বিশেষ খবর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 297,083 182,875 3,983
বিশ্ব 23,728,063 16,193,743 814,657

জেলা রেজিস্টার সাবিকুন নাহারের বিরুদ্ধে ১৮ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার বিভিন্ন অফিসে চাঁদাবাজ, সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার চাঁদাবাজ, সিন্ডিকেট দিয়ে রমরমা দূর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য করে আসছেন। তিনি ঢাকায় যোগদানের পর হতে কর্মকর্তা-কর্মচারী, দলিল লেখক ও কাজীদের কাছ থেকে অভিনব কায়দায় ঘুষ গ্রহণ করছেন। 
অভিযোগে জানা গেছে, জেলা রেজিস্ট্রার তার টাইপিষ্ট শরিফের মাধ্যমে মো. রফিকুল ইসলাম ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কাজী হিসেবে নিয়োগদানের নামে ১৮লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কিন্তু ১৮ লাখ টাকা নিয়েও মো. রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ না দিয়ে প্যানেলে যে, তিন নম্বর হয়েছে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। জানা যায়, যিনি তিন নম্বর ছিলেন, তিনি টাইপিষ্ট শরিফের আত্মীয়। ফলে তাকে নিয়োগ দেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় এবং স্যাটেলাইট চ্যানেলে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। 
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম সকালের সময়কে জানান, ঢাকা জেলা রেজিষ্টার অফিসের কুচক্রীমহল মানছেনা আদালত, মানছেনা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যগণের ন্যায়সঙ্গত সুপারিশ, মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ অসাংবিধানিক কাজ বৈধ করা হচ্ছে। একটি প্যানেলের পরিবর্তে দু’টি প্যানেল করা হয়। প্রথম প্যানেলটি ২০১৯ সালের ৮ জুলাই, আর দ্বিতীয় প্যানেলটি হয় একই বছরের ২২ ডিসেম্বর। উপদেষ্টা মহোদয়গণ সকল বিষয়ে বিবেচনার ভিত্তিতে দু’টি প্যানেলই প্রথম স্থানে অনুমোদন দেওয়া হয়। আর প্রথম প্যানেল গায়েব করে দ্বিতীয় প্যানেলের সময় ঢাকা জেলা রেজিষ্টার উপদেষ্টাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আগের থেকেই প্যানেলের ২ ও ৩ নং ব্যক্তির নামের ঘর ফাঁকা রেখে পরবর্তীতে পছন্দের নাম বসিয়ে দেন। ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্যানেলটি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। এরপর চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি আইন মন্ত্রী প্যানেল ১ এ থাকা আমাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্বাক্ষর করেন। কিন্তু সেই নোট সীট গায়েব করা হয়। নিকাহ রেজিষ্টার নিয়োগ কমিটির মতামতকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে নিয়োগ হাসিল করায় স্থানীয় সংসদ সদস্য লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন। আর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ব্যবহৃত ঠিকানার বাড়ির মালিক প্রত্যায়ন দিয়ে আইনী শাস্তি দাবী করেন। 
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, গত ২০১৭ সালে ১০ নং ওয়ার্ড নিকাহ রেজিষ্টারের অধিক্ষেত্রটি শূন্য ঘোষণা হওয়ায় ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল বিচার ০৭/০২ এবং ০১/৯৭-৩২১ স্বারকে ডিআর অফিসকে ১৫ দিনের মধ্যে প্যানেল করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। ওই নির্দেশ তিন বছরেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। আর ঢাকা জেলা রেজিষ্টারের কম্পিউটার অপারেটর শরিফ নিয়োগ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন ধাপে, নানা অজুহাতে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, তাকে ৫টি হয়রানী মূলক মামলার মুখোমুখি হতে হয়। উচ্চ আদালত মামলা খারিজ করলেও সমঝোতার নামে মোটা                                                                                                                    অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। আর মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশ নোটসীটও গায়েব করা হয়। ফলে মো. রফিকুল ইসলাম সর্বশান্ত হন। তিনি জানান, এত কিছুর পরও জেলা রেজিস্ট্রার নিরব ভূমিকা পালন করছে। কারণ তিনিও ওই ঘুষের টাকার ভাগ পান। তাছাড়া জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের টাইপিষ্ট শরিফের চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ডিআর এর নির্দেশে, সহযোগিতায় রেজিস্ট্রাশন অফিসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। ভুক্তভোগীরা কর্তৃপক্ষের কাছে জানালেও কোন সুফল পাননি বরং যারা অভিযোগ করেছেন, তাদেরকেই উল্টো হয়রানি করা হয়। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে হতক্ষেপ কামনা করেন। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার ডিআর সাবিকুন নাহার তার পূর্বের ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম অব্যাহত রেখেছেন। ঢাকায় যোগদান করে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী ও সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জাল-জালিয়াতি করে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটিকোটি টাকা। অনিয়মের কথা তুলে ধরলে তাকে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তার হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। শুধু তাই নয়, তিনি একজন স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষের লোক। বঙ্গবন্ধুর ১৫আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। 
এ ব্যাপারে তেজগাঁও এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলার আলহাজ্ব শফিউল্লা শফি ও স্থানীয় নেতারাও তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ডিআর ঢাকায় যোগদান হওয়ার পর হতে কর্মচারী-কর্মকর্তা ও দলিল লেখক, কাজী সবাই তার অনিয়ম কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলেন না। তার হাত অনেক লম্বা। এই দাম্ভিক ডিআর এত ক্ষমতা পায় কোথায়? তার ক্ষমতার উৎস কোথায়? তা অচিরেই অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসবে। তিনি দোহারে থাকা কালে হাতে নাতে ঘুষসহ ধরা পড়েন। নিজে বাঁচার জন্য তার সহকারীকে জেলে পাঠায়। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলায় তিরস্কার মূলক শাস্তি পান। এরপর তিনি রূপগঞ্জে সরকারী ভিপি সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করার কারণে ও গুলশানে প্রভাবশালী সংসদ সদস্য মাহবুব আলম এর নিকট হতে ৫ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত হন। এই সাবিকুন নাহার কারও কথা শুনেন না। কোন অফিসার তাকে ভালো বলেন না। কারও সুপারিশ, অনুরোধতো দূরের কথা কারও প্রতি তার মানবিক দিকগুলোও দেখান না। তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি রমরমা ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়ম-দূর্নীতি করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সাবেকুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

মন্তব্য