সারা বাংলা

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
Manarat University

গাইবান্ধায় ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে পুলিশ পুনরায় অপহরণকারীর হাতে তুলে দেয়ার পর ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন পুলিশ সুপার।
 
এ ঘটনায় পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রাতে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মজিবর রহমান ও এসআই মোশাররফকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। একই সাথে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজার রহমানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে পত্র দেয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।
 
হাসান হত্যা প্রতিবাদ মঞ্চের সংগঠক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করায় পুলিশের দায়িত্বহীনতা প্রমাণিত হয়। কিন্তু থানার ওসি মাহফুজার রহমান এ ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। তিনি অবিলম্বে ওসি মাহফুজার রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
 
হাসান হত্যা প্রতিবাদ মঞ্চের সমন্বয়ক প্রবীণ রাজনীতিক আমিনুল ইসলাম গোলাপ বলেন, অভিযোগ প্রমাণের পর শুধু প্রত্যাহার নয়, দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে ওসি মাহাফুজার রহমানকে থানায় রেখে ওই মামলার সঠিক তদন্ত সম্ভব নয়।
 
গত ৫ মার্চ জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীকে অপহরণ করে গাইবান্ধা জেলা আ'লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা। এরপর তাকে উদ্ধারের দাবিতে হাসানের স্ত্রী বিথী বেগম থানায় অভিযোগ করলে মাসুদের বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর অপহৃত ব্যবসায়ী হাসান আলীকে আবারো অপহরণকারী মাসুদের জিম্মায় দেয় পুলিশ।
 
টানা এক মাস মাসুদের বাড়িতে আটক থাকার পর গত ১০ এপ্রিল শনিবার মাসুদের বাড়ির টয়লেট থেকে ব্যবসায়ী হাসান আলীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর আগে মোবাইল থেকে ক্ষুদেবার্তায় হাসান আলী স্বজনদের জানান, মাসুদ রানা তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করে এবং থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে তার কাছ থেকে মিথ্যা অঙ্গীকার নেয়।
 
আসান আলীকে হত্যার দায়ে ওই দিনই মাসুদকে আটক করে পুলিশ। পরদিন দলীয় পদ থেকেও মাসুদকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
 
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিথী বেগম বাদী হয়ে মাসুদ রানা, রুমেন হক, খলিলুর রহমান বাবুকে আসামি করে এবং সদর থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে মামলায় দায়ের করেন। ওই মামলায় মাসুদ রানাকে গ্রেফতার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
 
অন্যদিকে ব্যবসায়ী হাসান আলীকে উদ্ধারের পর থানা থেকে অপহরণকারী মাসুদ রানার হাতে তুলে দেয়ার ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাহাত গাওহারীকে আহ্বায়ক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের ও পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল লতিফকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। ওই কমিটি তদন্ত শেষে ২০ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
 
ঘটনার পরপরই হাসান আলী হত্যার বিচারের দাবিতে ফুঁসে ওঠে গাইবান্ধার সর্বস্তরের মানুষ। মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা। গঠন করা হয় হাসান হত্যা প্রতিবাদ মঞ্চ।

মন্তব্য