বিশেষ খবর

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
Manarat University

পর্ব-১

ক্যান্টনমেন্ট থানা বিএনপির সভাপতি ভূমিদস্যু লিয়াকত সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় জমির প্রকৃত মালিকরা

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা বিএনপির সভাপতি কথিত প্রিন্সিপাল লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রিন্সিপাল না হয়েও নামের আগে প্রিন্সিপাল পদবী ব্যবহার করে নিজেকে অধিষ্ঠিত করতে চান সম্মানীয় স্থানে। তিনি নিজের জায়গায় নন-এমপিওভুক্ত একটি স্কুুল প্রতিষ্ঠা করে রাতারাতি বনে গেছেন প্রিন্সিপাল। আর এই কথিত প্রিন্সিপাল পদবী ধারণের আড়ালে রয়েছে এক ভূমিখোকো লিয়াকতের গল্প। এমনই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী নুরুল আমিন প্রামাণিক জানান, তাদের জমি হলেও অন্যদের দিয়ে মামলা করিয়ে দিনের পর দিন হয়রানি করছেন। যদিও প্রকাশ্যে কোথায়ও লিয়াকত নেই। কিন্তু পেছন থেকে নাটাই ঘোরাচ্ছেন লিয়াকত। প্রকাশ্যে সবাইকে বলছেন এই জমির প্রকৃত মালিক নুরুল আমিন প্রামাণিকরাই। কিন্তু ৫০ বছরের অধিককাল আগে যারা বিক্রি করে গেছেন, তাদের ওয়ারিশদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে দিনের পর দিন হয়রানি করেছেন। এমনকি তাদের সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছে। মামলায় আমাদের জয় হওয়ার পর লিয়াকত নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েই যাচ্ছেন।

নুরুল আমিন প্রামাণিক আরো জানান, আমরা অসহায় ৪৫ জন মানুষ দিনের পর দিন লিয়াকত সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি হয়ে আছি। তিনি আমাদের জমিতে যেতে হলে তাকে টাকা দিলে বুঝিয়ে দেবে বরে জানান। যদিও এখানে তার কোনো জায়গা নেই। তবুও বাধ্য হয়ে তাকে টাকা দিয়ে জমি বুঝে নিয়ে ৭০ লাখ টাকার মাটি ফেলি। পরবর্তীতে লিয়াকত গং আমাদের কাছে রাস্তার জন্য ২০ লাখ টাকা চাঁদা দারি করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে অন্য লোক দিয়ে আমাদের নামে মামলা করিয়ে দেন। দীর্ঘ ৮-১০ বছর একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। মামলায় আমাদের পক্ষে রায় হওয়ার পর এখন বলছেন সরকারি ৭৪ শতাংশ (কোড অব ওয়ার্টেস-এর) যে জায়গা রয়েছে, সেখানে নাকি আমাদের জমি!

লিয়াকত সম্পর্কে আরেক ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন জানান, আমাদের পূর্বপুরুষের জায়গা বাউন্ডারি দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। তার সাথে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগাযোগ আছে। আমাদের বলছে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান করবে। কিন্তু তাও না করে আমাদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকির ওপর রেখেছে। আমাদের এখন খুব সাবধানে চলাচল করতে হয়। নয়তো যে কোনো সময় আমাদের জীবনের ওপর হুমকি রয়েছে। তার ভয়ে মোবাইল পর্যন্ত বন্ধ করে রাখতে হয়।

তিনি আরো জানান, সন্ত্রাসী শাহআলম, মিজান, লিটন, মনির, কাজলসহ আরো অন্তত ১৫-২০ জনের একটি বিশাল সিন্ডিকেট দিয়ে সাধারণ মানুষের ভূমি জবরদখল করা বাহিনী রয়েছে তার। তাদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অন্যের জায়গায় বাউন্ডারি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা।

রাশেদুজ্জামান নামে কথিত এক লোককে দিয়ে ১.৮৭ কাঠার একটি দলিল প্রস্তুত করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন এই ভূমিদস্যু লিয়াকত। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ সেটি হচ্ছে আলাউদ্দিন গংয়ের সম্পত্তি নাসির উদ্দিন সবুজের মাধ্যমে স্থানীয় লোকদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে স্বাক্ষী বানিয়ে জাল দলিল করে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন এই ভূমিদস্যু লিয়াকত আলী।

আরো জানা যায়, স্থানীয় বিমানবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার কেনা এক দাগের জমি তাকে অন্য দাগে দিয়ে সরকারি প্রায় ৮ কাঠা জায়গা রাতের আঁধারে দখল করে নেন ভূমিদস্যু লিয়াকত।

জানা যায়, এই কথিত প্রিন্সিপাল লিয়াকত আলীর কোনো সম্পদ এখানে নেই। অথচ তিনি এখানে রামরাজত্ব কায়েম করছেন। গোপনে সখ্যতা রেখেছেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে, যাদের দিয়ে তিনি এখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন। সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতা ও প্রশাসনের সাথে সখ্যতা রেখে প্রিন্সিপাল লিয়াকত সাধারণ মানুষের সম্পদ দখল করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। লিয়াকতের সঙ্গে পল্লবী থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সখ্যতা রয়েছে, যাদের দিয়ে টাকার বিনিময়ে লিয়াকত গং নিরীহ মানুষের নামে সাজানো মামলা দিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানি করে যাচ্ছে। একাধিক মামলার আসামি লিয়াকত বিএনপির নেতা হয়েও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে দাপট দেখাচ্ছে, তা রীতিমতো প্রশ্নাতীত। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন- লিয়াকতের ক্ষমতার উৎস কোথায়?

কেউ প্রতিবাদ করলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালানো হয়, যে কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। ভদ্রতার মুখোশ পরে অন্ধকার জগতের বাসিন্দা এই কথিত প্রিন্সিপাল লিয়াকত বনে যান কোটি কোটি টাকার মালিক।

এ বিষয়ে জানার জন্য তার মোবাইলে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

মন্তব্য