাজ শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 
মেয়র মিন্টু আরো বলেন,ঝিনাইদহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রথম টু.ই.ডি ক্লাব ছিল, পরবর্তীতে তা পৌরসভায় হস্তান্তরিত হয়। ১৯৭৪ সালে সাবেক চেয়্যারম্যান আমির হোসেন মালিথা শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। পৌর ভবনের সামনে ১৯৭৮ সালে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মার্কেট নির্মাণ করেন। ১৯৯৫-৯৬ সালে সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান খোকা কমিউনিটি সেন্টার, দ্বিতল পৌর মার্কেট নির্মাণ করেন। ২০০৬ সালে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক নতুন পৌর ভবন নির্মাণ করেন এবং ভবনের পাশে কিছু বেঞ্চ স্থাপন ও ঝাউ গাছ লাগান হয়। উক্তস্থানে প্রকৃত পক্ষে কোন শিশু পার্ক ছিল না। যেখানে বর্তমানে ঝিনাইদহ পৌরসভা একটি অত্যাধুনিক মার্কেট নির্মাণ করতে যাচ্ছে। মার্কেটটি চালু করা গেলে ব্যবসায়ী ও শহরবাসীর বহুমুখী উপকার হবে। পাশাপাশি ঝিনাইদহ সদর পৌরসভার আয় বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে পুরাতন মার্কেটের দোকান মালিকরা জানান, নতুন মার্কেট নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তারা। চলমান পরিস্থিতিতে মার্টেকটটি নির্মাণ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও জানান তারা।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটটি দ্রæত নির্মান কাজ শেষ করে চালু না হওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন পুরাতন ব্যবসায়ীরা।

 

মন্তব্য