বিশেষ খবর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 537,465 482,424 8,182
বিশ্ব 105,957,358 2,310,170 77,602,804

ঢাকা রিজেন্সী হোটেলের ব্যবসায়ীক বিরোধ পুলিশের ফাঁদে ব্রিটিশ নাগরিক

ঢাকা রিজেন্সি হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টের ব্যবসায়ীক বিরোধে ব্রিটিশ নাগরিক এম মোহিদ আলী মিঠু নামের এক প্রবাসী ভুক্তভোগি মামলা দায়ের করেছেন। 
মামলায় রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও রিজেন্সী হোটেল এন্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কয়েকজন নির্বাহী পরিচালকসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকতা-কর্মচারীসহ ২৬জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি হচ্ছে, সিআর মামলা নং ৪২৩/ (পল্টন), ধারা ৪৬৬/৪৬৮/৪৬৯/৪৭১/৪২৩/৪২০/৪৬০/৫০৬/১০৯ পেনাল কোড। এই মামলাটি আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগ্রেশন (পিবিআই) এর একজন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) তদন্ত করছেন বলে পিবিআই সূত্রে জানা গেছে। 
সুত্র জানায়, রিজেন্সী হোটেল এন্ড রিসোটের্র ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা রাজধানীর রামপুরা থানা পুলিশের সহযোগিতায় এম মোহিদ আলী মিঠুর বিরুদ্ধে একের পর এক ৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আর ওই সব মামলায় লন্ডন প্রবাসী ও সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতা এম মোহিদ আলী মিঠুকে হয়রানি ও গ্রেফতার করা হয়। বিনা দোষে তিনি ৫০দিন কারাভোগ করেন। আর তাকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে দশ লাখ টাকা মূল্যের ঘড়ি, ২টি মোবাইল সেট আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি।
এই প্রবাসী ব্রিটিশ নাগরিক জানান, ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ১২০ জন মিলে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এই ব্যবসায় স্থানীয় তিনজনকে পার্টনার করা হলে তারা 
প্রতিষ্ঠানটি আত্মসাতের চক্রান্ত শুরু করেন। তারই অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি রামপুরার বনশ্রীর আত্মীয়ের বাড়ী যান। সেখান থেকে রামপুরা থানার এএসআই মো. আতোয়ার রহমান, এএসআই বিল্লাল, এএসআই হাফিজ, এএসআই আবুল হোসেন তাকে ওসি’র সঙ্গে দেখা করার কথা বলে থানায় নিয়ে আটক করেন। আর এএসআই আবুল হোসেন তার হাত থেকে দুইটি মোবাইল সেট কেড়ে নেয়। যার মূল্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। পরে ডিউটি অফিসার এসআই তওফিকা ইয়াছমিন তার ব্যবহৃত ১০লাখ টাকা মূল্যের একটি হাত ঘড়ি, লেদার বেল্টের স্বর্ণের ওমেগা’সহ তার হেফাজতে নিয়ে তাকে হাজতখানায় পাঠায়। ওই রাতে আইনজীবিসহ আত্মীয়রা থানায় গেলেও কাউকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেননি। পর দিন ১০ জুলাই দুপুর ২ টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি তার ঘড়ি ও মোবাইল ফেরত চাইলে ডিউটি অফিসার সুলতানা আক্তার তাকে জানান, আদালত থেকে জামিনে আসার পর এসব ফেরত পাবেন। 
তিনি আরো জানান,  রাজশাহী আদালতের ভুয়া ওয়ারেন্ট দেখিয়ে হোটেল রিজেন্সির পরিচালক, মোসলে উদ্দিন আহমেদ, আরিফ মোতাহার, কবির রেজা, নাজমা আরিফ, রোকেয়া খাতুন, জেবুন্নেছা, ফাহিম আরিফ মোতাহার, ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের নির্বাহী পরিচালক শহীদ হামিদ, হোটেল স্টাফ শুভ ওরফে শান্তনু ধর, হোটেল স্টাফ নকিুবুল ইসলাম, নাভানা টাওয়ারের নাজমুল সিদ্দিকী সানি, হোটেল স্টাফ লাভলু, কোম্পানি সচিব মিজানুর রহমান, হোটেল বার ড্যান্সার ফারহানা ঐশি, ক্লাব অর্গানাইজার শাহীন, জয়নাল রাজা, আরিফ মোতাহারের চাচাতো ভাই আরমান, রিজেন্সি ক্লাব-১৩ নাইট ক্লাবের অর্গানাইজার নাঈমা মর্তুজাসহ সকলে মিলে একজন ভৌতিক বাদীর মাধ্যমে একটি ভুয়া মামলা দিয়ে তাকে ৫০ দিন কারাভোগ করিয়েছেন। আর এই হয়রানীর আশঙ্কায় ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি ডিএমপি’র পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেন। আর এসব অভিযোগের বিষয়ে গুলশানের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক আহম্মেদ বিষয়টি অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। তাছাড়া, হয়রানী ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে লন্ডন প্রবাসী ২০১৯ সালের ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। আর পুলিশের বিভাগীয় তদন্তে লন্ডন প্রবাসি এম মোহিদ আলীকে মিথ্যা মামলায় হয়রানীর প্রমাণ পায় পুলিশ কর্মকর্তাগণ। যা গত ২০ জুন, ১৪৭ ও ১৪৮ নম্বর স্বারকে উপ-পুলিশ কমিশনার পিএস এন্ড আই আই, ডিএমপি ঢাকার সুত্রে জানা গেছে। 
ভুক্তভোগি প্রবাসী জানান, রামপুরা থানা পুলিশ আমার মোবাইল ফোন ও ঘড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য, ছবি এবং ফেসবুকের আইডি রিজেন্ট হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরবরাহ করেছেন। তারা আমার ফেসবুক হ্যাক করে ব্যক্তি ছবি এডিটিং করে আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করতে আমার বিরুদ্ধে নানা প্রকার অপপ্রচার চালিযে আমার ব্যবসায়ীক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন। তিনি লন্ডনে ছোট থেকে বড় হওয়া এবং সেখানে লেখা পড়া করেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমি কোথাও রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় দেই না। আর দলীয় নেতা-কর্মীদের নাম ব্যবহার করি না। আর এ কাজে অভ্যস্ত নই। গত ২০ বছর ধরে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি প্রবাস থেকে বাংলাদেশে এসে আদালতের স্বরনাপন্ন হয়েছি ন্যায় বিচারের জন্য। মাননীয় আদালত ন্যায় বিচার করবেন ইনশা-আল্লাহ।
আদালত সুত্র জানায়, গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার ৩২ নম্বর আমলী আদালতে ভুক্তভোগি এম মোহিদ আলী মিঠু তাকে হয়রানীর অভিযোগে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও রিজেন্সি হোটেল এন্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আরজির সঙ্গে সকল প্রকার প্রমাণপত্র আদালতে জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগি। উক্ত আরজিতে ঢাকা রিজেন্সী হোটেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক আরফি মোতাহার, কবীর রেজা, ফাহিম আরফি মোতাহের,নাজমা আরিফ, মিসেস রোকেয়া খাতুন, মিসেস জেবুন নেছা, জেনারেল ম্যানেজার সহীদুল হামিদ, ঢাকা রিজেন্সী ক্লাব-১৩ নাইট) এর নাইট ক্লাবের অর্গানাইজার নাইম মর্তুজা, হোটেল স্টাফ শুভ ওরফে শান্তনু ধর, হোটেলের বার ড্যান্সার ফারহানা ঐশী, আরমান, নাজমু সিদ্দিকি সানি, মিজানুর রহমান, হোটেল স্টাফ লাবলু, রামপুরা থানার এএসআই হাফিজ, এএসআই আবুল হোসেন, রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ক্দ্দুুস ফকির, এসআই তওফিকা ইয়াছমিন, এসআই সুলতানা আক্তার ও এসআই মোঃ হানিফ কে আসামি করা হয়েছে। এরপর গত ১ নভেম্বর আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগ্রেশন (পিবিআই)কে। 
এ ব্যাপারে পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ হারুনুর রশিদের সেল ফোনে ফোন করা হলে তিনি মামলার সত্যতা স্বীকার করলেও কোন প্রকার তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে তিনি তার ফোনটি কেটে দেন।

মন্তব্য