সারা বাংলা

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
Manarat University

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এসে এক মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদ,আজও পাননি সেই মর্যাদা ও পরিচয়টুকু

বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নথমাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বহুদিনের নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতি লাভ করে স্বাধীনতার স্বাদ।  দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অনেকটা নিরস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ।জীবন বাজি রেখে রনাঙ্গণে ঝাঁপিয়ে পড়া এদেশের  বীর মুক্তিযোদ্ধারা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অনেকই শহীদ হয়েছিলেন,
আর যারা আছেনযুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীনের পর জীবিত ছিলেন তারা পেয়েছেন বাংলাদেশের গৌরবময় এক সম্মান মুক্তিযুদ্ধার মর্যাদা। তবে মুক্তিযোদ্ধার এই গৌরবময় পরিচয় থেকে বাদ পরেছেন অনেকেই। তাদের মধ্যেই একজন সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের মৃতঃ রহমত আলীর ছেলে মোঃ আব্দুর রশীদ। ভারাক্রান্ত মনে তিনি জানান, সেই সময় জীবন এর তোয়াক্কা না করেই পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ৫ নং সেক্টরের ডি কোম্পানীতে আমি অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।আমার কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন আবুল হুসেন, সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মীর শওকত আলী সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ মোতালিব। আমার সহ যোদ্ধা যারা ছিলেন, আব্দুল লতিফ, পিতাঃমৃত সুবেদ আলী নংঃ ০৫০২০১০৫৭৩, মোঃ বশির আহমেদ, পিতাঃ মৃত ময়নুল মিয়া নংঃ ০৫০২০১০৬৭৩ আব্দুর রউফ, পিতাঃ মৃতঃ সাবুদ আলী নংঃ ০৫০২০১০২৩০ আব্দুল মালেক, পিতাঃ মৃত আব্দুল বারেক নং০৫০২০১০২৩১ আব্দুল খালেক, পিতাঃ মৃত ঃআব্দুল বারেক নং ০৫০২০১০২৩৩।কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের  তালিকায় তাদের নাম আসলেও সেই তালিকায় আমার নাম নেই। কোন অজানা কারনে আমার নাম আসেনি  তা আমি জানিনা, তবে ভারতের তালিকায় আমার নাম রয়েছে।তিনি বলেন ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে বাংলাদেশ৷ অথচ দুঃখ আর বেদনা নিয়ে বলতে হয় আজও আমি আমার সেই মর্যাদা বা পরিচয় টুকু পাই নি।ভিষণ কষ্ট লাগে যখন দেখি আমার সহযোদ্ধাদের নাম ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে সেইখানে, আমাকে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিনেই না।আমার কোন ইচ্ছা নেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন সুবিধা নেওয়ার, সেই বয়সও এখন আর নেই, সত্তর ছুঁই ছুঁই মৃত্যুর সময়টা হয়তো ক্রমাগত ঘনিয়ে আসছে, আমি চেয়েছিলাম আমার পরবর্তী প্রজন্ম যেন জানতে পারে আমার দেশপ্রেমের কথা সেখান থেকে যেন তারাও অনুপ্রাণিত হয় দেশপ্রেমে কিন্ত তা আর হয়ে উঠে নি। এ বিষয়ে গত ১১ই অক্টোবর ২০১১ ইংরেজি তারিখে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধা সংসদে আবেদন করেছিলাম মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য, কিন্ত আজ ১০ বছর হয়ে গেলো এখনো কোন ফিরতি উত্তর পাই নি।অনেকটা আবেগঘন কন্ঠে,বাবার স্বীকৃতির বিষয় নিয়ে আব্দুর রশীদ ‘র মেয়ে সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মাছুমা বেগম বলেন বাবা মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাকুরী নেওয়া বা অন্য কোন সুবিধা নিতে চাই না। তিনি যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাসের এই স্বীকৃতি স্মারকটুকু নিয়ে বাঁচতে চাই। শীঘ্রই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে বাংলাদেশ৷ প্রতিবছরই বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা, হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দ-আমোদধর্মী নানা আয়োজন-অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জাতি উদযাপন করে আসছে দিনটি। কিন্তু এর ব্যতিক্রম থেকে গেলাম আমি। আমি আনন্দিত হতে পারিনি একটা মুহূর্তের জন্যও। তীব্র চাপা কষ্ট প্রতিনিয়ত আমাকে আহত করে, কাঁদায়! আর্তনাদ করে ডুকরে কাঁদি এই দিনটি আসলেই। অতৃপ্তি বাসা বাধে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির কারনে।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি বলে। ভুলতে পারিনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার বাবার অকৃত্রিম অবদানের কথা। কিছুতেই মানতে পারিনা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও সরকারি ও দরকারি স্বীকৃতিটুকু না পাওয়ার আর্তনাদটা । এ বিষয়ে ৫ নং সেক্টরের ডি কোম্পানির সেক্টর কমান্ডার আবুল হোসেনের সাথে যোযোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, মোঃ আব্দুর রশীদ মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন। কিন্ত কি কারনে উনার সার্টিফিকেট পান নাই বা নাম আসে নাই আমি এই বিষয়ে অবগত নয়, তবে আমি শুনেছি উনি এই বিষয়ে একটি আবেদন করেছেন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে কিন্ত উনারা আবেদনটির কোন উত্তর দেন নি।তবে আমি আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করবো যাথে করে উনি প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে উনার মর্যাদাটা পান। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ও পূর্ণবাসন সোসাইটি কেন্দ্রীয় যুব কমান্ড, সিলেট বিভাগের সভাপতি ই›িজনিয়ার মরিয়ম পারভীন বলেন, আব্দুর রশীদ সাহেবের মতো অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এভাবেই তাদের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ জীবন বাজি রেখে তারা দেশের জন্য ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, আমাদের উচিৎ তাদের কে খুঁজে খুঁজে তাদের প্রাপ্য মর্যাদাটুকু দিয়ে তাদের সাম্মানিত করা, তিনি বলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ও পূর্ণবাসন সোসাইটি কেন্দ্রীয় যুব কমান্ড, খুব তৎপর, আমি জনাব আব্দুর রশীদ সাহেবের বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমান্ডে অবগত করবো।

মন্তব্য