বিশেষ খবর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 537,465 482,424 8,182
বিশ্ব 105,957,358 2,310,170 77,602,804

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বরখাস্ত ৪

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নানা অভিযোগ । এরইমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীকে । এজন্য বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) যেমন দূরনাম হচ্ছে তেমনি ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে সরকারের । এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যে সকল অভিযোগ  ধরা পড়ে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নজরে ।

*পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের ভূমি এলজিইডির নামে অধিগ্রহণ হাওয়া ।
*দরপত্র নিয়ে অনিয়ম
*৩০০(কেভিএ) জেনারেটর ক্রয় না করেই সরকারি টাকা আত্মসাৎ ।
*সময়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সকল ঢাকা জেলা প্রশাসকের নিকট সময় মত পরিষদ না করা ।
*কক্সবাজার বিমানবন্দর এর 37 কোটি টাকা ব্যয়ে সীমানা প্রাচীর  স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী না করা ।

 

এই সকল অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে । এই বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ৪ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ উঠে আসে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় । কর্মকর্তা গুলো হল -
১/মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব (নির্বাহী প্রকৌশলী সিভিল) প্রকল্প পরিচালক কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্প ।
২/মোঃ শহিদুল আফরোজ (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী)

৩/মিহের চাঁদ দে (নির্বাহী প্রকৌশলী ই/এম)

৪/মোঃ শহিদুল ইসলাম মন্ডল(সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী ই/এম )

এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিজুর রহমান বলেন দুর্নীতির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি । তবে আমি এটাকে জিরো টলারেন্স বলবো না আমি এতটুকু বলব এই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা জড়িত আছেন  তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে ।

প্রতিবেদনে বলা হয় মোঃ আমিনুল হাসিব নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়)তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প , বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মকালীন সময়ে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পাদন করা হলেও উক্ত ভূমি প্রত্যাশী সংস্থা হিসেবে এলজিইডি কে উল্লেখ করেছেন ।  জনাব মোঃ আমিনুল হাসিব নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়) বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ গত ৩০-০৫- ২০০৪ তারিখ থেকে অধ্যবধি বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন । তিনি ০৪-১০-২০১২ তারিখে উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ।এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য কক্সবাজার জেলায় ০৪/২০১৫-২০১৬ নং ভূমি অধিগ্রহণ কেসে ৬৯,২৮,৭২২৩.৯৬(ঊনসত্তর কোটি আঠাশ লক্ষ বাহাত্তর হাজার তেইশ দশমিক নয় ছয়) টাকা ২৩-০৫-২০১৯ তারিখের মধ্যে জমা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক কক্সবাজার পত্র প্রেরণ করেন । প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল নির্ধারিত তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা প্রদান করা ।কিন্তু তার উদাসীনতা গাফিলতি অদক্ষতা দুর্নীতি ও ব্যর্থতার কারণে নির্ধারিত সময়ে অধিগ্রহণ কেস এর অর্থ জেলা প্রশাসকের নির্ধারিত খাতে জমা প্রদান না করায় ভূমি অধিগ্রহণ কেসটি আইনানুগভাবে বাতিল হয়েছে ।এই প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ পুরাতন অধিগ্রহণ আইনের আওতায় হওয়াই ভূমি ক্ষতিপূরণ বাবদ জমির দেড়গুণ অর্থ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত ছিল ।  কিন্তু অধিগ্রহণ ক্যাচটি বাতিল হওয়ায় তা 2017 সালের আইনের আওতায় সম্পূর্ণ করতে হবে । এ কারণে জমির মূল্য তিনগুণ এবং এ সময় উক্ত এলাকায় জমির বর্ধিত মূল্য হারে পরিশোধ করতে হবে । ফলে এ খাতে সরকারের কমপক্ষে 100 কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে । এটি উনি স্থানীয় ভূমি মালিক ও জেলা প্রশাসক কক্সবাজার এর কতিপয় কর্মচারীদের যোগসাজশে করেন এবং এ থেকে অনৈতিক ভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেন ।
জনাব মোঃ আব্দুল হাসিব নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়) বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উক্ত প্রকল্পের একটি কম্পনেন্ট হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দর এর 37 কোটি টাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণে স্পেসিফিকেশন অনুসারে নির্মাণ করেননি । তার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা , অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে এ প্রকল্পের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্রুটি হয়েছে ।
মোঃ শহিদুল আফরোজ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কক্সবাজার বিমান বন্দরে ২০১৪-২০১৫অর্থবছরে একটি তিনশো কেবি জেনারেটর গ্রহণ না করে পরস্পর যোগসাজশে  অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক কক্সবাজার দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি মামলা নং ৮৬১/২০১৯ দায়ের হয় এবং ফৌজদারি মামলায় কক্সবাজার  দায়রা জজ আদালতে গত ১১/০২/২০১৯ তারিখে অবস্থিত হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন । তার এ ধরনের কার্যকলাপ বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ।


মেহের চাঁদ দে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) কক্সবাজার বিমান বন্দরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে একটি ৩০০ কেভিএ জেনারেটর ক্রয় না করে পরস্পর যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক কক্সবাজার দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি মামলা নং ৮৬১/২০১৯ দায়ের হয় এবং ফৌজদারি মামলায় ককসবাজার দায়রা জজ আদালতে গত ১১/০২/২০১৯ তারিক উপস্থিত হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রেরণ করে । তার এ ধরনের কার্যকলাপ বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম মন্ডল সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের সংলগ্ণকৃত এবং পরিচালকের দপ্তর , সেমসুতে কর্মরত মোঃ শহিদুল ইসলাম মন্ডল , সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী এর বিরুদ্ধে কক্সবাজার বিমান বন্দরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একটি ৩০০কেভিএ জেনারেটর ফুরোয় না করে পরস্পর যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক কক্সবাজার থানায় চার্জশিট নং-০৩, তারিখ ০৫-০১-২০২০ তারেক দাখিল করা হয় । তারে ধরনের কার্যকলাপ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সম্মান ক্ষুন্ন করে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ।

মন্তব্য