বিশেষ খবর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 537,465 482,424 8,182
বিশ্ব 105,957,358 2,310,170 77,602,804

সোনা চোরাচালানে মিডিয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস

 বেসরকারি উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেড সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছে। কোম্পানীর উড়োজাহাজ থেকে একের পর এক কোটি কোটি টাকার চোরাচালানের সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। আর এসব সোনা চোরাচালান আড়াল করতেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মিডিয়াকে ব্যবহার করছেন বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। 
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের ক্যাটারিং-এর গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৭ কেজি সোনা আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন প্রায় সাত কেজি (৬৯৬০ গ্রাম) যার আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় ক্যাটারিং এর আটজনকে আটক করা হয়েছে। 
জানা গেছে, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্তৃপক্ষ গোপন সংবাদে জানতে পারেন যে, মঙ্গলবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে চোরাচালানের সোনা আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সর্তক অবস্থান নেন। এরপর দুবাই থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স-এর বিমান (বিএস-৩৪২) হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি বোর্ডিং ব্রিজ-৪ সংযোগ স্থাপনের পরপরই কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. ইফতেখার আলম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে কাস্টমস গোয়েন্দারা তল্লাশি শুরু করেন। এসময় বিমানের ক্যাটারিং এর গাড়ির ফুড স্টোরেজে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৬০টি সোনার বার আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ক্যাটারিং-এর দায়িত্বরত আটজনকে আটক ও গাড়িটি জব্দ করা হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, এর আগে মাসকাট থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট থেকে ৭ কেজি ২৯০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। তার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। তার আগে ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস থেকে ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়। আর ৩১ জুলাই একই বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার যাত্রী বহনকারী গাড়ির চালকের কাছ থেকে ৩ কেজি ৭১২ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে কাস্টমস। যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩ কোটি টাকা।
এছাড়া, গত ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর ১৭ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি সোনার বারসহ ইউএস-বাংলার এক কর্মী আটক হয়েছিল। 
সূত্র জানায়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কাস্টমার সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ওমর ফারুককে ওই ঘটনায় আটক করে ঢাকা কাস্টম হাউস। আর বিদেশ থেকে সোনার বারগুলো নিয়ে আসা মামুন নামে এক যাত্রীকেও আটক করা হয়। যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ট্রানজিট ও বোর্ডিং এলাকায় নজরদারি ও তল্লাশি করে। আটক যাত্রী ও ইউএস-বাংলার কর্মীকে পুলিশে দেওয়া হয়। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মৌসুমীকে প্রায় ১০ কেজি সোনাসহ গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় এপিবিএনের এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মৌসুমীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সোনা চোরাচালান আইনে মামলা করেন। মামলায় ইউএস-বাংলা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যোগ দেওয়া কেবিন ক্রু নেছার উদ্দিন, তার স্ত্রী, যাত্রী সুহেল খাঁ, লাকী ও বাপ্পীকে আসামি করা হয়। তার আগে ২০ এপ্রিল প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। ঘটনার দিন বিকালে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাইটের টয়লেটে ওই সোনা পাওয়ার কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারের প্রতিটি ১০ তোলা ওজনের মোট ১২০টি সোনার বার উদ্ধার হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদ পায়, ব্যাংকক থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের (বিএস ২১৪) ফ্লাইটের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান হবে। উড়োজাহাজটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশির একপর্যায়ে বিমানের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই বারগুলো পাওয়া যায়। এর আগে ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর ইউএস বাংলার এক ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সোনার বার উদ্ধার করা হয়। আর একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম সোনার বার উদ্ধার করে কাস্টমস।
গত মঙ্গলবার বিমানের ক্যাটারিং এর গাড়ির ফুড স্টোরেজ থেকে সোনার বার উদ্ধার ও জড়িত সন্দেহে এয়ারলাইন্সের ক্যাটারিং-এর আটজনকে আটক ও গাড়িটি জব্দের বিষয়ে ইউএস বাংলা ইয়ারলাইন্সের এর জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোন যাত্রীর লাগেজ তল্লাশীর অধিকার কোন এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের নেই। এগুলো কাস্টমস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ। আর কালকের ঘটনায় যাদের আটক করা হয়েছে, তারা যদি জড়িত থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নিবেন তা তারা মেনে নিবেন। আর এ ঘটনায় যে কোন সহযোগিতা আইন প্রয়োগকারী চান, আমরা সর্বাত্বক সহযোগিতা করবেন বলে জানান তিনি।

 

মন্তব্য