বিশেষ খবর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
CTG News

জঙ্গি নেতা মৌলভী আনিছুর রহমানের ব্যাপারে ইউজিসিতে অভিযোগ

দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার ও রাজশাহী অঞ্চলের একসময়ের জঙ্গি সাংবাদিক মৌলভী আনিছুর রহমান ভূয়া শিক্ষক বেশে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন আশ্রয় নিতে না পারে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে চিঠি দেয়া হয়েছে। ৭ মার্চ ২০২১ তারিখ এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম আহমদ তার চিঠিতে জঙ্গি আনিছুর রহমানের একাডেমিক অযোগ্যতা ও তার নানা অপকর্মের বর্ননা দিয়ে বলছেন, এমন একজন জঙ্গি কোনভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারে না।

আনিছুর নব্বইয়ের দশকে মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সময় থেকেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মী ছিলো। একপর্যায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়ে দ্বিতীয় শ্রেনীতে পাশ করে। ২০০৪ সালে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজশাহী ক্যাম্পাসে আনিছুরের সাথে ভূয়া ভিসি জামাত নেতা মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেকের সাথে পরিচয় হয়। তখন থেকেই আনিছুরকে অবৈধ ভিসি সাদেক অবৈধভাবে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আসছে। উগ্রপন্থী সাংবাদিক আনিছুর তার জঙ্গি পরিচয় মুছে দিতে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদেকের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক বেশে আশ্রয় নিয়েছে। শিক্ষকের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধকে ব্যবহার করে সাদেক আনিছুরকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০১২ সাল থেকে কোন উপাচার্য উপ-উপাচার্য ট্রেজারার কিছুই নেই। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জঙ্গি উগ্রপন্থী কেউ আশ্রয় চাইলে ভুয়া ভিসি সাদেক তাকে কোননাকোন পদে চাকুরি দিয়ে আশ্রয় দেয়। জঙ্গি নেতা বাংলা ভাইয়ের সহযোগী আনিছুর নিজেকে রক্ষা করতে ছলেবলে কৌশলে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে চলা ফেরা শুরু করছে। সন্ত্রাসবাদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবেলায় গঠিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ শাখা কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) উগ্রবাদে জড়িত হওয়ার যে লক্ষণ সমুহের কথা বলছে তার মধ্যে আছে ইন্টারনেটে উগ্রবাদী প্রচারণা এবং পেশার পরিবর্তন জঙ্গিবাদের লক্ষণ। সাংবাদিকতা বাদ দিয়ে শিক্ষক হতে চাওয়া এবং ইন্টারনেটে উগ্রবাদী প্রচারণা এই দুটি লক্ষণ আনিছুরের মধ্যে সুনিশ্চিত প্রমানিত হওয়ায় আনিছুর উগ্রবাদী বা জঙ্গি।

চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যানকে জানানো হয় ঢাকার আশুলিয়ায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ জঙ্গিদের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করছে হরকাতুল-জিহাদ আল-ইসলামি (হুজি) নামক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গ্রুপের বাংলাদেশী শাখার এই সক্রিয় সদস্য মৌলভী আনিছুর রহমান। আনিছুরের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান। প্রায় দুই দশক আগে আনিছুর জড়িয়ে পড়ে জঙ্গি সংগঠন হুজিতে। হুজি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাস আইন ২০০০ এর অধীনে একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংস্থা। বাংলাদেশে সংগঠনটি হুজি-বি নামেও পরিচিত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির ক্যাডার আনিছুর রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি মাহামুদুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি মৌলভী আনিছুর রহমান দৈনিক নয়াদিগন্ত ও বর্তমানে বন্ধ পত্রিকা দৈনিক আমারদেশ প্রতিনিধি হিসেবে রাজশাহী অঞ্চলের সাংবাদিক ছিলো। সাংবাদিকতার পাশাপশি আনিছুর ২০০৮ সালে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজশাহী ক্যাম্পাসে পার্টটাইম লেকচারার এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছিলো। তখন রাজশাহী অঞ্চল ছিলো ছাত্র শিবিরের দখলে। দলীয় নেতা-কর্মীদের  হাতে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনা করতো প্রতারক এমিরেটস ও ভুয়া ভিসি সাদেক। আনিছুরকে কোন দ্বায়িত্ব না দিলে রাজশাহীতে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় চলবে না বলেও হুমকি দিয়েছিলো জঙ্গি সংস্থা আইএসের অর্থায়নে পরিচালিত নয়াদিগন্তের এই সাংবাদিক আনিছুর। সীমাহীন চাঁদাবাজি অভিযোগে একপর্যায়ে দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকা থেকে আনিছুরের চাকুরী চলে যায়। তারপরে দৈনিক আমারদেশ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করে। তখন রাজশাহীতে ছিলো শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য। আনিছুর রহমান একদিকে ছিলো সাংবাদিক অন্যদিকে ছিলো শিবিরের ক্যাডার।  বিএনপি জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকায় আনিছুরের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। সেসময় ভুয়া নিউজ ছাপানোর অপরাধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এই আনিছুরের নামে মানহানি ও চাঁদাবাজির মামলা করেছিলো। উগ্রপন্থী সেই আনিছুর এখন এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হয়ে আশ্রয় নিয়ে থাকতে চায়। মাদ্রাসার ছাত্র মৌলভী আনিছুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয়ে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন আশ্রয় নিতে না পারে তার জন্য ইউজিসি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ চাইলে তিনি দৈনিক সকালের সময়কে বলছেন জঙ্গি ইস্যুতে সরকারে নীতি "শুন্য সহনশীলতা" অনুসরণ করবে ইউজিসি। চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়ে বলছেন এমন গুরুতর অভিযোগ দ্রুততম সময়ে ক্ষতিয়ে দেখবে ইউজিসি এবং যথাযথভাবে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

রাজশাহী অঞ্চলের একাধিক সাংবাদিকের সাথে কথা বলে জানাগেছে আনিছুরের সাথে বাংলা ভাইয়ের সাংগঠনিক যোগাযোগ ছিলো। সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই ছিল একজন বাংলাদেশী সন্ত্রাসী। তিনি জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ নামক চরমপন্থী সংগঠনের নেতা এবং বোমা হামলা ও হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত। ৬ মার্চ ২০০৬ খ্রীস্টাব্দে পুলিশ ও র‌্যাব এর সম্মিলিত অভিযানে বাংলা ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বোমা হামলার অপরাধে তাকে এবং তার সহযোগীদেরসহ মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও সন্ত্রাসী ও হরকাত-উল-জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশ শাখার প্রধান মুফতি আব্দুল হান্নানের সাথে মৌলভী এই আনিছুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিলো এমন তথ্য রাজশাহীর সাংবাদিকদের থেকে জানাগেছে। ২০০৫ সালে আব্দুল হান্নান গ্রেফতার হলে মৌলভী আনিছুরের সম্পর্ক হয় খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি মাহামুদুর রহমানের সাথে। ২০০৮ সালে বেসামরিক সরকার পুনরুদ্ধার এবং আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর থেকে মাহমুদুর রহমান তার সংবাদপত্রের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫০ বারের ও বেশি মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় অভিযুক্ত হয়েছে। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অবমাননার দায়ে সাজা প্রদান করেছে। ১১ এপ্রিল ২০১৩ সালে তাকে কাওরান বাজারস্থ আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্লগারদের লেখা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ রয়েছে। মাহামুদুর গ্রেফতার হওয়ার পর মাহামুদুর রহমানের এই শিষ্য মৌলভী জঙ্গি আনিছুর রহমান সরকারকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দিয়ে কয়েক বছর যাবত মিটিং মিছিল করছে এবং নিয়মিতভাবে তার ফেসবুকে সরকার বিরোধী স্টাটাস দিয়েছে।

মুফতি হান্নান একাধিক অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হলে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে সাংবাদিক মাহামুদুর রহমানের সাজা হওয়ার পর মৌলভী আনিছুর রহমান তার পেশা বদলানোর চেষ্টা করে। সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে ২০১৩ সালে মৌলভী আনিছুর রহমান এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী চেয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ভিসি মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেকের কাছে। তার একবছর পূর্বে সাদেকের দ্বায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সে বছরে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বা এনএসইউ-এর পাঁচ ছাত্র৷ তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়৷ সেই ছাত্ররা ছিল আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য৷ মৌলভী আনিছুরের সাথে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় আনিছুর সে বছর গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে থাকায় এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন পদে চাকুরী পায়নি।

অবশেষে ২০১৯ সালে আনিছুরকে আশুলিয়া ক্যাম্পাসে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূয়া ভিসি সাদেক। তার দুবছর পূর্বে ভিসি সাদেক তার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলো। একাদিক পদে অবৈধভাবে নিয়োগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ পরিচালকের দ্বায়িত্ব দিয়ে আনিছুর রহমান ও সাদেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করছে কিনা সেই বিষয়টি তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে। ২০২০ সালে করোনাকালে বিভিন্ন ওয়েবিনার আয়োজন করে আনিছুর রহমান জঙ্গিদের সাথে মিটিং করছে। বাংলাদেশ শিক্ষা ও গবেষণা নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) সুবিধার অপব্যবহার করছে বলে সেই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। সেসময় ভূয়া ভিসি মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক নিজের নামের সাথে ইমিরেটাস উপাধি ব্যবহার করে অন্যান্য সম্মানিত অধ্যাপকদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলো। এমন প্রতারনায় সেখানকার সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম আহমদের নজরে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী শামীম আহমদ পহেলা ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ একটি চিঠির মাধ্যমে "ইমিরেটাস" উপাধি ব্যবহারের বিষয়টি সরকারকে অবহিত করেন। শামীম আহমদের সেই চিঠির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে ভুয়া ভিসি সাদেককে ইমিরেটাস উপাধি ব্যবহার না করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পর থেকে তিনি ইমিরেটাস উপাধি ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছে। সেই ভুয়া ইমিরেটাস এবং ভুয়া ভিসি সাদেক মৌলভী আনিছুর রহমানের নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করেনি। এমনকি মৌলভী আনিছুরের একাডেমিক সনদ অনুযায়ী তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্য নয়। দ্বিতীয় শ্রেনীতে দাখিল ও আলিম পাশ করে মৌলভী আনিছ জড়িয়ে পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের রাজনীতিতে। পরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পরে মৌলভী আনিছুর জড়িয়ে পরে উগ্রপন্থী নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সাথে।

মন্তব্য