বিশেষ খবর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
CTG News

ঢামেকের সিনিয়র নার্সদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ

 ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) চারজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সরকারি কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। 
শুধু তাই নয়, এসব অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স দায় স্বীকার করে আত্মসাতকৃত অর্থ রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোড সোনালী ব্যাংক ও জিগাতলা সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারির তিনজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন ক্যাশ সরকার অর্থ আত্মসাত করেছেন। তারা হলো, সিনিয়র স্টাফ নার্স আবু তাহের, সিনিয়র স্টাফ নার্স ববিতা হালদার, মানিক কুমার দাস ও দিলারা জাহান। এছাড়া মুদগা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার দেবাশীষ সাহা। 
শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারির তিনজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন ক্যাশ সরকার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছেন। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে ববিতা হালদার নামের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দু’টি হিসাবে সোনালী ব্যাংক ঝিগাতলা শাখায় ৪৮ নম্বর চালানের মাধ্যমে গত ২২/০২/২০২১ ইং তারিখ ও সোনালী ব্যাংক নাজিম উদ্দিন রোডস্থ শাখায় গত ২৩/০২/২০২১ ইং তারিখে ৩ নম্বর চালানে টাকা জমা দিয়েছেন। 
ঢামেক সূত্র জানায়, এসব সিনিয়র নার্স আবু তাহের ২৮ লাখ ৪৮ হাজার ১২০ টাকা, সিনিয়র স্টাফ নার্স ববিতা হালদার ৬ লাখ ৬৮ হাজার ১৯০ টাকা, দিলারা জাহান ১৫ লাভ ৬৮ হাজার ১০ টাকা, আর মানিক কুমার দাস ১৩ লাখ ৮০ হাজার ১৭৬ টাকা আত্মসাত করেছিলেন। এছাড়া মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার দেবাশীষ সাহা ২ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন। এসব অর্থ অতিরিক্ত খাত, উৎসব ভাতাসহ বিভিন্ন প্রকার ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে মোট ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৬ টাকা আত্মসাত করেছিলেন। 
এ ব্যাপারে চিফ একাউন্টেন এন্ড ফিন্যাস অফিসার নঈম আসাদুজ্জামান এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, মহাপরিচালক স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তর, মহাপরিচালক নাসিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালের সিনিয়র নার্স ও মেডিকেল অফিসারদের তাদের কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 
উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট বিক্রির ৫৯ লাখ ১০ হাজার ৬০১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলার অনুমোদন দেন কমিশন। উক্ত অভিযোগটি অনুসন্ধান করেছিলেন, তৎকালীন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম। মামলাগুলো দণ্ডবিধির ৪০৯/২০১ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় দায়ের করা হয়। 
এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এর সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এর সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি অনুষ্ঠানে থাকায় পরে কথা বলতে বলেন। 

 

মন্তব্য