সারা বাংলা

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
CTG News

দৌলতদিয়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাটের দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীসহ চারপাশ এখন মাদকে সয়লাব। হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। দৌলতদিয়ায় মাদকের ছড়াছড়িতে তরুণসমাজ ধ্বংসের পথে। গাঁজা, ইয়াবা-হেরোইনসহ এমন কোনো মাদক নেই যা দৌলতদিয়ায় পাওয়া যায় না। 
 
দৌলতদিয়ার পতিতাপল্লীসহ আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীরা কন্ট্রোল করছে এই মাদক ব্যবসা। বড় বড় মাদক ব্যবসায়ী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে আফগারি কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও ধরা পড়েছে না বড় বড় ব্যবসায়ী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাটসহ দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে এটা কতটুকু প্রয়োগ হচ্ছে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
দৌলতদিয়ার গাঁজাসম্রাজ্ঞী নামে পরিচিত পতিতলায়ের গাঁজা ব্যবসায়ী মুন্নি ফরিদ স্থানীয় প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে হরহামেশাই ঘরে বসে প্রতিদিন বিক্রি করছেন কয়েক কেজি গাঁজা। এ ব্যাপারে মুন্নির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে নিউজ করে লাভ নেই, আমি গাঁজা বিক্রি করবই। পরোয়া করি না জেল-জুলুম ও মামলার।
আরেক গাঁজা ব্যবসায়ী শামচু শেখের ছেলে নয়ন। ৫ নম্বর ওয়ার্ড দৌলতদিয়ায় সামসু মাস্টারপাড়ায় বসবাস। হরহামেশাই বিক্রি করে যাচ্ছেন গাঁজা। মুঠোফোনে তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সকলকে ম্যানেজ করেই গাঁজা বিক্রি করছি। আরেক মাদক ব্যবসায়ী মোতালেব দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সামসু মাস্টারপাড়ায় বসবাস। বিগত সময়ে মাদক ব্যবসা করে কামিয়েছেন কোটি টাকার বেশি। এখন তিনি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দূর থেকে করে যাচ্ছেন মাদক ব্যবসা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সময় জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া এই মাদক ব্যবসায়ী মোতালেব এবং তার ছেলে নাজমুলের প্রভাব এখন সর্বত্রই।
আরেক ইয়াবা সম্রাট শহীদ আম্বিয়া ১০-১২টি মামলা মাথায় নিয়েও হরহামেশাই বিক্রি করে যাচ্ছেন ইয়াবা। মাদক বিক্রির অপরাধে বারবার গ্রেপ্তার হলেও এ কারবার থামাননি তিনি।
মোহাম্মদ নাসির, পিতা শাহজাহান, মাতা পাতা বেগম, ভাই কামরুল ৫ নম্বর ওয়ার্ড দৌলতদিয়া সামসু মাস্টারপাড়ায় বসবাস। সপরিবারে বিক্রি করে যাচ্ছে ইয়াবা। এ ব্যাপারে নাসিরের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে বলেন, আগে আমরা বেশি ইয়াবা বিক্রি করতাম। এখন অল্প অল্প ইয়াবা বিক্রি করি।
ইয়াবা ব্যবসায়ী মৃত নুরু শেখের ছেলে রাজিবের বসবাস কেনেলঘাট ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। হরহামেশাই বিক্রি করে যাচ্ছেন ইয়াবা। আরক ইয়াবা ব্যবসায়ী মৃত মস্তফার ছেলে আলম সামসু মাস্টারপাড়ার ৫নং ওয়ার্ডে বসবাস। তিনিও হরহামেশাই বিক্রি করে যাচ্ছেন ইয়াবা।
এক সময়ের ইয়াবা সম্রাট দৌলতদিয়া পতিতালয়ের আয়ুব কাকুলি এখন দৌলতদিয়ায় পাইকারি ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বারবার উনার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি।
অদৃশ্য শক্তির বলে দৌলতদিয়ায় চলছে মাদক বিক্রির মহোৎসব। প্রশ্ন হচ্ছে, মাদক বিক্রির মোটা অংকের টাকার ভাগীদার কে কে? কার কার পকেটে যাচ্ছে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসিক চাঁদা? যে কারণে বন্ধ হচ্ছে না দৌলতদিয়ার গোয়ালন্দে মাদক বিক্রি।
এ ব্যাপারে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ধনঞ্জয় মণ্ডলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সদা সচেষ্ট মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করার জন্য। যখনই সুযোগ পাচ্ছি মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম জানান, গোয়ালন্দ ও দৌলতদিয়ায় মাদক কারবার সর্বদাই হচ্ছে। আমরা বারবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মাদক সেবনকারী ও বিক্রয়কারীকে জেল-জরিমানা করছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল তায়েরির জানান, আমরা মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আমরা গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠাচ্ছি। আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য