উপ-সম্পাদকীয়

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
Manarat University

ইবাদতের ভরা বসন্ত মাহে রমজান এম সাইফুল ইসলাম নেজামী

শাবান মাসের শেষ দিন। দিনের আলো ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। মুমিন দৃষ্টি পশ্চিম আকাশে। প্রাণে খুশির দোলা। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলে হন্যে হয়ে কী যেন খুঁজছে। ঐ দূর মিনারে অনুরণিত হলো মাগরিবের আযান। আল্লাহু আকবর.. আল্লাহু আকবর। একদিকে ঘরে ঘরে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে উঠেছে। অন্যদিকে পশ্চিম দিগন্তে আঁধারের বুক ছিঁড়ে হেসে উঠেছে চিকন সুতার মতো বাঁকা চাঁদ। আলহামদুলিল্লাহ কণ্ঠে মালিকের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন মুমিন আত্মা। কারো মুখে এক জলক হাসি! আবার কারো নয়নে আনন্দাশ্রু। বছর ঘুরে আবার এলো মাহে রমজান। অফুরন্ত রহমত, বরকত, কল্যাণ ও ইবাদতসমৃদ্ধ এ মাস। জাগতিক লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে রেখে আত্মসংশোধনের মাধ্যমে ইনসানে কামেল হওয়ার অবারিত সুযোগ এনে দেয়- মাহে রমজান। মহান আল্লাহ ইসলামি বিধি-বিধানকে চাঁদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। রাসূলে পাক (দ.) ইরশাদ করেন, "তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। কিন্তু যদি আকাশে মেঘ থাকে তাহলে ৩০ দিন পূর্ণ করো।" সহিহুল বোখারি। রমজানের চাঁদ দেখা সুন্নাত। পুণ্যময় আমল। মাহে রমজানের চাঁদ দেখার পুণ্য হাসিলের মাধ্যমে শুরু হয় ধৈর্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ রোজার তোড়জোড়। ইবাদতের ভরা বসন্ত মাহে রমজানের দিন শুরু হয় প্রভুভক্তির সিয়ামে; আর রাতে আছে কিয়াম (তারাবিহ)। মুমিন প্রাণের সাহস মরুর দুলাল (দ.) ফরমান, "যে ব্যক্তি এ মাসে একটি কল্যাণময় কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করবে, সে অন্য সময়ের ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাবে এবং যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ ইবাদত করবে সে অন্য সময়ের ৭০টি ফরজ আমলের সওয়াব পাবে।" ইবাদতের মৌসুম মাহে রমজান। মুসলিম মাত্রই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুনিব প্রদত্ত আবশ্যকীয় ডিউটি। ঈমানদারের নিদর্শনও বটে। রমজান মাসে নামাজে আসে ভিন্ন মাত্রা। মসজিদের মিনার থেকে যখন ভেসে আসে এশারের আজান তখন মা-বোনরা ঘরে আর পুরুষদের লক্ষ্য মসজিদ। এশারের ফরজ ও সুন্নাত শেষে ইমাম সাহেব নিয়ত করেন বিশেষ এক সালাতের। নাম তার সালাতুত তারাবিহ! রমজান মাসে তারাবির নামাজ সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। সন্দেহাতীতভাবে এ নামাজের রাকাত সংখ্যা বিশ। যেটা গুরুত্বের দিক থেকে ওয়াজিবের কাছাকাছি। তারাবি সম্পর্কে রাসুল (দ.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকীর আশায় কিয়ামুল লাইল তথা তারাবি আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আমরা পাপীতাপীদের জন্য পাপ মার্জনার সুবর্ণ সুযোগ বিশ রাকাত তারাবিহ। এ অফার রমজান মাসেই সীমাবদ্ধ। তারাবির জামাত শেষে বিতিরও জামাতে। এটাও রমজানেই খাস। তারাবি শেষে সাহারি পর্যন্ত এ সময়টাও ইবাদত হিসেবে ধরা হবে। রাতের শেষাংশ। মুয়াজ্জিন মাইকে ঘোষিল। ওঠে যান, ওঠে যান, সাহারির সময় হয়েছে ওঠে যান। ঘড়িতে তখন ভোররাত আড়াইটা থেকে তিনটা। আমরা অনেক সময় প্রয়োজনে ভোররাতে ওঠি। ঐটা কিন্তু ইবাদতের খাতায় গণ্য হয় না। এ ওঠা ইবাদত। এ ভোররাতের রান্নাও ইবাদত। হ্যাঁ, আমি ঠিক বরকতময় সাহারির কথাই বলছি। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে উষা উদয়ের আগে যে খাবার গ্রহণ করা হয়, তা সাহরি। সাহরি খাওয়া সুন্নাত। তাবরানি শরীফে এসেছে- নবী করিম (দ.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সাহরি খায়, তার ওপর আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা রহমত বর্ষণ করেন।" সাহরি খাওয়ার মধ্যে অফুরন্ত রহমত, বরকত, নিয়ামত ও কল্যাণ আছে। সাহারির মাধ্যমে শেষ রাতে ওঠার অভ্যাস হয়। শেষ রাতে আল্লাহর রহমত অবিরাম ধারায় বর্ষিত হতে থাকে। এ সময় রয়েছে এক বিশেষ আমল। আর তা হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ হলো আম্বিয়া আলাইহিস সালামদের সুন্নাত, আল্লাহর মাহবুব বান্দাদের অভ্যাস আর আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্ক স্থাপনের অন্যতম পন্থা। তাহাজ্জুদের ফজিলত প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সুরা বনি ইসলাইলের ৭৯ নং আয়াতে বলেন, "রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ নামাজ কায়েম করুন; এটা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন মাকামে মাহমুদে।" প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)'র হাদিসেও তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।" নিয়মিত তাহাজ্জুদ অনুশীলনের সুযোগও রমজানের ভরা বসন্তের অংশ। সাহারির সময় শেষ। এ আওয়াজ কর্ণকুহরে আসলেই পানাহার বন্ধ। এটাই প্রভুভক্তি। এটাই নবীপ্রেম। এখানেই ধৈর্যের পরীক্ষা। সাহারি গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয় রমজানের অন্যতম প্রধান আমল সিয়াম। সিয়াম বা রোজা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, দাম্পত্য মিলন ও রোজা ভঙ্গ হওয়ার সকল বিষয় থেকে দূরে থাকা। সুরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিলো। নিঃসন্দেহে তোমরা মুত্তাকি (খোদাভীরু) হতে পারবে।" আল্লাহর জন্য সিয়াম পালনকারীদের সম্মানে আল্লাহ জান্নাতকে বিশেষভাবে সজ্জিত করেন। মায়ার নবী (দ.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি পূর্ণ ইমানের সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় রমজানে রোজা পালন করবে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" রোজা আমার জন্য, আমি নিজেই রোজার প্রতিদান প্রদান করবো। মহান আল্লাহর এ ফরমান, রোজাদারকে তোলে দেয় অনন্য উচ্চতায়। সত্যিকার অর্থে রোজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অন্য সময় মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে যখন ধ্বনিত হয় আসসালাতু খায়রুম মিনান নওম অর্থাৎ ঘুম থেকে নামাজ উত্তম আর তখন অধিকাংশ আল্লাহর বন্দা থাকে ঘুমের রাজ্যে। কিন্তু রমজানের চিত্র ভিন্ন। সাহারি গ্রহণপূর্বক রোজাদাররা ফজরের নামাজের কল্যাণ হাসিল করে ধন্য হন। এ ফজিলতপূর্ণ চর্চা মাহে রমজানের দান।মাহে রমজান কুরআন নাজিলের মাস হওয়ায় এ সময় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব অপরিসীম। প্রিয় নবীর বাণী- "অন্তরের কলুষতা পরিষ্কার করার উপায় হলো বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা।" দিনে রোজামুখে কুরআন তিলোয়াত করা। রাতে তারাবির জামাতে হাফেজে কুরআনদের মন্ত্রমুগ্ধ কণ্ঠে তিলাওয়াত শুনে বরকত হাসিলের সুযোগটা শুধুমাত্র রমজানেই পাওয়া যায়। জুমার দিন ছাড়া মসজিদে যাওয়ার অবসর হয়ে ওঠে না অনেকের। জামাতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে দয়াল নবী বারংবার তাগাদা দিয়েছেন। অন্য সময় কম হলেও কিন্তু ইবাদতের ভরা মৌসুম মাহে রমজানের প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জামাত যেন জুমার জামাত (উপস্থিতি বেশি)। কেননা মাহে রমজানে মুমিনের ধ্যান-জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সিয়াম সাধনা বান্দাকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে দূরে রেখে নিরেট মুত্তাকী হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। মাহে রমজানের শেষ দশকে রয়েছে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পরীক্ষিত আমল 'ইতেকাফ'। মাহে রমজানের শেষ দশ দিন মহল্লাবাসী থেকে যে কোন একজন মুসল্লী ইবাদতের নিয়তে শবে ক্বদর তালাশের লক্ষ্যে রমজানের রোজাসহ মসজিদে অবস্থান করা সুন্নাতের মুয়াক্কাদাহ্ আলাল কেফায়া। রমনীদের জন্যও রমজানের শেষ দশদিন নিজ ঘরে ইতিকাফ পালন করা সুন্নাত। রাসূলে খোদা (দ.) এরশাদ করেন, "যে ব্যক্তি মাহে রমজানের দশদিন ইতিকাফ করবে সে দু'টি হজ্জ ও দু'টি ওমরাহ পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করবে।" ইবাদতের ভরা বসন্ত রমজান আমাদের দু'হাত পুণ্যে ভরিয়ে দেয়। মাহে রমজানে রয়েছে লাইলাতুল কদর নামক মহিমান্বিত একটি রজনী। লাইলাতুল কদরের অন্য নাম শবে কদর। কদরের রাতে অজস্র ধারায় আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।কুরআনুল কারীমে এরশাদ হয়েছে, "আমি একে নাযিল করেছি শবে কদরে। শবে কদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন? শবে কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।" বুখারী শরীফের হাদিস: একদা হজরত উবায়দা (রা.) নবী করীম (দ.)-কে লাইলাতুল কদরের রাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তখন নবীজী সেই সাহাবিকে বললেন রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে তালাশ করো। লাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। তাই সারা রাত জেগে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগীতে মনোনিবেশ করা আমাদের কর্তব্য। মাহবুব নবী শবে কদরে দোয়া পাঠের উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে লোক শবে কদর থেকে বঞ্চিত হয় সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হল। রোজামুখে ফরজ, সুন্নাত, নফল আদায়, আল্লাহর জিকির, দরুদ-সালাম, মিলাদ-কিয়াম, দান-খয়রাত, উত্তম আচরণের মাধ্যমে রোজাদারের দিন কাটে। আস্তে আস্তে সূর্যটাও ফিরে যায় আপনালে। ক্রমেই বাড়তে থাকে আনন্দের মাত্রা। চলে মহাপুণ্যের ইফতার আয়োজন। ঘরে ঘরে খুশির জোয়ার। রোজা ছাড়াও আমরা সন্ধ্যাকালীন নাস্তা করি। কিন্তু তাতে এতো আনন্দ থাকে না। হয় না ইবাদতের খাতায় গণ্য। ইফতারের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বুখারী ও মুসলিম শরীফের রেওয়াত: স্বয়ং রাসুল (দ) বলেছেন, "রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের সময় রয়েছে : ১. ইফতারের সময় ২. মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।" ইসলামী পরিভাষায় সূর্যাস্তের পর খেজুর, পানি বা কোনো খাদ্যদ্রব্য ভক্ষণের মাধ্যমে রোজা ছেড়ে দেয়াকে ইফতার বলে। অদৃশ্য শক্তির আদেশ পালনার্থে ভীষণ ক্ষুধা-তৃষ্ণা থাকা সত্ত্বেও বনি আদম প্রহর গুনতে থাকে সূর্যাস্তের। এ সময় মহান আল্লাহ মানব জাতির ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাদের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করেন। রাসূল (দ.) বলেছেন, "ইফতার করার সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়ে থাকে।"  ইফতার করানোও মহাপুণ্যের কাজ। মাহে রমজান ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহানুভূতির শিক্ষার এক অন্যন্য পাঠশালা। এ মাসের কারণে মানুষ ক্ষুধা ও তৃষ্ণার জ্বালা বুঝতে পারে। এ জন্য এক মুমিনের হৃদয় ধাবিত হয় অন্য মুমিনের সুখ-দুঃখের খবর সন্ধানে। যার বাস্তব রূপ প্রকাশ পায় ইফতারের মাধ্যমে। প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে পরিতৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে আল্লাহ তাকে আমার 'হাউজে কাওছার' থেকে এমন ভাবে পানি পান করাবেন যার ফলে, সে জান্নাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। সুবহানাল্লাহ। উল্লেখিত ইবাদতমালা ছাড়াও একজন পরহেজগার আল্লাহর প্রিয় বান্দা সালাতুত তাসবিহ, সালাতুল ইশারাক, সালাতুল আওয়াবিল, সালাতুল হাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দয়া ভিক্ষা চায়। এ মাসে আত্মীয় স্বজনের খবরা-খবর নেওয়াও ইবাদত। একে অন্যের সাথে ইফতার শেয়ার করা সম্পর্কে আনে দৃঢ়তা। সামর্থ্যবানরা সহমর্মিতায় অসহায়ের পাশে দাঁড়ায়। কেউ কেউ লাইব্বাঈক আল্লাহুমা লাব্বাঈক সুর তোলে পাড়ি জমায় আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ শরীফে; ওমরাহ ও ইতেকাফের নিয়তে। এ মাসে ওমরাহ পালনে রয়েছে বিশেষ ফজিলত। নবীপ্রেমেসিক্ত হৃদয় ছুটে যায় ঈমানের বাড়ি সোনার মদিনায়। প্রকৃতপক্ষে ইলাহ, আবদ ও ইবাদত এ তিনি শব্দের পূর্ণ সমন্বয় ঘটে মাহে রমজানে। মহান আল্লাহর ঘোষণা: "আমি জিন ও মানবজাতিকে একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" মহান আল্লাহর এ আশার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে মাহে রমজানে। পবিত্র রমজান মাস বান্দাকে পাপরাশি থেকে মুক্ত করে প্রভুধ্যানে মগ্ন করে দেন। মুক্তির গ্যারান্টি মাহে রমজান। রোজাদারের নিষ্পাপ আত্মা আল্লাহর কাছে যা-ই চাই আল্লাহ তা পূরণ করেন। এ মাসের মতো ইবাদতের সুযোগ অন্য আর কোন মাসে থাকে না। এ মাস যেমন শ্রেষ্ঠ, এ মাসে যারা ইবাদত করে তাঁরাও শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন হন। পরম ভক্তি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মহা ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ঈমানদাররা। আত্মশুদ্ধি আর আত্মসংযমের রমজানকে বিদায় জানানোর সময় এসে যায়। হারানোর বেদনায় অশ্রুসিক্ত মুমিন আত্মা। উঠে শাওয়ালের চাঁদ। মুমিন প্রাণে বেজে উঠে কাজীদার সেই প্রেমের সুর- ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ। এসে যায় মহা খুশির ঈদ। আর এটাই মালিক কর্তৃক রোজাদারদের জন্য দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ প্রতিদান। অবশ্য আখেরাতে এর চেয়ে অধিক থেকে অধিকতর পুরস্কার জমা আছে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে মাহে রমজান ইবাদতে কাটানোর তৌফিক দান করুন। আমিন।

কবি ও প্রাবন্ধিক 
এম সাইফুল ইসলাম নেজামী 
খতিব- গাউসিয়া উসমানীয়া জামে মসজিদ, চট্টগ্রাম। 

মন্তব্য