সাহিত্য

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
Manarat University

বাতিঘর তুমি রয়ে গেলে একা

বাতিঘর তুমি রয়ে গেলে একা 
 ফারুক সৈয়দ
 
একা একা দাঁড়িয়ে তুমি
সর্বদাই একাগ্রচিত্ত সজাগ।
কখনো ঝড়, রাতের আঁধারে ঘুম ছাড়া,
কখনো প্রচণ্ড বৃষ্টি , হু হু করা বাতাস।
আবারো সীমাহীন শান্তিহীন
নগ্নতার স্পর্শকাতর উল্লাস!
সাগর পেরিয়েই আকাশ,
কখনো আবার আকাশ পেরিয়ে সাগর, বাতাস
কারুকার্য সব যেন অপূর্ব ধর্মের  ধরণ।
 
নিরানন্দকালে জাড়, 
হিম হিম বার্ধক্য সবার 
অথচ তোমার এপার, তোমার ওপার -
গন্ডাকড়ি আসে যায় না কারো।
স্তম্ভ শীর্ষস্থ রোদ্দুরে ঝলাস, 
গ্রীষ্মের আকাশ যেন মায়াহীন, ছায়াহীন 
কাঁদে না পর্যটক একফুটো।
সে নিজের আনন্দে মাতাল, চায় শুধু লালসার স্বাদ 
আর লজ্জাহীন নিবিড় নৈকট্য!
 
তোমার কোন ক্লান্তি নেই,
আকাশ যেন মেঘকাল শ্রীমতীর অশ্লীল
চরিত্র বিজ্ঞাপনের সাদাকালো ছবি!
চারপাশে সাড়াহীন বার্ধক্যের নীরবতা,
সাগর-অসতী যেন ভেঙ্গে দিয়ে ধ্বান্ত তামাশা
খোলা গলায় ডাকে, বলে যায় যা তা,
গায় না কোন শালীন গান।
বাঙ্কারের পিছনে দাঁড়ানো পুরুষ
প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে, চেয়ে দেখে
হঠাৎ, তুমি আছ স্বাক্ষী হয়ে।
 
এদিক ওদিক চেয়ে ক্ষোভ মনে
তবুও ভাবো দিনকাল সব বুঝি
অবিনাশী অপরিমিত আঁধার।
তুমি দাঁড়িয়ে - অপেক্ষায় আছ
যদি এসে যায় প্রেমিকা তোমার
সপ্তদশী সাধ্বী কুমারী।
বাতিঘর, তুমি রয়ে গেলে একা!
 
--
লেখক পরিচিতি :
পাঁচ দশক আগে ফারুক সৈয়দ উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ছেড়ে সুদূর পাড়ি দিয়েছিলেন ডেনমার্কে। দেশ ত্যাগ করলেও মাতৃভাষা সবসময়ই লালন করেছেন হৃদয়ে। মাতৃভাষা ছেড়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। প্রবাসের কর্মজীবনে মায়ের ভাষা চর্চা সম্ভব না হলেও বাংলাভাষার জন্য তাঁর তৃষ্ণার্থ শুধুই বৃদ্ধি পেয়েছে। 
 
১৯৬৯ - ১৯৭৩ সনে ফারুক সৈয়দ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস জীবনে ইংরেজী দৈনিক দ্যা পিপলসে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। একই সময়ে সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও দৈনিক ইত্তেফাকে রম্যরচনা, কবিতা প্রকাশ করেন। ১৯৭৩ সন থেকে লেখক ডেনমার্কেই বসবাস করছেন। 
 
সুদূর প্রবাসে থেকেও বাংলায় কবিতা, প্রবন্ধ ও গল্প লিখে  মানসিক প্রশান্তি ফিরে পাওয়ার এক নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা লেখকের মাঝে জীবন্ত রয়েছে। বাংলা ভাষা ছাড়াও ফারুক সৈয়দ ইংরেজি ও ড্যানীশ ভাষায়
রম্যরচনা এবং কবিতা লিখে যাচ্ছেন। 
 

মন্তব্য