সারা বাংলা

সকালের সময় 'কোভিড-১৯' আপডেট
# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ 707,362 597,214 10,081
বিশ্ব 139,771,067 118,808,535 3,001,702
Manarat University

শিকলবন্দি জীবন অবসানের প্রহর গুনছেন জহুরুল

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী গ্রামের অসহায় দিনমজুর জহুরুল ইসলাম (৭২) নামে এক ব্যক্তি তার শৈশব থেকে একজন মুসলিম পরহেজগার ও পাঞ্জেগামা নামাজি ছিলেন। কালের বিবর্তনে প্রায় দুই বছর যাবৎ শিকলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন আর প্রহর গুনছেন কবে অবসান ঘটবে তার শিকলবন্দি জীবনের।
 
সরেজমিন জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী গ্রামের এক সময়কার সুফি মুসলিম ও পরহেজগার পাঞ্জেগামা নামাজি ব্যক্তি ছিলেন জহুরুল ইসলাম। দুই বছর আগে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। ২ ছেলে, ৩ মেয়ে ও স্ত্রীসহ ৭ সদস্যের সংসার দিনমজুরির মাধ্যমে চলে আসছিল জহুরুলের। পরর্বতীতে পর্যায়ক্রমে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে সবাই বিয়ের পর অন্যত্র আলাদা সংসার পেতে বসবাস করছে।
 
প্রায় ৪ বছর আগে জহুরুলের স্ত্রী শরীফা বেগম প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে এক হাত ও ‍এক পা অচল হয়ে যায়। অভাব-অনাটনের সংসারে অর্থাভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হন জহুরুল। দুর্ভোগ আর দুচিন্তায় দিন আর কাটে না। বছর ঘুরে আসতে না আসতে জহুরুলের নিজেরও মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। শুরু হয় সীমাহীন দুর্ভোগ ও মানবেতর জীবনযাপন। এ অবস্থা দেখে নিরুপায় হয়ে পড়ে দিনমজুর ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম। সে একজন রাজমিস্ত্রি। ঠিকমতো দুবেলা খাবার জোটে না তার। অসচ্চল সংসারে অসুস্থ বাবা ও মাকে খাওয়া-পরানোর বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছে সে। অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ পাবে কোথায়?
 
অপরদিকে চিকিৎসা করতে না পারায় পাগল বাবাকে আটকানো ভীষণ দায় হয়ে পড়েছে। পাগল বাবা খোলা অবস্থায় একটু সুযোগ পেলেই অজানার উদ্দেশ্যে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে তাকে খু‍ঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। তাইতো দিনের বেলা বাবাকে গাছের সাথে ছিকল বেঁধে রাখা হয়। যেহেতু একটু খুলে দিলেই নিখো‍ঁজ হয়ে যায়। এর আগে একাধিকবার নিখোঁজ হয়েছিল। এমন অবস্তায় আর কতদিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে কে জানে? অবিশ্বাষ্য হলেও সত্য যে, এলাকায় অনেক অর্থ-সম্পদশালী ব্যক্তি থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো সম্পদশালী বা দানশীল ব্যক্তি কিংবা সরকারিভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে কেউ জহুরুলের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি। জহুরুলের পঙ্গু স্ত্রী শরীফা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বিষয়টি এ প্রতিনিধিকে জানাস। সমাজের দয়াবানদের সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো পরিবার।

মন্তব্য